৬০ হাজার টাকা ঋণে রাস্তার ধারে চায়ের দোকান; শীতে বিক্রি কমলেও সপ্তাহে ৩,২০০ টাকা কিস্তি
জামালপুরের ইসলামপুরের এক নারী অসুস্থ হয়ে পোশাক কারখানার চাকরি ছেড়ে ঋণ নিয়ে বাড়ির সামনে চা-পানের দোকান দিয়েছেন। গ্রামের দোকানে বিক্রি কম, শীতে আরও কমে গেছে, অথচ কিস্তি চলছেই।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার এক নারী বিয়ের পর রিকশাচালক স্বামীর আয়ে সংসার চালাতেন। সন্তানদের পড়ার খরচ বাড়তে থাকলে তিনি পোশাক কারখানায় কাজ নেন, কিন্তু হঠাৎ জটিল রোগ ধরা পড়ায় চিকিৎসকেরা চাকরি ছাড়তে বলেন। গ্রামে ফিরে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে তিনি ছোট একটি ঘর তোলেন এবং স্বামীকে রিকশা কিনে দেন। পরে একজনের পরামর্শে আরও ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে চা, পান ও বিড়ি-সিগারেটের দোকান দেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি ভোরে দোকান খোলেন আর গভীর রাত পর্যন্ত বসেন; ছোট ছেলে মাঝে মাঝে দোকানে বসে। গ্রামের ভেতরের দোকান বলে বিক্রি বরাবরই কম। আগে ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা বিক্রি হতো, কিন্তু কুয়াশা আর কনকনে শীতে রাস্তায় লোক কমায় বিক্রি আরও পড়েছে। স্বামীও অসুস্থ বলে ঠান্ডায় ঠিকমতো রিকশা চালাতে পারেন না। এর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৩,২০০ টাকা কিস্তি দিতে হয়, জিনিসপত্রের দামও বেশি। টাকার অভাবে ছোট ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে পারেননি, তবু যেভাবে হোক তাকে পড়াতে চান। স্থানীয় তরুণেরা বলেন, তিনি ভালো চা বানান।
যা শেখার আছে
- ১.ঋণ নেওয়ার আগে সবচেয়ে মন্দা মৌসুমের বিক্রি ধরে কিস্তির হিসাব করুন; শীতে বিক্রি কমলেও সাপ্তাহিক কিস্তি কমে না।
- ২.গ্রামের ভেতরে, যেখানে পথচলতি মানুষ কম, সেখানে চায়ের বিক্রি সীমিত থাকে; দোকানের জায়গা বিক্রির বড় নির্ধারক।
- ৩.স্বামী-স্ত্রী দুজনের আয় একই মৌসুমে কমলে সংসার দ্রুত চাপে পড়ে; আয়ের উৎস আলাদা রাখা ঝুঁকি কমায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
