৫০ বছরের রসগোল্লার দোকান: ১০ টাকার মিষ্টি, দৈনিক দুধ ৩৫০ থেকে নেমে ১৫০–২০০ কেজি
ঝালকাঠির রাজাপুরে ৫০ বছরের পুরোনো একটি মিষ্টির দোকান নিজের কেনা দুধে ছানা বানিয়ে ১০–২০ টাকায় রসগোল্লা বিক্রি করে সুনাম ধরে রেখেছে। কিন্তু ক্রেতা ও ক্রয়ক্ষমতা কমায় দৈনিক দুধের ব্যবহার প্রায় অর্ধেকে নেমেছে এবং মালিকরা লাভ নিয়ে শঙ্কিত।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা শহরের একটি মিষ্টির দোকান ৫০ বছর ধরে চলছে। দোকানের কোনো সাইনবোর্ড নেই, একচালা পুরোনো টিনের ঘর, তবু আশপাশের এলাকার মানুষ রসগোল্লার জন্য এখানে আসেন। বাবা ১৯৯৮ সালে মারা যাওয়ার পর এখন বড় ছেলে মেজ ভাইকে নিয়ে ব্যবসা চালান। দোকানের বিশেষত্ব: স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে প্রতিদিন গরুর খাঁটি দুধ কিনে নিজেরাই ছানা বানান, সেই ছানা দিয়ে রসগোল্লা ও মালাই তৈরি করেন। ছানাও বিক্রি হয়। এক ক্রেতা বলেন, ভেজাল নেই বলেই চোখ বুজে খাওয়া যায়। রসগোল্লার দাম ১০, ১৫ ও ২০ টাকা। মালিকের ভাষ্য, মান ঠিক রেখে কম লাভে বিক্রি করেন, যাতে সব শ্রেণির মানুষ স্বাদ নিতে পারে। কারিগরদের একজন ৩৫ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। কিন্তু ব্যবসা চাপে আছে: বছরখানেক আগেও রোজ অন্তত ৩৫০ কেজি দুধে ছানা ও মিষ্টি বানানো হতো, এখন ক্রেতা কম বলে দৈনিক দেড় থেকে দুই শ কেজি দুধ লাগে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতা কমছে, দোকানও খুব লাভ দেখছে না। চিনি ও দুধের দাম আর কারিগরদের বেতন মিলিয়ে মাস শেষে হাঁপিয়ে ওঠেন তাঁরা। মালিক বলেন, কত দিন পারবেন জানেন না, কিন্তু টিকে থাকতে হবে।
যা শেখার আছে
- ১.নিজেরা দুধ কিনে ছানা বানালে মান ও সুনাম ধরে রাখা যায়, যা পুরোনো ক্রেতাদের বিশ্বাস ধরে রাখে।
- ২.১০ টাকার মতো কম দামে মিষ্টি বেচলে দুধ-চিনির দাম বাড়লে মার্জিন দ্রুত কমে; দাম ও খরচের হিসাব নিয়মিত মেলান।
- ৩.ক্রেতা কমলে দৈনিক দুধ ও কাঁচামালের পরিমাণ সেই অনুযায়ী কমান, নইলে অপচয় ও লোকসান বাড়ে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
