কম্পিউটার এমব্রয়ডারি কারখানা
মেশিনে কাপড়ের উপর সুতার নকশা বসিয়ে অন্যের জন্য কাজ করে দেওয়া। টুপির কারখানা, বুটিক ও শাড়ির কুঠিই খদ্দের। হাতে যে কারচুপিতে ১৫ দিন লাগে, মেশিন তা ঘণ্টায় করে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

কম্পিউটার এমব্রয়ডারি কারখানা
- শুরুর পুঁজি
- ৳৩,০০,০০০ – ৳১২,০০,০০০ বাজারদর
- জনবল
- ২ – ৩০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ – ৯০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৫.৫ – ১১ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
কম্পিউটারে নকশা বানিয়ে মেশিনে কাপড়ের উপর সুতার কাজ বসানো — এটাই কম্পিউটার এমব্রয়ডারির কারখানা। এখানে নিজের পোশাক বিক্রি হয় না; কাজ আসে অন্যের কাছ থেকে। খদ্দের হলো টুপির কারখানা, বুটিক, দরজির দোকান, বেনারসি ও শাড়ির কুঠি আর ছোট গার্মেন্টস। কত টাকার কাজ, তা বোঝা যায় দুটো জায়গা দেখলে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জের টুপির কারখানা থেকে ১০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে এমব্রয়ডারি করা প্রতিটি নকশি টুপি পাইকারি বিক্রেতার কাছে যেত ৳৩০ দরে, আর খুচরা বাজারে সেই টুপিই ৳৮০–১০০ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হতো। আর মিরপুরের বেনারসি পল্লিতে ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে কারচুপি-স্টোন ও সুতার কাজ করা শাড়ি-লেহেঙ্গার পাইকারি দাম ছিল ৳১,৩০০ থেকে ৳৫,০০০ — কাজের ধরন অনুযায়ী। সেখানকার একজন কারখানা মালিকের কথায়, 'আমরা ফেব্রিক্স আনি, তারপর সেটায় বিভিন্ন ডিজাইন বসাই। এখান থেকেই বড় বড় শোরুমে শাড়ি যায়।' মেশিন কেন লাগে, তা বোঝা যায় হাতের কাজের হিসাব দেখলে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে ৩০ হাজার নারী হাতে কারচুপির কাজ করতেন। একটি শাড়িতে চুমকি-পুঁতি-জরির কাজ শেষ করতে লাগত অন্তত ১৫ দিন, আর মজুরি মিলত শাড়িপ্রতি ৳৭০০–৮০০; মাসে আয় ৳৩,০০০–৩,৫০০। যে কাজে একজন মানুষের ১৫ দিন লাগে, মেশিন সেটা ঘণ্টায় করে দেয় — এই ব্যবধানই এই ব্যবসার ভিত্তি। মৌসুমও পরিষ্কার: টুপির কারখানায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাসে প্রায় এক লাখ টুপি তৈরি হয়, বছরের বাকি মাসে ২৫–৩০ হাজার। ছোট করে শুরু করা যায়। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের প্রতাপ ছয়ঘরিতে লতিফা বেগম ও তাঁর মেয়ে ২০২২ সালে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ নিয়ে অর্ডারভিত্তিক কাজ শুরু করেন, আর ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সেখানে প্রায় ২০০ নারী কাজ করছিলেন; কারখানার সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে গড়ে ৳২৫,০০০–৩০,০০০ লাভ থাকে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে মেশিন বসাতে চাইলে টাকার অঙ্ক আলাদা — শেড, এমব্রয়ডারি মেশিন, আধুনিক সরঞ্জাম ও কাঁচামালের জন্য তাঁর অন্তত ৳৫,০০,০০০ বাড়তি মূলধন দরকার।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১,৫০,০০০ – ৳৯,৫০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳২৬ – ৳৩০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳১৯ – ৳২৩ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২৩.৩% – ২৬.৯% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ – ৯০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৫.৫ – ১১ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ১৫ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৮৩০ – ৩,৩৩০ | বাজারদর |
শুরু করতে যা লাগবে
- কম্পিউটার এমব্রয়ডারি মেশিন — এক হেড বা বহু হেড। বাংলাদেশে এই মেশিনের কোনো প্রকাশিত দাম যাচাই করা যায়নি, তাই এই পাতায় মেশিনের দাম দেওয়া হলো না। কেনার আগে অন্তত তিনটি আমদানিকারক ও ব্যবহৃত মেশিনের বাজার ঘুরে দর মিলিয়ে নিন।যন্ত্রপাতি
- ডিজাইন করার কম্পিউটার ও ডিজিটাইজিং সফটওয়্যার, ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার এবং কাটিং টেবিল। কামরাঙ্গীরচরের টুপির কারখানায় মেশিনে একসঙ্গে ২০–২৫ স্তর কাপড় কাটা হয়, আর এক মিলিমিটার এদিক-ওদিক হলে মাপ নষ্ট হয়ে যায়।যন্ত্রপাতি
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। সাধারণত ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।লাইসেন্স
- ডিজিটাইজিং — ছবিকে সেলাইয়ের নকশায় রূপ দেওয়া। কারখানার আসল দক্ষতা এখানেই। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একটি ইউনিয়নে ছয়টি টুপির কারখানার মধ্যে পাঁচটিই বন্ধ হয়ে গেছে পুঁজির সংকট ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে।দক্ষতা
- ফিনিশিং। কামরাঙ্গীরচরের কারিগরদের কথায়, মেশিনের কাজ যতই থাকুক, টুপির মূল সৌন্দর্য ফোটে হাতের ফিনিশিংয়ে; ওমান, কাতার বা সৌদি আরবে পাঠানোর আগে প্রতিটি টুপির ভেতরের সুতা ও বুনন বসে বসে পরীক্ষা করা হয়।দক্ষতা
- সুতা, চুমকি, পুঁতি, জরি ও গাম, আর কাপড়ের জন্য পুরান ঢাকার ইসলামপুর — কামরাঙ্গীরচরের টুপির কারখানাগুলো সেখান থেকেই কাপড় সংগ্রহ করে। সঙ্গে একজন মেশিন মেকানিক, কারণ সুই ও হুক নিয়মিত বদলাতে হয়।সরবরাহকারী
- পাকা মেঝে ও পরিষ্কার জায়গা, যেখানে মেশিন স্থির থাকে আর কাপড়ে ধুলো লাগে না। জায়গাটা ক্রেতার কারখানার কাছাকাছি হওয়াই সবচেয়ে বড় সুবিধা।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1আগে ঠিক করুন কার জন্য কাজ করবেন — টুপির কারখানা, বুটিক, শাড়ির কুঠি নাকি দরজির দোকান। প্রতিটির নকশা, কাপড় আর পিসের দাম আলাদা।
- 2যে ক্লাস্টারে কাজ আছে সেখানেই বসুন। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ৩০টির বেশি টুপির কারখানা, আর কেরানীগঞ্জ, সাইনবোর্ড, মিরপুর, লালবাগ ও চকবাজারেও কারখানা আছে। ক্রেতার কাছে না থাকলে অর্ডার আসে না।
- 3কাজ শুরুর আগে অন্তত দুই-তিনটি নিয়মিত ক্রেতার সঙ্গে কথা পাকা করুন। এটি সাবকন্ট্রাক্টের ব্যবসা — মেশিন বসিয়ে অর্ডারের অপেক্ষায় থাকলে টাকা ফুরিয়ে যাবে।
- 4মেশিন কেনার আগে হেড সংখ্যা ঠিক করুন। এক হেডের মেশিনে নমুনা ও ছোট অর্ডার চলে, বহু হেডের মেশিনে একসঙ্গে অনেক পিস হয় — কিন্তু দাম ও বিদ্যুৎ খরচ দুটোই অনেক বেশি।
- 5নকশার লোক ঠিক করুন। কম্পিউটারে ডিজিটাইজিং না জানলে মেশিন অচল — এই কাজটাই আসলে কারখানার মূল দক্ষতা, সেলাই নয়।
- 6নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ভোল্টেজ স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করুন। মাঝপথে বিদ্যুৎ গেলে সুতা ছিঁড়ে নকশা নষ্ট হয় আর সেই কাপড় বাতিল হয়ে যায়।
- 7সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং কারখানার জন্য ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র লাগে কি না জেনে নিন।
- 8প্রতি পিসের দর লিখিতভাবে ঠিক করুন — কত সেলাই, কয়টি রঙ, কে সুতা দেবে আর নমুনার জন্য আলাদা টাকা নেবেন কি না। মুখের কথায় কাজ নিলে বাড়তি রঙ আর বাড়তি সেলাইয়ের টাকা কেউ দেয় না।
- 9নমুনা আগে পাঠান, তারপর পুরো লট। এক লট কাপড়ের নকশা ভুল হলে পুরো লটের কাপড়ের দামও আপনার ঘাড়ে আসে।
- 10শবে বরাত থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত সময়টাই বছরের ভরমৌসুম — তখন টুপি ও ঈদের পোশাকের কারখানা রাতদিন চলে। ওই সময়ের কাঁচামাল ও কর্মী আগেই ঠিক করে রাখুন।
- 11কম মৌসুমের জন্য আলাদা কাজ খুঁজুন — স্কুল ও কোম্পানির ইউনিফর্মের মনোগ্রাম, খেলার জার্সি, ব্যাগ ও বিছানার চাদর। শুধু ঈদের কাজ ধরে রাখলে বছরের অর্ধেক মেশিন বসে থাকবে।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেকম
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবগুড়া · শেরপুর উপজেলায় নারীরা জালি টুপি বোনেন, জেলায় দিনে গড়ে প্রায় দুই লাখ টুপি তৈরি হয় আর মোট উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে যায়।
- খুব উপযোগীঢাকা · কামরাঙ্গীরচরে ৩০টির বেশি টুপির কারখানা, আর কেরানীগঞ্জ, সাইনবোর্ড, মিরপুর, লালবাগ ও চকবাজারেও কারখানা আছে; কাপড় আসে ইসলামপুর থেকে আর পাইকারি বাজার চকবাজার ও গুলিস্তানের খদ্দর মার্কেট। মিরপুরের বেনারসি পল্লিতে কারচুপি-স্টোনের কাজের কুঠি অনেক।
- খুব উপযোগীনীলফামারী · সৈয়দপুরে প্রায় ৩০ হাজার নারী কারচুপির কাজে যুক্ত; কাজিহাট, মুন্সিপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বাঁশবাড়ী, হাতিখানা ও গোলাহাটসহ বহু মহল্লায় ঘরে ঘরে কাজ হয় আর মহাজনরা ঢাকায় সরবরাহ করেন।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · রিয়াজউদ্দিন বাজার ও বকশির হাটে টুপির বড় পাইকারি বাজার, আর জেলায় টুপি তৈরিও হয়।
- সম্ভবগাইবান্ধা · সাদুল্লাপুরের প্রতাপ ছয়ঘরিতে প্রায় ২০০ নারীর এমব্রয়ডারি পল্লী গড়ে উঠেছে; পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণ এখানে পাওয়া যায়, আর তৈরি পোশাক অন্য জেলাতেও যায়।
- সম্ভবনওগাঁ · মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, মান্দা ও সদর উপজেলায় টুপি তৈরি হয়, যার বড় অংশ রপ্তানি হয়।
- সম্ভবনরসিংদী · মাধবদীসহ কাপড়ের বড় বাজার এখানেই; বুটিক ও শাড়ির কুঠির জন্য নকশার কাজের চাহিদা আছে।
- সম্ভবরংপুর · কাউনিয়া উপজেলার অধিকাংশ গ্রামেই টুপি তৈরি হয় এবং সেগুলো ওমান, কাতার, কুয়েত ও সৌদি আরবে যায়।
- সম্ভবসিরাজগঞ্জ · টুপি তৈরির জেলা হিসেবে পরিচিত এবং তাঁত ও কাপড়ের ক্লাস্টার কাছেই, তাই কাঁচামাল সহজে মেলে।
- কম উপযোগীপঞ্চগড় · তেঁতুলিয়ায় কারখানা আছে, কিন্তু একটি ইউনিয়নে ছয়টির মধ্যে পাঁচটি কারখানাই পুঁজির সংকট ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিনির্ভরশীলতা: এটি পুরোপুরি অন্যের অর্ডারের উপর দাঁড়ানো ব্যবসা। সৈয়দপুরের মহাজনরা ঢাকা থেকে ই-মেইলে অর্ডার নিয়ে তবেই কাজ ছাড়েন; অর্ডার না এলে ৩০ হাজার নারীর হাত বসে থাকে। মেশিন কারখানার অবস্থাও একই — দুই-তিনটি ক্রেতার উপর নির্ভরশীল হলে একটি ক্রেতা সরে গেলেই মেশিন বন্ধ। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় একটি ইউনিয়নের ছয়টি টুপি কারখানার পাঁচটিই পুঁজির সংকট ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
- বেশিচাহিদা: বছরের অর্ধেক সময় কাজ থাকে না। আল সাইফ ক্যাপের হিসাবে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাসে প্রায় এক লাখ টুপি বিক্রি হয়, আর বাকি মাসগুলোতে ২৫–৩০ হাজার — অর্থাৎ ভরমৌসুমের পর কাজ তিন ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। মেশিনের কিস্তি কিন্তু বারো মাসই দিতে হয়।
- বেশিঅন্যান্য: আমদানি করা পোশাকের চাপ। ৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে মিরপুরের বেনারসি পল্লির কারখানা মালিকরা জানিয়েছেন, দেশীয় হাতে তৈরি পণ্যের কদর কমছে; জিমিচু কাপড়ের যে পার্টি শাড়ি তাঁদের এখানে ৳২,২০০–৩,০০০, একই ধরনের ভারতীয় শাড়ি বিক্রি হয় ৳৬,০০০–৭,০০০ টাকায়, তবু ক্রেতা ভারতীয়টাই নেয়। টুপির বাজারেও চীন থেকে আসা সস্তা ও চকচকে টুপির চাহিদা বেশি। ক্রেতার কারখানা মার খেলে এমব্রয়ডারির অর্ডারও কমে।
- মাঝারিচলতি মূলধন: কাঁচামালের দাম বাড়ে, কিন্তু পিসের দর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ানো যায় না। ১০ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে আল সাইফ ক্যাপের মালিক জানিয়েছেন, কাপড়ের দাম, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খরচ আর শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন পর্যায়ে টুপিপ্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা খরচ বেড়েছে — অথচ পাইকারি দর ছিল ৳২৬–৩০। ছোট কারখানায় এই চাপেই পুঁজি শেষ হয়ে যায়।
- মাঝারিঅন্যান্য: কারখানায় চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি বাস্তব। ২১–২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাজধানীর আদাবরে চাঁদা না পেয়ে একটি কারখানায় সশস্ত্র হামলার ঘটনায় একাধিক গ্রেপ্তার হয়, আর তার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা থানা ঘেরাও করেন। ছোট কারখানায় দামি মেশিন থাকে, তাই এই ঝুঁকি হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপকার্টন ও বক্স তৈরি
ঢেউতোলা কাগজে কার্টন ও বাক্স বানানোর কারখানা। ছোট পার্সেল কার্টন প্রতিটি ৳২৪–৪০, আর দেশে দিনে সাড়ে তিন থেকে চার লাখ পার্সেলই সবচেয়ে বড় বাজার।
- পুঁজি
- ৳৩ লাখ – ৳৩০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ৩০ জন
- প্রথম আয়
- ৪৫ – ১২০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপরাবার ও প্লাস্টিক স্যান্ডেল তৈরি
পুরোনো জুতা ও ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক গলিয়ে সস্তা স্যান্ডেল বানানো। দেশে ৩০০–৪০০ কারখানা, বছরে কোটি জোড়ার বেশি উৎপাদন, আর খুচরা দাম জোড়াপ্রতি ৳১০০–৫০০।
- পুঁজি
- ৳২.৫ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ৩ – ২৫ জন
- প্রথম আয়
- ৬০ – ১৮০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপমোজা ও গেঞ্জি কারখানা
ঝুট কাপড়ে গেঞ্জি, মোজা ও সোয়েটার বানানোর কারখানা। পাবনায় প্রায় এক হাজার কারখানা, বছরে ১৮–২০ কোটি পিস; তবে ভারতে স্থলপথ বন্ধ হওয়ায় ৬৫ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ৫ – ১০০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপবই প্রকাশনা ও প্রিন্টিং
পাণ্ডুলিপি থেকে বই ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া। সাদা লেখার কাগজ দিস্তাপ্রতি ৳৩৪–৪০, আর ছাপাখানা রাখতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঘোষণা বাধ্যতামূলক।
- পুঁজি
- ৳২ লাখ – ৳৫০ লাখ
- জনবল
- ২ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৬০ – ২৪০ দিন
