প্রবাসীর ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকার জমি নিজের নামে, বাতিল হলো দলিল লেখকের লাইসেন্স
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক দলিল লেখক ২০২১ সালে ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনা দেড় বিঘা জমি ক্রেতার নামে না করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন; তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার এই দলিল লেখককে দুবাইপ্রবাসী এক ব্যক্তির কেনা জমির রেজিস্ট্রেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ক্রেতা ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কহিত মৌজায় দেড় বিঘা কৃষিজমি ৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় কেনেন, কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী দলিল লেখক ক্রেতার বাবা-মায়ের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরিবার দীর্ঘদিন দলিলের জাবেদা নকল চেয়েও পায়নি; ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অন্য মাধ্যমে নকল সংগ্রহ করে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন, আর খাজনা-নামজারি করতে গিয়ে দেখেন দলিল অনুযায়ী জমির মালিক দলিল লেখক নিজেই। ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল ক্রেতার মা জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন, আর সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলার পর জেলা রেজিস্ট্রার তাঁর লাইসেন্স বাতিল করেন। জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু লাইসেন্স বাতিল করলেই হবে না, প্রকৃত মালিককে জমি ফিরিয়ে দিতে হবে। লাইসেন্স আর বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো একটা পেশা এখানে একটি দলিলেই শেষ হয়ে গেছে।
যা শেখার আছে
- ১.দলিল লেখকের ব্যবসা পুরোপুরি লাইসেন্স আর বিশ্বাসের ওপর দাঁড়ানো — একটি জালিয়াতি প্রমাণ হলেই পেশাটাই শেষ
- ২.দলিল সম্পাদনের পর জাবেদা নকল হাতে না পাওয়াই সতর্ক হওয়ার সময় — নকল আটকে রাখা জালিয়াতির চেনা কৌশল
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
