২৫০ গ্রাম কেঁচো থেকে ৪টি চেম্বার: দেড় মাসে ৫০০ কেজি সার, কেজি ১২ টাকা
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার সুখছড়ি গ্রামের এক নারী ২০১৭ সালে কৃষি অফিসের দেওয়া ২৫০ গ্রাম কেঁচো দিয়ে কেঁচো সার শুরু করেন। দুটি গরুর গোবরে এখন তিনি দেড় মাসে ৫০০ কেজি সার বানান, নিজের বাগানে লাগিয়ে বাকিটা বেচেন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ি গ্রামের এক নারী ২০১৭ সালে ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে কেঁচো সার তৈরি শুরু করেন। কৃষি কার্যালয় থেকে তাঁকে ২৫০ গ্রাম কেঁচো দেওয়া হয়েছিল। এখন তাঁর কাছে পাঁচ কেজি কেঁচো আছে। বাড়িতে পালা দুটি গরুর গোবর থেকে প্রতি দেড় মাসে ৫০০ কেজি সার তৈরি হয়। সারের চেম্বার এখন চারটি। নিজেদের দুটি মিশ্র সবজি ও ফলের বাগানে ব্যবহারের পর বাড়তি সার তিনি বিক্রি করেন। পাঁচ সদস্যের পরিবারে একসময় টানাপোড়েন ছিল; এখন তিনি নিজেকে সচ্ছল বলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামের একেকজন কৃষকের দুটি থেকে পাঁচটি চেম্বার আছে এবং ৪৫ দিন পরপর ৮০ থেকে ৫০০ কেজি সার হয়। সার বিক্রি হয় কেজি ১২ টাকায়, আর কেঁচো বিক্রি করলে কেজিতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মেলে। গ্রামের আরেক কৃষক সার ও কেঁচো বেচে বছরে ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। কেঁচো কৃষি কার্যালয় বিনা মূল্যে দেয়, বসতবাড়ির ছোট জায়গায় চেম্বার বসে, তাই বাড়তি খরচ লাগে না। সুখছড়িতে এখন প্রায় ৫০ জন, বেশির ভাগ নারী, এই সার বানান, আর ২০২০ সালে গ্রামটিকে ভার্মি কম্পোস্ট গ্রাম ঘোষণা করা হয়।
যা শেখার আছে
- ১.বাড়িতে গরুর গোবর থাকলে কেঁচো সারে বাড়তি খরচ প্রায় নেই; কৃষি অফিস থেকে কেঁচো বিনা মূল্যে পাওয়া যায়।
- ২.সার ছাড়াও কেঁচো নিজেই বিক্রি করা যায়; কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
- ৩.নিজের বাগানে ব্যবহার করে বাড়তিটা বেচলে ঝুঁকি কম থাকে; গ্রামে অনেকে মিলে করলে বাজার ও পরামর্শ সহজ হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
