১২ বিঘায় পেঁয়াজ বীজ: খরচ ৫–৭ লাখ, বীজের বাজারমূল্য ২৮–৩৬ লাখ টাকা
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর এক কৃষক ২০০৩ সালে ১৬ শতাংশ জমিতে বীজ চাষ শুরু করে এখন প্রায় ২০ বিঘায় চাষ করেন, যার ১২ বিঘায় পেঁয়াজ বীজ। তাঁর হিসাবে খরচ বাদে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা থাকে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের এক কৃষক (৪০) ২০০৩ সালে নিজের উদ্যোগে মাত্র ১৬ শতাংশ জমিতে মসলা জাতীয় ফসল ও বীজ উৎপাদন শুরু করেন। এখন তিনি প্রায় ২০ বিঘায় চাষ করেন, তার মধ্যে ১২ বিঘায় পেঁয়াজ বীজ। জমির ইজারা, বীজ, কীটনাশক ও পরিচর্যায় প্রতি বিঘায় খরচ ৪০–৫৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় আড়াই থেকে ৩ মণ বীজ হয়, আর প্রতি মণ বীজ বিক্রি হয় প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায়; অর্থাৎ বিঘাপ্রতি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার বীজ মেলে। ১২ বিঘায় মোট ৩০–৩৬ মণ বীজ হয়, বাজারমূল্য ২৮–৩৬ লাখ টাকা, আর খরচ ৫–৭ লাখ টাকা। তাঁর নিজের হিসাবে বছরে খরচ বাদে প্রায় ২৫ লাখ টাকা থাকে। উৎপাদন ও মান ধরে রাখতে তিনি সেচ দেন এবং মৌবাক্স বসিয়ে পেঁয়াজ ফুলের পরাগায়ন নিশ্চিত করেন। চাষিরা দামি এই বীজকে কালো সোনাও বলেন। তিনি জানান, বীজ উৎপাদনে খরচ কম, লাভ বেশি, আর উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পান। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দেখাদেখি এখন অনেক কৃষক বীজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট জমিতে শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়ানো যায়: ১৬ শতাংশ থেকে ২০ বছরে প্রায় ২০ বিঘা।
- ২.সেচ ও মৌবাক্সে পরাগায়ন নিশ্চিত করলে বীজের ফলন ও মান ধরে রাখা যায়।
- ৩.বিঘাপ্রতি খরচ ও মণপ্রতি দাম লিখে রাখুন; এই হিসাবেই ৫–৭ লাখ খরচে ২৮–৩৬ লাখের বীজ পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা কাজে লাগান।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
