চিংড়ি ছেড়ে কাঁকড়ায়, ২ টাকার পোনা থেকে ডিসেম্বরের আশা
রোগে পোনা মরে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ১০০ শতাংশের ঘেরে কাঁকড়া। মে মাসে ২ টাকা দরে ছাড়া ১,৭০০ পোনা ডিসেম্বরে ৩৫০–৭০০ গ্রাম হবে বলে আশা করছেন, তখন দর থাকে কেজিতে ৫০০–১,২০০ টাকা।
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে নাফ নদের পারের এই চাষি প্রায় সাত বছর চিংড়ি চাষ করেছেন, তিন বছর হলো কাঁকড়ায় এসেছেন। কারণটা সোজা — তাঁর ভাষায়, "চিংড়ি চাষে ঝুঁকি বেশি"; রোগ লাগলে পোনা মরে পুরো ঘের এক দফাতেই শেষ হয়ে যায়। ১০০ শতাংশের ঘেরে তিনি মে মাসে ১,৭০০টি কাঁকড়ার পোনা ছেড়েছেন, কক্সবাজার শহরের কলাতলীর একটি হ্যাচারি থেকে প্রতিটি ২ টাকা দরে কেনা। পোনাগুলো প্রথম দুই সপ্তাহ ঘেরের এক কোণে জাল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়, ৫০–৬০ গ্রাম হলে খোলা পানিতে ছাড়া হয়। ডিসেম্বরে কাঁকড়া ৩৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম হবে বলে তিনি আশা করছেন, তখন বাজারদর থাকে কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ১,২০০ টাকা — এটা এখনো হাতে আসা আয় নয়, মৌসুম শেষের প্রত্যাশা। স্থানীয় চিংড়িচাষি সমিতির হিসাবে একজন কাঁকড়াচাষি মৌসুমে ৫০,০০০ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করেন; টেকনাফ-উখিয়া এলাকায় অন্তত ৭০০ একরে ৬০টির মতো ঘের আছে, আর জেলায় কাঁকড়াচাষির সংখ্যা ২০২০ সালের ৩,৪৬৬ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪,২৭০।
যা শেখার আছে
- ১.পোনা সরাসরি ঘেরে না ছেড়ে জাল দিয়ে ঘেরা কোণে ৫০–৬০ গ্রাম পর্যন্ত রাখলে বাঁচে — এই ধাপ বাদ দিলে পোনার টাকাটাই জলে যায়
- ২.রোগে বারবার চিংড়ির ঘের শেষ হলে একই পুকুরে কাঁকড়ায় যাওয়া যায় — নতুন জমি না কিনেই ঝুঁকিটা কমে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
