রিসোর্ট ও কটেজ
পর্যটন এলাকায় ছোট রিসোর্ট বা কটেজ চালানো। ভরা মৌসুমে সাজেকে শতভাগ বুকিং, কিন্তু মৌসুম ছোট আর ২০২৫ সালে এক আগুনেই ৯৪টি রিসোর্ট-কটেজ পুড়ে গেছে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

রিসোর্ট ও কটেজ
- শুরুর পুঁজি
- ৳৮,০০,০০০ – ৳২,০০,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৩ – ৩০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১৮০ – ৫৪০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ১৬ – ৬০ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
দেশের ভেতরে ঘুরতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, আর তাঁরা শহরের বড় হোটেলে নয় — পাহাড়, হাওর, চা-বাগান বা সমুদ্রের কাছে ছোট রিসোর্ট ও কটেজে থাকতে চান। ভরা মৌসুমে চাহিদা এতটাই বেশি যে ঘর পাওয়া যায় না। ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রের সব রিসোর্ট-কটেজ ২৮ মার্চ পর্যন্ত শতভাগ বুকিং হয়ে গিয়েছিল, আর ঘর না পেয়ে এক দিনেই সাড়ে ছয় শতাধিক পর্যটক ফিরে গেছেন। একই সময়ে রাঙামাটি শহরের হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ বুকিং ছিল। কোরবানির ঈদে গাজীপুরের সোহাগ পল্লী ও রিসোর্ট পুরোপুরি বুকড ছিল, মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার ৮০ শতাংশের বেশি, আর হবিগঞ্জের বাহুবলের দ্য প্যালেসের প্যাকেজ ২৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এই ব্যবসার দুটি কঠিন দিক আছে। প্রথম, মৌসুম ধারালো — বছরের কয়েকটি ছুটিতেই বেশির ভাগ আয় হয়, বাকি সময় ঘর খালি থাকে অথচ কর্মী, বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বারো মাসই চলে। দ্বিতীয়, আগুন ও দুর্যোগের ঝুঁকি বাস্তব। ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাজেকে একটি রিসোর্টে লাগা আগুনে ৯৪টি রিসোর্ট-কটেজ ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়; সাজেকে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন না থাকায় ইউনিট পৌঁছাতেই তিন ঘণ্টা লেগেছিল। জায়গা বাছার সময় এই দুটি কথা মাথায় রাখাই এই ব্যবসার আসল সিদ্ধান্ত।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৭০,০০০ – ৳৯,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳২৪,০০০ – ৳১,২০,০০০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৭,০০০ – ৳৩০,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৭১% – ৭৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১৮০ – ৫৪০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১৬ – ৬০ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ১০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৮০ – ১০০ | অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত |
শুরু করতে যা লাগবে
- কক্ষের আসবাব ও বিছানা, জেনারেটর বা সৌরবিদ্যুৎ, পানি তোলা ও শোধনের ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, আর অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা।যন্ত্রপাতি
- পর্যটন আবাসনের নিবন্ধন — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেল, যারা পাঁচ, চার ও তিন তারকা হোটেলের তালিকা রাখে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রকাশিত আইন ও বিধিমালার তালিকায় ২০২৪ সালের ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড বিধিমালা আছে, কিন্তু হোটেল বা রিসোর্টের আলাদা বিধিমালা সেখানে নেই — তাই ফি ও শ্রেণিবিভাগের তফসিল সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সেল থেকে চেয়ে নিন। এই গবেষণায় ফি যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ফায়ার লাইসেন্স — ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। কাঠ ও বাঁশের কটেজে আগুনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, আর সাজেকের মতো জায়গায় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনই নেই।লাইসেন্স
- পরিবেশগত ছাড়পত্র — পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় স্থাপনা নিষিদ্ধ হতে পারে; সেন্ট মার্টিনে সব ধরনের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ এবং সেখানে নির্মিত রিসোর্টের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা ও জরিমানা করেছে।লাইসেন্স
- বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন — রিসোর্টে খাবার পরিবেশন করলে। খাদ্য নিরাপত্তা (নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং) বিধিমালা, ২০২৬ অনুযায়ী নিবন্ধন ফি নতুন ৳১,০০০ ও নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু, বছর বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- অতিথি সামলানো, বুকিং ও দাম ব্যবস্থাপনা, রান্নাঘর চালানো আর জরুরি অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া। পর্যটকের নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ও এই কাজের অংশ।দক্ষতা
- পর্যটন এলাকায় জমি বা দীর্ঘমেয়াদি ইজারা, কক্ষ, রান্নাঘর, খাবারের জায়গা আর গাড়ি রাখার জায়গা। পাহাড় ও দ্বীপে নির্মাণসামগ্রী টানার খরচ ও সময় দুটোই অনেক বেশি।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1জায়গা বাছার আগে দেখুন সেখানে নির্মাণ আইনত করা যায় কি না। সেন্ট মার্টিনে সব ধরনের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ, অথচ সেখানে নতুন রিসোর্ট উঠছে আর পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা ও জরিমানা করছে। প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা, বনভূমি ও পাহাড়ে আলাদা নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে।
- 2জমির কাগজ ও স্থানীয় অনুমতি যাচাই করুন। পার্বত্য এলাকায় জমির মালিকানা ও হস্তান্তরের আলাদা নিয়ম আছে, আর হেডম্যান ও সার্কেল চিফের সঙ্গে সম্পর্কও বাস্তব বিষয়।
- 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, আর হোটেল-রিসোর্টের জন্য আলাদা শ্রেণি আছে কি না জেনে নিন।
- 4বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেলে যোগাযোগ করুন। পর্যটন আবাসনের নিবন্ধন ও তারকা শ্রেণিবিভাগ সেখান থেকেই হয়। ফি ও নিয়ম মন্ত্রণালয়ের গেজেটে আছে; আবেদনের আগে হালনাগাদ তফসিল চেয়ে নিন।
- 5ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার লাইসেন্স নিন আর অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা বসান। সাজেকে ফায়ার সার্ভিসের কোনো স্টেশন নেই — আগুন লাগলে নিজের ব্যবস্থাই একমাত্র ভরসা।
- 6পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিন। পাহাড়, বন, সৈকত ও প্রবাল এলাকায় এটি কেবল কাগজ নয় — এই ছাড়পত্র না থাকলে স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হতে পারে।
- 7খাবারের ব্যবস্থা থাকলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিন। ২০২৬ সালের খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধন ফি নতুন ৳১,০০০ ও নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর।
- 8কক্ষ কম রেখে মান ভালো রাখুন। সাজেকে ভরা মৌসুমে সব ঘর ভাড়া হয়ে যায়, কিন্তু মৌসুম ছোট — বেশি ঘর বানিয়ে খালি রাখার চেয়ে কম ঘরে ভালো সেবা দিয়ে বেশি ভাড়া নেওয়া নিরাপদ।
- 9অনলাইন বুকিংয়ে যান আর নিজের পাতায় ছবি ও দাম পরিষ্কার রাখুন। ছুটির আগে বুকিং শুরু হয়ে যায়; সাজেকে ঈদের ছুটির বুকিং আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
- 10ছুটির ক্যালেন্ডার ধরে দাম ও কর্মী ঠিক করুন। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, শীতের ছুটি আর টানা সরকারি ছুটিতেই আয়ের বড় অংশ আসে।
- 11মৌসুমের বাইরের মাসগুলোর জন্য আলাদা ক্রেতা ধরুন — প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ভ্রমণ, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা, বিয়ে ও শুটিংয়ের দল। শুধু ছুটির পর্যটকের ওপর দাঁড়ালে বছরের অর্ধেক ঘর খালি থাকে।
- 12দুর্যোগের পরিকল্পনা লিখে রাখুন। সাজেকে পাহাড়ি ঢলে সড়ক তলিয়ে পর্যটক আটকা পড়ার ঘটনা ঘটেছে, আবার নিরাপত্তার কারণে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাও এসেছে। বুকিং বাতিল ও টাকা ফেরতের নিয়ম আগে থেকেই স্পষ্ট করে রাখুন।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনকম
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবান্দরবান · পাহাড়ি পর্যটনের বড় কেন্দ্র; ছোট রিসোর্ট ও কটেজের চাহিদা বেশি।
- খুব উপযোগীকক্সবাজার · দেশের প্রধান সমুদ্র পর্যটনকেন্দ্র; হোটেল-রিসোর্টের সবচেয়ে বড় বাজার আর সারা বছরই পর্যটক আসেন।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · ঢাকার কাছে বলে এক দিনের ছুটির বড় বাজার; সোহাগ পল্লী ও রিসোর্ট কোরবানির ঈদে পুরোপুরি বুকড ছিল। তবে নির্বাচনের সময় চার দিন বন্ধ রাখার নির্দেশও এসেছিল।
- খুব উপযোগীহবিগঞ্জ · বাহুবলে দ্য প্যালেসের মতো বিলাসবহুল রিসোর্ট, যেখানে প্যাকেজ ২৪ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা; ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে।
- খুব উপযোগীমৌলভীবাজার · শ্রীমঙ্গল ও চা-বাগানের এলাকা; দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার মতো ব্যয়বহুল রিসোর্ট আছে আর ঈদে ৮০ শতাংশের বেশি বুকিং ছিল।
- খুব উপযোগীরাঙ্গামাটি · সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্র ও কাপ্তাই হ্রদ — ভরা মৌসুমে শতভাগ বুকিং হয় আর ঘর না পেয়ে পর্যটক ফিরে যান; তবে আগুন ও সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এখানেই।
- সম্ভববাগেরহাট · সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ ঘিরে পর্যটক; থাকার ভালো ব্যবস্থার ঘাটতি আছে।
- সম্ভবখাগড়াছড়ি · সাজেক যাওয়ার পথ এই জেলার ওপর দিয়ে; দীঘিনালা ও সদরে থাকার চাহিদা আছে।
- সম্ভবসুনামগঞ্জ · টাঙ্গুয়ার হাওরে বর্ষায় পর্যটক আসেন; থাকার জায়গার সংখ্যা কম, তাই জায়গা ফাঁকা আছে।
- সম্ভবসিলেট · জাফলং, বিছানাকান্দি ও রাতারগুলে পর্যটকের চাপ বেশি; প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতাও বেশি।
- কম উপযোগীভোলা · মনপুরা ও চরফ্যাশনে পর্যটনের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু যাতায়াত কঠিন আর অবকাঠামো কম।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিঅন্যান্য: আগুনই এই ব্যবসার সবচেয়ে বাস্তব ও সবচেয়ে বড় ধ্বংসের কারণ। ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সাজেকের রুইলুইয়ে একটি রিসোর্টে লাগা আগুন ছড়িয়ে ৯৪টি রিসোর্ট-কটেজ ও বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়; মালিক সমিতির হিসাবে ৩২টি রিসোর্ট ও কটেজ, ৩৬টি বসতঘর, ৬টি রেস্তোরাঁ ও ২০টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আর জেলা প্রশাসনের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ১৪০টি। স্থানীয় ইউপি সদস্যের ধারণা ক্ষয়ক্ষতি অন্তত ১০০ কোটি টাকা। সাজেকে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন নেই — খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও পানছড়ি থেকে ১১টি ইউনিট পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা লেগেছিল, আর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে সাড়ে চার ঘণ্টা পর। প্রাথমিক ধারণা, সিগারেট বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: যেখানে সবচেয়ে বেশি পর্যটক, সেখানেই নির্মাণ নিষিদ্ধ হতে পারে। সেন্ট মার্টিনে সব ধরনের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ, তবু ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জানা যায় সেখানে অন্তত ১২টি নতুন রিসোর্ট-কটেজের নির্মাণকাজ চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আগে দ্বীপে ৭০টির বেশি রিসোর্ট নির্মাণ হয়েছিল, আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেগুলোর বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানাসহ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাঠামো দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর ভাঙার নির্দেশ এলে পুরো পুঁজিই চলে যায়।
- বেশিচাহিদা: মৌসুম ধারালো আর ছোট। আয়ের বড় অংশ আসে ঈদের ছুটি, শীতের ছুটি আর টানা সরকারি ছুটির কয়েকটি সপ্তাহে — সাজেকে তখন শতভাগ বুকিং হয়ে যায়। বাকি সময় ঘর খালি থাকে অথচ কর্মীর বেতন, বিদ্যুৎ, জেনারেটরের তেল আর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বারো মাসই চলে। একই ঈদে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট শতভাগ বুকড থাকলেও আশুলিয়ার নন্দন পার্কে ধারণক্ষমতা ১০ হাজারের বিপরীতে দর্শনার্থী এসেছিলেন মাত্র দুই হাজারের আশপাশে — অর্থাৎ ভরা মৌসুমেও সব জায়গায় ভিড় হয় না।
- বেশিঅন্যান্য: প্রকৃতি ও প্রশাসন দুটোই হঠাৎ বুকিং বন্ধ করে দিতে পারে। পাহাড়ি ঢলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়ক তলিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে আর শত শত পর্যটক আটকা পড়েছেন; আবার নিরাপত্তার কারণে সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচনের সময় গাজীপুরের শুটিং স্পট ও রিসোর্ট চার দিন বন্ধ রাখার নির্দেশও এসেছিল। এই দিনগুলোর বুকিং ফেরত দিতে হয়, অথচ খরচ থেকে যায়।
সূত্র
- সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
All food businesses now need safety registration
সংগ্রহ: ২২ জুল, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
দেড় মাস ধরে লোকসান, ছয় মাস-এক বছর আগের বিদেশি বুকিংও বাতিল
শ্রীমঙ্গল এলাকায় হোটেল-রিসোর্ট প্রায় ১০০টি। কোটা আন্দোলন শুরু হতেই পর্যটন পড়তে থাকে; ছয় মাস থেকে এক বছর আগে বুকিং দেওয়া বিদেশি পর্যটকেরা বাতিল করেন, ঝুঁকিতে পড়ে নভেম্বর-ফেব্রুয়ারির ভরা মৌসুম।
- কারণ
- চাহিদা কম, নির্ভরশীলতা
৩০ হাজার টাকা ধার আর তিনটি মাচাং ঘরে শুরু, এখন পুঁজি প্রায় ৮ লাখ
এনজিওর চাকরি ছেড়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাপ্তাই হ্রদের পাশে তিনটি মাচাং ঘর নিয়ে শুরু, পুঁজি ছিল ধার করা ৩০ হাজার টাকা। পরে কৃষি ব্যাংকের ঋণে রাতযাপনের ঘর দাঁড়ায় সাতটিতে, পুঁজি প্রায় ৮ লাখ টাকা।
- পুঁজি
- ৳৩০ হাজার
- কারণ
- চলতি মূলধন, ভালো জায়গা
একই রকম আরও ব্যবসা
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাডায়াগনস্টিক সেন্টার
রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রামের কেন্দ্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স লাগে, বার্ষিক ফি শ্রেণি ও এলাকাভেদে ৳১৫,০০০–৫০,০০০।
- পুঁজি
- ৳৮ লাখ – ৳১.৫ কোটি
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ৩৬৫ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাঅ্যাম্বুলেন্স সেবা
রোগী ও মরদেহ পরিবহনের গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা। জাতীয় ভাড়ার তালিকা নেই; চমেক হাসপাতালের নির্ধারিত ভাড়া ৳১,১৪৪ থেকে ৳৫,৭৮৫।
- পুঁজি
- ৳৭ লাখ – ৳৩০ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাগাড়ি ভাড়া সেবা
দিনের ট্রিপে বা মাসিক চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া দেওয়া। ঢাকায় সেডান দিনে ৳৪,০০০ (১০ ঘণ্টা/১০০ কিমি), হায়েস ৳৫,৫০০ — তবে চালকের বেতন আর গাড়ির ক্ষয় বাদ দিলে ওটা লাভ নয়।
- পুঁজি
- ৳৬ লাখ – ৳৩৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবাসিকিউরিটি গার্ড সেবা
চুক্তিতে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ। একজন গার্ডের সার্ভিস চার্জ ৯–১০ হাজার টাকা আর বেতনই ৮–১৫ হাজার — মাঝের ফাঁকটাই পুরো ব্যবসা।
- পুঁজি
- ৳৫ লাখ – ৳৩০ লাখ
- জনবল
- ১০ – ২০০ জন
- প্রথম আয়
- ৬০ – ১৮০ দিন
