২০ শতকে ২ মণ বীজ থেকে ৩০ একরে পেঁয়াজবীজ চাষ; ২০০ মণ ঘরে তুলেও চাহিদা মেটে না
ফরিদপুরের নগরকান্দার এক গৃহিণী ২০০৪ সালে শখের বশে ২০ শতক জমিতে পেঁয়াজবীজ চাষ শুরু করেন। প্রায় ১৮-১৯ বছরে তিনি নিজস্ব বীজ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়েছেন এবং চলতি মৌসুমে ৩০ একরে চাষ করছেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার এক গৃহিণী কৃষক পরিবারের বউ হিসেবে কৃষিকাজ চিনতেন। পেঁয়াজবীজের ধারণা পান শ্বশুরের কাছ থেকে, যিনি ছোট আকারে বীজ ফলাতেন। ২০০৪ সালে শখের বশে ২০ শতক জমিতে পেঁয়াজ লাগান। সেই বছর দুই মণ বীজ হয়, বিক্রি করে পান ৮০ হাজার টাকা। পরের বছর জমি বাড়ালে ১৩ মণ, তার পরের বছর ৩২ মণ বীজ ওঠে। গত বছর ১৫ একর আর চলতি বছর ৩০ একর জমিতে বীজের চাষ করেন; ঘরে তুলেছিলেন ২০০ মণ বীজ। গত মৌসুমে বীজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫-৬ হাজার টাকা দরে, আর তিনি বিক্রি করেছেন শতাধিক মণ। তবু চাহিদা মেটাতে পারেন না। ব্যবসায়ী, কৃষক ও কোম্পানি বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ নিতে আসে। চাষের খরচের মধ্যে আছে কীটনাশক, সার ও সেচ, আর মৌসুমে পেঁয়াজের বাল্বের দাম অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি বা ঝড়বৃষ্টি হলে বীজ নষ্ট হয়ে যায়। মাঠে বীজ ফলানোর পাশাপাশি তিনি নিজেই কারখানা গড়ে বীজ প্যাকেটজাত ও সরবরাহ করেন; ‘খান সিডস’ নামে বীজ পরিচিত। নিয়মিত প্রায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন, মৌসুমে আরও বাড়ে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্যে, দেশের পেঁয়াজবীজের চাহিদার ৬০-৭০ ভাগ আসে ফরিদপুর থেকে।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট জমি আর অল্প বীজ দিয়ে শুরু করে প্রতি বছর ধাপে ধাপে জমি বাড়ানো যায়; ২০ শতক থেকে ৩০ একর পর্যন্ত গেছে এই চাষি।
- ২.নিজে প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেটজাত করে নিজের ব্র্যান্ডে বিক্রি করলে ক্রেতার আস্থা তৈরি হয় এবং চাহিদা টেকে।
- ৩.কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়-বৃষ্টিতে বীজ নষ্ট হতে পারে; আবহাওয়ার ঝুঁকি ধরে রেখে খরচ ও জমির পরিমাণ ঠিক করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
