নামহীন দোকানে কেজি ৫০০ টাকার প্যাড়া; দিনে ১২–১৫ কেজি বিক্রি, মাসে ৩০–৩৫ হাজার টাকা লাভ
চট্টগ্রামের রাউজানে এক কারিগর বাবার রেসিপিতে শুধু দুধ ও চিনি দিয়ে প্যাড়া বানান, সঙ্গে মাখন ও ঘি। সাইনবোর্ডহীন দোকান থেকে ক্রেতারা এসে নিয়ে যান, সংসার চালিয়েও মাসে কিছু সঞ্চয় হয়।
চট্টগ্রামের রাউজানের ফকিরহাটে একটি ছোট দোকানে একজন কারিগর বাবার শেখানো রেসিপিতে প্যাড়া বানান। দোকানের কোনো নাম বা সাইনবোর্ড নেই, তবু সবাই এটিকে চেনে প্যাড়ার দোকান হিসেবে। ১৯৮৬ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা তাঁকে প্যাড়া বানানো শেখান; কিছুদিন পরে বাবা মারা যান। পড়াশোনা আর দোকান একসঙ্গে সামলে ১৯৯০ সালে এসএসসি পাসের পর তিনি পুরোদমে ব্যবসায় নামেন। লাকড়ির চুলায় বড় ডেকচিতে ক্রমাগত নেড়ে শুধু দুধ আর চিনি দিয়ে প্যাড়া তৈরি হয়; ১২ কেজি দুধ ও আড়াই কেজি চিনিতে হয় ৪ কেজি ২৫০ গ্রাম প্যাড়া। কেজি ৫০০ টাকায় দিনে ১২ থেকে ১৫ কেজি বিক্রি হয়; কোথাও সরবরাহ করতে হয় না, ক্রেতারা এসে নিয়ে যান। এ ছাড়া মাখন কেজি ১,৮০০ টাকা ও ঘি কেজি ২,৮০০ টাকায় বিক্রি হয়; প্রতিদিন অন্তত দুই হাজার টাকার মাখন বিক্রি হয়, ঘি আগেই অর্ডার হয়ে যায়। বানানো থেকে বিক্রি—সবই একা করেন। প্রবাসীরা এই প্যাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে নিয়ে যান। সন্তানদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ মিটিয়েও মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকে বলে তিনি জানিয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.একটি পণ্যের স্বাদ ধরে রাখলে সাইনবোর্ড ছাড়াই ক্রেতা নিজে আসে; এখানে বাবার রেসিপি বদলানো হয়নি।
- ২.একই দুধ থেকে প্যাড়া, মাখন ও ঘি করলে আয়ের উৎস বাড়ে; ঘি আগে অর্ডার নিয়ে বানালে মজুতের ঝুঁকি থাকে না।
- ৩.ক্রেতা এসে নিয়ে গেলে সরবরাহ বা ডেলিভারির খরচ লাগে না, কিন্তু একা সব সামলালে উৎপাদন সীমিত থাকে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
