আবাসিক হোটেল
রাত হিসেবে ঘর ভাড়ার ব্যবসা। এক তারকা হোটেলে নিবন্ধন ও লাইসেন্স মিলিয়ে শুরুতেই ৳৪২,০০০ লাগে আর অন্তত ১০টি কক্ষ থাকতে হয়; সরকারি মোটেলে ঘর ভাড়া ৳৯০০–৪,৫০০।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

আবাসিক হোটেল
- শুরুর পুঁজি
- ৳১৫,০০,০০০ – ৳৮০,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৩ – ২০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৯০ – ৩৬৫ দিন সরকারি সূত্র
- খরচ উঠতে
- ১২ – ৩৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
রাতের জন্য ঘর ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা। কক্সবাজার, সিলেট, রাঙামাটি বা কুয়াকাটার মতো জায়গায় পর্যটক, আর জেলা শহরে ব্যবসার কাজে বা চিকিৎসার জন্য আসা মানুষ — এই দুই ধরনের খদ্দেরই আবাসিক হোটেল চালায়। এই ব্যবসা দুটো কাগজে চলে, একটা নয়। প্রথমে নিবন্ধন সনদ নিতে হয় সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কাছ থেকে, তারপর লাইসেন্স নিতে হয় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে। বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিধিমালা ২০১৬-এর তফসিল-২ অনুযায়ী এক তারকা হোটেলের আবেদন ফি ৳২,০০০, নিবন্ধন ফি ৳১০,০০০ আর লাইসেন্স ফি ৳৩০,০০০ — অর্থাৎ শুরুতেই ৳৪২,০০০, তার উপর ভ্যাট ও উৎসে কর। লাইসেন্স নবায়নে লাগে ৳৫,০০০। দুই তারকায় এই অঙ্ক দাঁড়ায় ৳৭৩,০০০, তিন তারকায় ৳১,৭৯,০০০। এক তারকা পেতে হলে অন্তত ১০টি কক্ষ থাকতে হয়, দুই তারকায় ৩০টি, তিন তারকায় ৫০টি। লাইসেন্সের আবেদনের সঙ্গে দিতে হয় পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নি-বিদ্যুৎ-গ্যাস নিরাপত্তার সনদ, রাজউক বা পৌরসভার অনুমোদিত নকশা, আর সিভিল সার্জনের দেওয়া কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদ। নিয়ম বলে ঘরের ন্যায্য দর টাকায় ঠিক করে ছাপিয়ে হোটেলের প্রকাশ্য জায়গায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে, আর প্রতিটি অতিথির নাম, ঠিকানা, আসা-যাওয়ার সময় ও পরিচয়পত্র অতিথি নিবন্ধন রেজিস্টারে লিখতে হবে। টাকা আসে নগদে, প্রতিদিন। কিন্তু ঘর খালি থাকলেও ভাড়া, বিদ্যুৎ আর কর্মচারীর বেতন থেমে থাকে না — আর বর্ষায় সমুদ্র বা পাহাড়ের হোটেলে ঘর মাসের পর মাস খালি পড়ে থাকে। মেয়াদ শেষের তিন মাস আগে নবায়নের আবেদন না করলে মাসে ৪ শতাংশ বিলম্ব ফি, আর তিন মাস পেরোলে লাইসেন্স নিজে থেকেই বাতিল।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮০,০০০ – ৳৬,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৬০০ – ৳৪,৫০০ / একক | সরকারি সূত্র | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২৫০ – ৳১,১০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৫৮% – ৭৬% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৯০ – ৩৬৫ দিন | সরকারি সূত্র | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১২ – ৩৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৩ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৪০% – ৬০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১০ – ১০০ | সরকারি সূত্র |
শুরু করতে যা লাগবে
- অতিথি নিবন্ধন রেজিস্টার ও পরিদর্শন রেজিস্টার — দুটোই বিধিমালায় বাধ্যতামূলক। অতিথির নাম, আসা-যাওয়ার সময় ও তারিখ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট লিখে রাখতে হয়; বিদেশির ক্ষেত্রে পাসপোর্টের ছবি, নাম, ঠিকানা ও ভিসার পাতার ফটোকপি সংরক্ষণ করতে হয়।যন্ত্রপাতি
- লাইসেন্স — সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (নিয়ন্ত্রক)। লাইসেন্স ফি: এক তারকা ৳৩০,০০০, দুই তারকা ৳৫০,০০০, তিন তারকা ৳১,৫০,০০০, চার তারকা ৳৫,০০,০০০, পাঁচ তারকা ৳৭,০০,০০০। নবায়ন ফি যথাক্রমে ৳৫,০০০, ৳১০,০০০, ৳৫০,০০০, ৳১,০০,০০০ ও ৳১,৫০,০০০। চালান কোড ১-৫৩০১-০০০১-১৮১৮। মেয়াদ শেষের ৩ মাস আগে নবায়নের আবেদন; দেরিতে মাসে ৪% বিলম্ব ফি, ৩ মাস পর লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয় বাতিল।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। হোটেলের নিবন্ধন আবেদনের বাধ্যতামূলক সংযুক্তি।লাইসেন্স
- পরিবেশগত ছাড়পত্র (পরিবেশ অধিদপ্তর), অগ্নি-বিদ্যুৎ-গ্যাস দুর্ঘটনার নিরাপত্তা সংক্রান্ত সনদ, ভবন ব্যবহার (অকুপেন্সি) সনদ এবং মূসক নিবন্ধন — চারটিই লাইসেন্সের আবেদনের সংযুক্তি। ফি আলাদা এবং এই গবেষণায় যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- হোটেলে রেস্তোরাঁ বা রান্নাঘর থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন আলাদা করে নিতে হয় — নতুন নিবন্ধন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ ৩ বছর। ডাইন-ইন রেস্তোরাঁয় ভ্যাট ৫%।লাইসেন্স
- নিবন্ধন সনদ — সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক, বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বিধিমালা ২০১৬-এর তফসিল-২। আবেদন ফি ও নিবন্ধন ফি তারকামান অনুযায়ী: এক তারকা ৳২,০০০ + ৳১০,০০০; দুই তারকা ৳৩,০০০ + ৳২০,০০০; তিন তারকা ৳৪,০০০ + ৳২৫,০০০; চার তারকা ৳৫,০০০ + ৳৫০,০০০; পাঁচ তারকা ৳৫,০০০ + ৳১,০০,০০০। চালান কোড ১-৫৩০১-০০০১-১৮১৭। নিবন্ধন ফির উপর ১৫% ভ্যাট ও ১০% উৎসে কর।লাইসেন্স
- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ সনদ ও সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্য সনদ — লাইসেন্সের আবেদনে দুটোই চাওয়া হয়, আর স্বাস্থ্য সনদ প্রতি নবায়নে নতুন করে লাগে।দক্ষতা
- তারকামান অনুযায়ী ন্যূনতম কক্ষ — এক তারকা ১০টি, দুই তারকা ৩০টি, তিন তারকা ৫০টি, চার তারকা ৭৫টি, পাঁচ তারকা ১০০টি। তিন তারকা থেকে উপরে প্রতিটি কক্ষ, কনফারেন্স রুম ও খোলা জায়গায় ওয়াই-ফাই ও তারযুক্ত সংযোগ, নিজস্ব ওয়েবসাইট, অনলাইন রিজার্ভেশন সুবিধা আর নিজস্ব বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1জায়গা ঠিক করার আগে হিসাব করুন কয়টা কক্ষ হবে। বিধিমালা অনুযায়ী এক তারকার জন্য অন্যূন ১০টি কক্ষ লাগে; তার কম হলে তারকামান পাওয়া যায় না।
- 2ভবনের কাগজ গোছান — নিজের জমি হলে মূল দলিল বা নামজারির সত্যায়িত কপি, ভাড়া হলে দীর্ঘমেয়াদি ভাড়া বা ইজারা চুক্তির সত্যায়িত কপি, আর রাজউক বা পৌরসভার অনুমোদিত নকশা ও পূর্ণাঙ্গ কাঠামোগত প্ল্যান।
- 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স আর এনবিআর থেকে টিআইএন নিন। দুটোই নিবন্ধনের আবেদনের বাধ্যতামূলক সংযুক্তি।
- 4১-৫৩০১-০০০১-১৮১৭ কোডে ট্রেজারি চালানে আবেদন ফি জমা দিয়ে ফরম-১-এ নিবন্ধকের কাছে আবেদন করুন। এক তারকায় আবেদন ফি ৳২,০০০।
- 5নিবন্ধক ৩০ কার্যদিবসে কাগজ যাচাই করে দাবীপত্র পাঠাবেন। তখন নিবন্ধন ফি (এক তারকায় ৳১০,০০০) চালানে জমা দিন — এর সঙ্গে ১৫% ভ্যাট ও ১০% উৎসে কর দিতে হয়। ১৫ কার্যদিবসে সনদ আসে।
- 6এবার লাইসেন্স। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, অগ্নি-বিদ্যুৎ-গ্যাস দুর্ঘটনার নিরাপত্তা সনদ, ভবন ব্যবহারের (অকুপেন্সি) সনদ আর মূসক নিবন্ধন জোগাড় করুন।
- 7সিভিল সার্জন বা সরকার অনুমোদিত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছ থেকে ফরম-৭ অনুযায়ী সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাস্থ্য সনদ নিন। এটা প্রতি নবায়নেও লাগে।
- 8১-৫৩০১-০০০১-১৮১৮ কোডে লাইসেন্স ফি জমা দিয়ে ফরম-৩-এ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করুন, সঙ্গে ৳৩০০-এর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা। এক তারকায় লাইসেন্স ফি ৳৩০,০০০। ১৫ কার্যদিবসে লাইসেন্স।
- 9ঘরের ন্যায্য দর টাকায় ঠিক করে ছাপিয়ে হোটেলের প্রকাশ্য জায়গায় ঝুলিয়ে দিন — এটা বিধিমালার শর্ত, ইচ্ছেমতো দর নেওয়ার সুযোগ নেই।
- 10অতিথি নিবন্ধন রেজিস্টার আর পরিদর্শন রেজিস্টার রাখুন। প্রতিটি অতিথির নাম, আসা-যাওয়ার সময় ও তারিখ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল আর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট লিখতে হবে; বিদেশি হলে পাসপোর্টের ছবি ও ভিসার পাতার ফটোকপি রাখতে হবে।
- 11মৌসুম ধরে দর ও কর্মী সাজান। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সমুদ্র ও পাহাড়ের হোটেল ভরে যায়, আর বর্ষায় প্রায় খালি থাকে — অথচ ভাড়া আর বেতন সারা বছরই দিতে হয়।
- 12লাইসেন্সের মেয়াদ শেষের অন্তত ৩ মাস আগে ফরম-৪-এ নবায়নের আবেদন করুন। দেরি হলে প্রতি মাসে ৪ শতাংশ বিলম্ব ফি, আর ৩ মাস পেরোলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনকম
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দর ও শিল্প এলাকার ব্যবসায়িক যাতায়াত; রেলস্টেশনের পাশে পর্যটনের মোটেল সৈকত চলে, যেখানে এসি ও নন-এসি মিলিয়ে ১৪টি কক্ষ।
- খুব উপযোগীকক্সবাজার · দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন বাজার; পর্যটন করপোরেশনেরই এখানে তিনটি ইউনিট — হোটেল শৈবাল, মোটেল প্রবাল ও মোটেল উপল। তবে ভিড় শীতে, আর বর্ষায় ঘর খালি।
- খুব উপযোগীঢাকা · পর্যটক নয়, চাহিদা আসে ব্যবসা ও চিকিৎসার কাজে আসা মানুষের কাছ থেকে — তাই সারা বছর সমান চলে। পর্যটনের হোটেল অবকাশে ৩৫টি এসি কক্ষ।
- খুব উপযোগীরাঙ্গামাটি · পাহাড় ও কাপ্তাই হ্রদের পর্যটন; পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে এসি ও নন-এসি মিলিয়ে ২০টির মতো কক্ষ ও কটেজ চলে। তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এলে মৌসুম একেবারে বন্ধ।
- খুব উপযোগীসিলেট · প্রবাসী পরিবারের যাতায়াত, ধর্মীয় জিয়ারত আর চা-বাগান ঘিরে সারা বছরই কিছু না কিছু চাহিদা থাকে; পর্যটন মোটেল সিলেট ও জাফলং দুটোই এখানে।
- সম্ভববাগেরহাট · সুন্দরবন ও মংলা বন্দর ঘিরে চাহিদা; মংলায় পর্যটনের হোটেল পশুরে নন-এসি কক্ষ ৳৯০০ থেকে শুরু, অর্থাৎ দর কম রাখতে হয়।
- সম্ভববান্দরবান · নীলগিরি-থানচি ঘিরে তরুণ পর্যটকের দল আসে, রিসোর্ট ও গেস্ট-হাউজের চাহিদা বাড়ছে। নিরাপত্তাজনিত নিষেধাজ্ঞাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
- সম্ভবযশোর · বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতগামী যাত্রীর নিয়মিত স্রোত; পর্যটন মোটেল বেনাপোলে ২০টি কক্ষ ও ডরমিটরি চলে। মৌসুম নয়, যাত্রীপ্রবাহই এখানে চাহিদা ঠিক করে।
- সম্ভবপটুয়াখালী · কুয়াকাটা সৈকত; পর্যটন হলিডে হোমসে এসি ডিলাক্স থেকে ইকোনমি পর্যন্ত ১৬টি কক্ষ। পদ্মা সেতুর পর ঢাকা থেকে যাওয়া সহজ হয়েছে।
- সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগীয় দপ্তর ঘিরে সারা বছর চাহিদা; পর্যটন মোটেলে ৫০টি কক্ষ, তবে নন-এসি সিঙ্গল ৳৮০০ — দর কম।
- সম্ভবরংপুর · বিভাগীয় শহর হওয়ায় সরকারি ও ব্যবসায়িক কাজে আসা লোকের চাহিদা; পর্যটন মোটেলে ভিআইপি স্যুট থেকে ইকোনমি বেড পর্যন্ত ৩৭টি কক্ষ।
- সম্ভবসুনামগঞ্জ · টাঙ্গুয়ার হাওর ঘিরে বর্ষার পর্যটন — এখানে মৌসুম উল্টো, বর্ষায় ভিড় আর শুকনো মৌসুমে খালি।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: মৌসুম ছাড়া ঘর খালি পড়ে থাকে। কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা পাহাড়ি জেলার হোটেলে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ভিড় হয় আর বর্ষায় প্রায় কেউ আসে না, কিন্তু ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল আর কর্মচারীর বেতন বারো মাসই দিতে হয়। একটা খারাপ মৌসুম মানে সারা বছরের লাভ শেষ। এর সঙ্গে হরতাল, ঝড় বা পাহাড়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা যোগ হলে কয়েক সপ্তাহের বুকিং একসঙ্গে বাতিল হয়ে যায়।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: লাইসেন্স জেলা প্রশাসকের হাতে, আর নবায়ন আটকে যাওয়ার শাস্তি কঠিন: মেয়াদ শেষের ৩ মাস আগে আবেদন না করলে প্রতি মাসে ৪ শতাংশ বিলম্ব ফি, আর সেই ৩ মাসের মধ্যেও আবেদন না করলে লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় — তখন আবার গোড়া থেকে শুরু। নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত করার আগে ১৫ কার্যদিবসের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু নোটিশের জবাব না দিলে সুযোগ শেষ।
- বেশিচলতি মূলধন: বিক্রি শুরুর আগেই বড় অঙ্ক বেরিয়ে যায়। শুধু সরকারি ফিই এক তারকায় ৳৪২,০০০, দুই তারকায় ৳৭৩,০০০, তিন তারকায় ৳১,৭৯,০০০ — তার উপর ভ্যাট, উৎসে কর, পরিবেশ ছাড়পত্র, অগ্নি নিরাপত্তা সনদ আর ভবনের কাজ। নিবন্ধন আর লাইসেন্স মিলিয়ে সরকারি ধাপেই দুই-তিন মাস চলে যায়, আর সেই পুরো সময় ভাড়া গুনতে হয় কিন্তু একটা টাকাও আসে না।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: পর্যটন এলাকার হোটেল একটাই জিনিসের উপর দাঁড়িয়ে — লোক আসছে কি না। রাস্তা বন্ধ, সেতু ভাঙা, পাহাড়ে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বা সমুদ্রে সতর্ক সংকেত — যে কোনো একটাই পুরো মৌসুম শেষ করে দিতে পারে, আর হোটেল মালিকের হাতে কিছুই থাকে না।
- মাঝারিঅন্যান্য: অতিথি রেজিস্টার ও পরিচয়পত্রের নিয়ম কড়া। প্রতিটি অতিথির জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট লিখে রাখতে হয়, বিদেশির ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও ভিসার পাতার ফটোকপি রাখতে হয়। ঝটিকা পরিদর্শনে এই রেজিস্টার অসম্পূর্ণ পাওয়া গেলে হোটেলের কৈফিয়ত দিতে হয়, আর অপরাধ ঘটলে দায় প্রথমে হোটেলের উপরেই আসে।
সূত্র
আবাসিক হোটেল নিবন্ধন প্রাপ্তির আবেদন — myGov সেবা তথ্য
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৯ এপ্রি, ২০২৪
যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ৯ ডিসে, ২০১৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
এক মাসে একজন অতিথিও আসেননি, সাতজন কর্মী ছাঁটাই — জাহাজ বন্ধ হতেই দ্বীপের মৌসুম শেষ
১৬ নভেম্বর থেকে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ বন্ধ হয়ে যায় মৌসুমের মাঝখানেই। এই হোটেলে এক মাসে কোনো অতিথি আসেননি, সাতজন কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে; দ্বীপের ৩৬টি আবাসিক হোটেল আর ৪০টি কটেজ-বাংলো সব বন্ধ।
- কারণ
- চাহিদা কম, ভুল জায়গা
একই রকম আরও ব্যবসা
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবারিসোর্ট ও কটেজ
পর্যটন এলাকায় ছোট রিসোর্ট বা কটেজ চালানো। ভরা মৌসুমে সাজেকে শতভাগ বুকিং, কিন্তু মৌসুম ছোট আর ২০২৫ সালে এক আগুনেই ৯৪টি রিসোর্ট-কটেজ পুড়ে গেছে।
- পুঁজি
- ৳৮ লাখ – ৳২ কোটি
- জনবল
- ৩ – ৩০ জন
- প্রথম আয়
- ১৮০ – ৫৪০ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাডায়াগনস্টিক সেন্টার
রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রামের কেন্দ্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স লাগে, বার্ষিক ফি শ্রেণি ও এলাকাভেদে ৳১৫,০০০–৫০,০০০।
- পুঁজি
- ৳৮ লাখ – ৳১.৫ কোটি
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ৩৬৫ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাঅ্যাম্বুলেন্স সেবা
রোগী ও মরদেহ পরিবহনের গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা। জাতীয় ভাড়ার তালিকা নেই; চমেক হাসপাতালের নির্ধারিত ভাড়া ৳১,১৪৪ থেকে ৳৫,৭৮৫।
- পুঁজি
- ৳৭ লাখ – ৳৩০ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাগাড়ি ভাড়া সেবা
দিনের ট্রিপে বা মাসিক চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া দেওয়া। ঢাকায় সেডান দিনে ৳৪,০০০ (১০ ঘণ্টা/১০০ কিমি), হায়েস ৳৫,৫০০ — তবে চালকের বেতন আর গাড়ির ক্ষয় বাদ দিলে ওটা লাভ নয়।
- পুঁজি
- ৳৬ লাখ – ৳৩৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
