করোনাকালে খোলা ফেসবুক গ্রুপে আড়াই বছর ধরে তুলসীমালা চাল বিক্রি; চালকলে মণপ্রতি খরচ সাড়ে ৩ হাজার, বিক্রি ৩,৮০০
শেরপুর শহরের এক তরুণ উদ্যোক্তা ২০২০ সালের জুনে 'তুলসীমালা এক্সপ্রেস' নামে ফেসবুক গ্রুপ খুলে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে বিভিন্ন জেলায় তুলসীমালা চাল পাঠাচ্ছেন। একই প্রতিবেদনে জেলার চালকলগুলোর মণপ্রতি খরচ ও বিক্রির দামও উঠে এসেছে।
শেরপুর শহরের নবীনগর এলাকার এক তরুণ ২০২০ সালের জুনে, করোনাকালে, 'তুলসীমালা এক্সপ্রেস' নামে ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ খোলেন। প্রথম আলোর ডিসেম্বর ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর আড়াই বছর ধরে তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্রেতার কাছে তুলসীমালা চাল পৌঁছে দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, জেলা প্রশাসন পর্যটন আর তুলসীমালা ধানকে শেরপুরের ব্র্যান্ডিং হিসেবে ঠিক করে ব্যাপক প্রচার শুরু করলে তাঁরাও সেই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেন। প্রতিবেদনে এই চালের ব্যবসার হিসাবও আছে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা সাধারণত প্রতি মণ ধান ২,০০০ টাকায় বিক্রি করেন; ৬৮ কেজি ধানে এক মণ চাল হয়, ফলে এক মণ চালের উৎপাদন খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। চালকল থেকে প্রতি মণ চাল বিক্রি হয় ৩,৮০০ টাকায়; আগের মৌসুমের শেষ দিকে দুই-তিন মাস ধরে দাম উঠেছিল ৪,৪০০ থেকে ৪,৫০০ টাকায়। জেলার প্রায় অর্ধশত স্বয়ংক্রিয় চালকলে এই চাল তৈরি হয়, আর চালকলমালিকেরা ময়মনসিংহের দুর্গাপুর, গৌরীপুর, ফুলপুর ও হালুয়াঘাটের হাট থেকেও সুগন্ধি ধান কেনেন। জেলায় বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার তুলসীমালা চাল বেচাকেনা হয়; নতুন চাল বাজারে আসে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মূল্য সংযোজন ও বাজার সংযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে চাল বিপণনে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়; জেলা প্রশাসন তখন চালটিকে জিআই পণ্য করার চেষ্টা করছিল।
যা শেখার আছে
- ১.জেলার পরিচিত পণ্য হলে সরকারি ব্র্যান্ডিং প্রচারের সঙ্গে মিলিয়ে অনলাইনে বিক্রি শুরু করা যায়; ফেসবুক গ্রুপ দিয়েই অন্য জেলার ক্রেতা পাওয়া সম্ভব।
- ২.ধান থেকে চালে মণপ্রতি লাভের ফাঁক কম (খরচ প্রায় ৩,৫০০, বিক্রি ৩,৮০০ টাকা); মৌসুমের শেষ দিকে দাম বাড়ে, তাই মজুত ও সময় বুঝে বিক্রি জরুরি।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
