মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

কেঁচো সার উৎপাদন

গোয়ালঘরের পাশে গোবর আর কেঁচো দিয়ে সার তৈরি। সার ৳১০–১৩ কেজি, খরচ ৳৬–৭; কিন্তু আসল আয় কেঁচো বিক্রিতে — কেজি ৳২,০০০।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
কেঁচো সার উৎপাদন — প্রতীকী ছবি, AI দিয়ে তৈরি; বাস্তব কোনো দোকান বা খামার নয়

কেঁচো সার উৎপাদন — প্রতীকী ছবি, AI দিয়ে তৈরি; বাস্তব কোনো দোকান বা খামার নয়

শুরুর পুঁজি
৳৫,০০০ – ৳৬০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম বিক্রি
৩০ – ৫০ দিন
বাজারদর
খরচ উঠতে
৩.৫ – ১০ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

গোবর আর কেঁচো — এই দুটো জিনিস দিয়েই কেঁচো সার তৈরি হয়। গরুর গোয়ালঘরের পাশে সিমেন্টের রিং বা মাটির চাড়িতে গোবর ঢেলে তাতে কেঁচো ছাড়া হয়। কেঁচো গোবর খেয়ে যে মল ফেলে, সেটাই সার। এক মাস থেকে দেড় মাসে এক চাড়ি সার তৈরি হয়ে যায়। রংপুরের তারাগঞ্জের মাইদুল ইসলাম ২০টি সিমেন্টের রিং দিয়ে শুরু করেছিলেন; প্রথম মাসেই প্রায় ১,০০০ কেজি সার পান। তাঁর হিসাবে প্রতি কেজি সার বানাতে খরচ গড়ে ৳৬, আর বিক্রি হয় ৳১৩ কেজি দরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মুর্শেদা বেগম মাসে প্রায় ৩০০ কেজি সার ৳১০ কেজি দরে বেচেন। কিন্তু আসল টাকাটা সারে নয় — কেঁচোয়। তিনি মাসে ৮–১০ কেজি কেঁচোও বিক্রি করেন, প্রতি কেজি ৳২,০০০। তাতেই তাঁর মাসিক আয় ৳১৮,০০০–২০,০০০ দাঁড়ায়। সার থেকে আসে মাত্র তিন হাজার টাকা। এই কথাটা শুরুতেই বুঝে নেওয়া দরকার: যে খামারি নতুন লোককে কেঁচো বেচতে পারে, সে লাভ করে; যে শুধু সার বেচে, তার আয় ছোট। খরচ প্রায় নেই বললেই চলে। নিজের গরু থাকলে গোবর ফ্রি, তখন কেজিপ্রতি খরচ ৳৪-এ নেমে আসে। উপজেলা কৃষি অফিস প্রশিক্ষণ দেয় আর উপকরণ দিয়ে সাহায্য করে — নবীনগর ও কুড়িগ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই কাজ করছে। ঝুঁকি একটাই আর সেটা বড়: এলাকায় একসঙ্গে অনেকে সার বানালে বিক্রির জায়গা থাকে না। রংপুর অঞ্চলে বছরে ৭৫ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে ৫৫ হাজার টন উৎপাদন হচ্ছিল, তাই এখনো জায়গা আছে — কিন্তু গ্রাম ধরে ধরে হিসাব করে নামা দরকার।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳২,০০০ – ৳৭,৫০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳১০ – ৳১৩ / কেজিবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৬ – ৳৭ / কেজিবাজারদর
মোট লাভের হার৩০% – ৫৪%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৩০ – ৫০ দিনবাজারদর
খরচ উঠে আসার সময়৩.৫ – ১০ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র৩৫ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১২%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৩০ – ৩৫সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • সিমেন্টের রিং বা মাটির চাড়ি, চালুনি, ঝাঁঝরি, বেলচা আর পানি ছিটানোর ব্যবস্থা। ইটের বেড দিয়েও শুরু করা যায়।যন্ত্রপাতি
  • কেঁচো — কুড়িগ্রামে কেজি ৳২,০০০–২,৫০০ (১৪ জুন ২০২৬)। এক কেজি কেঁচো পাঁচ-ছয় মণ গোবর প্রক্রিয়া করতে পারে।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। বাড়িতে অল্প পরিসরে করলে অনেকেই নেন না, কিন্তু বস্তায় নাম-ঠিকানা দিয়ে বাজারে বেচতে গেলে লাগে।লাইসেন্স
  • গোবর কতটা পচলে কেঁচো ছাড়তে হয় আর বেড কতটা ভেজা রাখতে হয় — এই দুটোই শিখতে হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণে শেখানো হয়।দক্ষতা
  • নিয়মিত গোবরের উৎস। নিজের গরু থাকলে খরচ কেজিতে ৳৪-এ নেমে আসে; কিনতে হলে খরচ বেড়ে যায়।সরবরাহকারী
  • গোয়ালঘরের পাশে ছায়াযুক্ত ও চালা দেওয়া জায়গা, যেখানে সরাসরি রোদ-বৃষ্টি পড়ে না আর পানি জমে না।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1গোয়ালঘরের পাশে ছায়াযুক্ত একটু জায়গা বেছে নিন। রোদ-বৃষ্টি সরাসরি লাগলে কেঁচো মরে যায়, তাই উপরে চালা দিতে হবে।
  2. 2উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে প্রশিক্ষণের কথা বলুন। নবীনগর ও কুড়িগ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ আর কিছু উপকরণ দেয়।
  3. 3সিমেন্টের রিং বা মাটির চাড়ি জোগাড় করুন। কম টাকায় শুরু করতে চাইলে ইট দিয়ে ঘেরা বেড বানিয়েও কাজ চলে।
  4. 4চেনা খামারির কাছ থেকে কেঁচো কিনুন। কুড়িগ্রামে দর ছিল কেজি ৳২,০০০–২,৫০০, আর এক কেজি কেঁচো পাঁচ-ছয় মণ গোবর খেয়ে ফেলতে পারে।
  5. 5রিংয়ে পচা গোবর ভরে কেঁচো ছাড়ুন। গোবর টাটকা হলে গরম থাকে, কেঁচো মরে — তাই কয়েক দিন পচিয়ে নিতে হয়।
  6. 6নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ভেজা ভাব রাখুন, কিন্তু কাদা করে ফেলবেন না। শুকিয়ে গেলে কেঁচো নিচে নেমে যায়, কাজ বন্ধ।
  7. 7৩০–৫০ দিন পর সার চেলে আলাদা করুন, আর কেঁচো ও ডিম আলাদা করে পরের চাড়িতে দিন।
  8. 8শুকিয়ে বস্তায় ভরুন। বস্তার গায়ে ওজন লিখে রাখলে খুচরা ক্রেতা বিশ্বাস করে।
  9. 9আগে থেকেই ক্রেতা ঠিক করুন — আশপাশের সবজিচাষি, নার্সারি আর স্থানীয় সারের দোকান। সার বানানোর চেয়ে বেচা কঠিন।
  10. 10কেঁচোও আলাদা করে বিক্রি করুন। নতুন যাঁরা খামার করতে চান তাঁরাই এই কেঁচো কেনেন, আর এখানেই টাকাটা বেশি।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনবেশি
  7. জুলাইবেশি
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোবেশি
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীব্রাহ্মণবাড়িয়া · নবীনগর কৃষি অফিস প্রশিক্ষণ ও উপকরণ দেয়; সেখানকার খামারি মাসে ৩০০ কেজি সার আর ৮–১০ কেজি কেঁচো বেচেন।
  • খুব উপযোগীকুড়িগ্রাম · রাজারহাটে বাণিজ্যিক খামার আছে, কেঁচো কেনা যায়, আর চিলমারীতেই প্রায় ৬০০ প্রান্তিক কৃষক এই কাজ করেন।
  • খুব উপযোগীলালমনিরহাট · তিন সপ্তাহে ৪০০ কেজি পর্যন্ত উৎপাদন করা খামারি আছেন; রংপুর অঞ্চলের ব্যাপারীরা এখান থেকেই কেনেন।
  • খুব উপযোগীরংপুর · তারাগঞ্জে ২০ রিং থেকে শুরু করা খামারি এখন মাসে ৭–৮ টন সার বানান; গরু বেশি বলে গোবরের অভাব নেই।
  • সম্ভবদিনাজপুর · ধান ও সবজির এলাকা, গরুও আছে — সারের ক্রেতা কাছেই।
  • সম্ভবগাইবান্ধা · রংপুর অঞ্চলের ভেতরে, ব্যাপারীর নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে আছে।
  • সম্ভবনীলফামারী · গরু পালন বেশি, তাই গোবর সস্তা; সবজির খেতে জৈব সারের চাহিদা আছে।
  • সম্ভবপাবনা · গরুর খামার ও সবজি দুটোই আছে, ঢাকার নার্সারিতেও পাঠানো যায়।
  • সম্ভবসিরাজগঞ্জ · দুধের খামার অনেক, গোবর প্রচুর — কিন্তু সারের বাজার এখনো ছোট।
  • সম্ভবঠাকুরগাঁও · উত্তরের জেলা, প্রান্তিক কৃষকের সংখ্যা বেশি আর কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ চলছে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: একই গ্রামে অনেকে একসঙ্গে সার বানালে বিক্রি আটকে যায়। রংপুর অঞ্চলে পাঁচ জেলায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক এই কাজে নেমেছেন, চিলমারী উপজেলাতেই প্রায় ৬০০ জন। চাহিদা ছিল বছরে ৭৫ হাজার টন আর উৎপাদন ৫৫ হাজার টন — জায়গা আছে ঠিকই, কিন্তু সেটা দ্রুত ভরে যাচ্ছে। সার বানানো সহজ, বেচা কঠিন।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: আয়ের বড় অংশ আসে কেঁচো বিক্রি থেকে, সার থেকে নয়। নবীনগরের খামারির মাসিক ৳১৮,০০০–২০,০০০ আয়ের মধ্যে ৩০০ কেজি সার থেকে আসে মাত্র ৳৩,০০০, বাকিটা ৮–১০ কেজি কেঁচো থেকে। নতুন খামারি আসা বন্ধ হলে কেঁচোর ক্রেতাও থাকে না, তখন আয় পাঁচ ভাগের এক ভাগে নেমে আসতে পারে।
  • মাঝারিনষ্ট হওয়া: বেড শুকিয়ে গেলে বা টানা পানি জমে থাকলে কেঁচো মরে যায়। টাটকা গরম গোবর সরাসরি দিলেও মরে। এক কেজি কেঁচোর দাম ৳২,০০০–২,৫০০, তাই একটা বেড নষ্ট হওয়া মানে কয়েক হাজার টাকার ক্ষতি আর দেড় মাস পিছিয়ে যাওয়া।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: টাকা আটকে থাকে দেড় মাস। গোবর কিনে, কেঁচো কিনে বসে থাকতে হয়, প্রথম সার হাতে আসার আগে কোনো আয় নেই। আর সার বিক্রি হয় ফসল বোনার মৌসুমে — বছরের সব মাসে সমান নয়।

সূত্র

    কী বদলেছে

    এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

    প্রশ্নোত্তর

    এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

    এই ব্যবসার গল্প

    যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে সাতক্ষীরার তালার একজন কেঁচো সার উৎপাদক

    ৩টি পরীক্ষামূলক বেড থেকে ৩০০ বেড, প্রতি চক্রে আয় আড়াই লাখ

    ২০১৪ সালে ২০,০০০ টাকায় ৩টি পরীক্ষামূলক বেড দিয়ে শুরু। এখন ৪ বিঘায় ৩০০ বেড, দেড় মাসে প্রায় ২০ টন সার, প্রতি চক্রে আয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা আর লাভ ৫০ হাজারের বেশি।

    পুঁজি
    ৳২০ হাজার
    কারণ
    চলতি মূলধন, চাহিদা কম

    একই রকম আরও ব্যবসা

    কৃষি ও খামার

    সরিষা চাষ

    আমন কাটার পর আর বোরো লাগানোর আগে — মাঝের ৮০-৯০ দিনের ফসল। আগস্ট ২০২৬-এ সরিষার পাইকারি জাতীয় গড় ৳৯১.২৭ কেজি (মণে প্রায় ৳৩,৬৫১), আর সরকারি প্রণোদনায় বিঘাপ্রতি উপকরণ দেওয়া হয় ৳৫৫০.৫০ মূল্যের।

    পুঁজি
    ৳৫ হাজার – ৳৫০ হাজার
    জনবল
    ১ – ৪ জন
    প্রথম আয়
    ৭৫ – ১১০ দিন
    সম্পাদকীয় অনুমান
    কৃষি ও খামার

    ছাদকৃষি ও নার্সারি

    ছাদে টবে গাছ তুলে চারা বিক্রি। ছোট চারা ৳৫০, দামি ক্যাকটাস-ফার্ন ৳১,২০০–৫,০০০। গাছের চেয়ে টব-মাটি-সারেই বেশি টাকা — ৫০ টাকার গাছে ১৫০ টাকার জিনিস লাগে।

    পুঁজি
    ৳৫ হাজার – ৳৮০ হাজার
    জনবল
    ১ – ২ জন
    প্রথম আয়
    ৬০ – ১৮০ দিন
    সম্পাদকীয় অনুমান
    কৃষি ও খামার

    হাইড্রোপনিক চাষ

    মাটি ছাড়া পানিতে সবজি চাষ। ঢাকায় একটি ছাদের অবকাঠামোতেই খরচ হয়েছিল প্রায় ৳২,০০,০০০, আর ঢাকার বাইরে এখনো বাণিজ্যিক ক্রেতা প্রায় নেই।

    পুঁজি
    ৳৪ হাজার – ৳২ লাখ
    জনবল
    ১ – ৩ জন
    প্রথম আয়
    ৪৫ – ১২০ দিন
    সম্পাদকীয় অনুমান
    কৃষি ও খামার

    গম চাষ

    অগ্রহায়ণে বুনে চৈত্রে কাটা এক মৌসুমের ফসল। ২০২৫ সালে সরকার কৃষকের কাছ থেকে গম কিনেছে কেজি ৳৩৬ দরে, আর এক বিঘার খরচ ছিল ৳৬,০০০–৭,০০০।

    পুঁজি
    ৳৬ হাজার – ৳৩৫ হাজার
    জনবল
    ১ – ৪ জন
    প্রথম আয়
    ১০৮ – ১৮০ দিন
    সম্পাদকীয় অনুমান