২ চেম্বার থেকে ৭০ চেম্বার: মাসে ছয় টন কেঁচো সার, খামার থেকে বছরে খরচ বাদে প্রায় ২০ লাখ টাকা
ভোলার এক প্রকৌশলী করোনার সময় চাকরি ছেড়ে খামার শুরু করেন। কেঁচো সার, দুধ ও মাংস মিলিয়ে বছরে খরচ বাদে তাঁর আয় প্রায় ২০ লাখ টাকা।
ভোলা সদরের ধনিয়া ইউনিয়নের ছোট আলগী গ্রামের এক তরুণ ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বেসরকারি চাকরি করতেন। ২০১৯ সালে পারিবারিক জমিতে ১০টি ছাগল দিয়ে খামার শুরু করেন। করোনার সময় চাকরি ছেড়ে ফিরে একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় ১২টি গরু মোটাতাজা করেন, পরের বছর চারটি বিদেশি জাতের দুধের গরু কেনেন। ২০২১ সালে কেঁচো সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেন। দুটি চেম্বার দিয়ে শুরু করে এখন ৭০টি চেম্বারে সার উৎপাদন করছেন। খামারের গোবর, পচা ঘাস, লতাপাতা ও সবজির উচ্ছিষ্ট দিয়ে মাসে ছয় টন সার হয়, আরও ১০ জন চুক্তিভিত্তিক চাষির কাছ থেকে পান মাসে পাঁচ টন। ১, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ কেজির প্যাকেটে সার বিক্রি হয়: পাইকারি কেজিপ্রতি ১৩ থেকে ১৫ টাকা, খুচরা ২০ টাকা। খরচ বাদে সার থেকে মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আর চার গরুর দুধ থেকে ৬০–৭০ হাজার টাকা আয় হয়। তিনজন স্থায়ী শ্রমিকের বেতন মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা; মাসে মোট খরচ ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। সার, দুধ ও মাংস মিলিয়ে বছরে খরচ বাদে আয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। সারে মৃত্তিকা ও বিএসটিআইয়ের সনদ আছে, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকেও অর্ডার আসে।
যা শেখার আছে
- ১.নিজের পশুর গোবর ও খামারের বর্জ্য থেকেই কেঁচো সারের কাঁচামাল আসে, তাই পশুর খামারের সঙ্গে জুড়লে খরচ কমে।
- ২.দুই চেম্বার থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ৭০টি করা হয়েছে; ছোট থেকে শুরু করে বাড়ানোই ছিল পথ।
- ৩.সনদ ও চুক্তিভিত্তিক চাষির সরবরাহ থাকলে বড় অর্ডারের আস্থা ও জোগান দুটিই মেলে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
