মোটরসাইকেলে ওষুধ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ২৬ বছর, কৃষি ক্লিনিকে জৈব সার বেচে মাসে ৪০–৫০ হাজার
দিনাজপুরের এক নবম শ্রেণি পাস কৃষি ও পশুসেবা উদ্যোক্তা তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে পশুচিকিৎসা শুরু করেছিলেন। এখন নিজের বাড়িতে ক্লিনিক, ওষুধের দোকান ও জৈব সার তৈরির কাজ চালান।
দিনাজপুর সদরের সুন্দরবন গ্রামের ৪৯ বছর বয়সী এক উদ্যোক্তা নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। ১৯৯৫ সালে তিনি বাড়ির পাশে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের দোকানে কাজ নেন, কৃষকদের সমস্যা শুনে কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে জেনে পরামর্শ দিতেন। ১৯৯৯ সালে দোকান বন্ধ হলে ঠাকুরগাঁও যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়ে এলাকায় পশুচিকিৎসা শুরু করেন। মোটরসাইকেলে ওষুধ ও সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিদিন বের হন, ওষুধের দাম নেন, খুশি হয়ে অনেকে পারিশ্রমিকও দেন। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সমন্বিত কৃষি ক্লিনিক’; সঙ্গে চালান একটি কৃষি বিতান ও বীজ খামার এবং একটি প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য ওষুধের দোকান। বাড়ির কাছে চার হাজার বর্গফুটে কেঁচো সার বানান। ট্রাইকো কম্পোস্ট কেজিপ্রতি ১২ টাকা, ভার্মি কম্পোস্ট ১৫ টাকা, অণুজীব সার ড্রামপ্রতি ৯০০–১০০০ টাকায় বিক্রি করেন। সার বিক্রি থেকে মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়। এখন ৮–১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি বলেন, শুরুতে লোকে পাগল বলত, কেউ তাঁর সার কিনত না; এখন অনেকে আগাম অর্ডার দেন।
যা শেখার আছে
- ১.সার ও বালাইনাশকের দোকানে কাজ করে এবং সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়েই এই পথের শুরু; অভিজ্ঞতা আর প্রশিক্ষণ মিলিয়ে ধাপে ধাপে বড় হওয়া যায়।
- ২.পরামর্শ ও চিকিৎসার সঙ্গে ওষুধ বিক্রি এবং জৈব সার তৈরি যোগ করলে আয়ের একাধিক উৎস দাঁড়ায়।
- ৩.নতুন পণ্যে আস্থা তৈরি হতে সময় লাগে; প্রথম দিকে কেউ কিনত না, বছর পার হওয়ার পর আগাম অর্ডার আসছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
