থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম
অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ মেপে কেটে দরজা-জানালা-পার্টিশন বানিয়ে লাগানো। সাধারণ কাজের দর প্রতি বর্গফুট ৳৪৭০–৭৫০, আর মাপ ভুল হলে কাটা মাল ফেরত যায় না।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম — প্রতীকী ছবি, AI দিয়ে তৈরি; বাস্তব কোনো দোকান বা খামার নয়
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,৫০,০০০ – ৳৬,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম বিক্রি
- ২০ – ৬০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৪ – ৮ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
অ্যালুমিনিয়ামের প্রোফাইল আর কাচ মেপে কেটে দরজা, জানালা, রান্নাঘরের পার্টিশন, বাথরুমের দরজা আর দোকানের সামনের কাজ বানিয়ে লাগিয়ে দেওয়া — এটাই থাই গ্লাসের ব্যবসা। কাজটা নিজে থেকে আসে না, আসে নতুন ফ্ল্যাট, নতুন দোকান আর ঘর সাজানোর কাজের সঙ্গে। যেখানে নতুন বাড়ি উঠছে, সেখানেই এই কাজ আছে; যেখানে নির্মাণ থেমে আছে, সেখানে দোকান খালি। দাম হিসাব হয় বর্গফুটে। ২০২৬ সালের বাজারদর ধরে সাধারণ সিলভার বা ব্রোঞ্জ রঙের প্রোফাইল দিয়ে ঘরের জানালা ও পার্টিশনের কাজ প্রতি বর্গফুট ৳৪৭০–৭৫০, আর কাচ আলাদা ধরলে সাদা কাচ ৳৬৫–৭৫, পারদ কাচ ৳৮০–৯০ আর কালো কাচ ৳৮৫–৯৫ প্রতি বর্গফুট। ঢাকার একটি কারখানা আবার টাফেন্ড, লেমিনেটেড বা মিরর কাচের কাজের জন্য প্রতি বর্গফুট ৳১,২০০ থেকে ৳৩,৫০০ পর্যন্ত চায়। দুটো দর এক জিনিসের নয় — কাচের ধরন, প্রোফাইলের পুরুত্ব আর কাজের মান আলাদা, তাই দর বলার আগে ঠিক কী ধরনের কাজ তা বলে নিতে হয়। এই ব্যবসায় লাভ-লোকসান ঠিক করে দেয় মাপ। মাপ এক ইঞ্চি ভুল হলে ফ্রেম আর লাগে না, কাটা প্রোফাইল ফেরতও যায় না — পুরো মালটাই লোকসান। কাচ ভাঙলে সেটাও নিজের ঘর থেকে যায়। তাই যে লোকটা মাপ নিতে যায়, তার উপরেই দোকানের ভাগ্য ঝুলে থাকে। মাল কেনা হয় ব্র্যান্ড ধরে — কাই, চুং হুয়া, পিএইচপি, ফুজি, ফ্যালকন, আলকো, ম্যাক্স, আলটেক, আরামিট, নিক্কি। প্রোফাইল আসে লম্বা বান্ডিলে, তাই একবারে কিছু মাল না কিনলে কাজ ধরা যায় না।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮০,০০০ – ৳৪,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৪৭০ – ৳৩,৫০০ / একক | বিতর্কিত | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৩৩০ – ৳২,৩০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৩০% – ৩৪% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ২০ – ৬০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৪ – ৮ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৭ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ১০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৩০ – ১২০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- অ্যালুমিনিয়াম কাটার মেশিন (মিটার-কাট), ড্রিল মেশিন, রিভেট গান, স্ক্রু ড্রাইভার সেট, মাপার ফিতা, কাচ কাটার কাটার ও সাকার, আর সিলিকন গান।যন্ত্রপাতি
- প্রোফাইলের বান্ডিল (২০–২১ ফুট লম্বা), কাচের শিট, চাকা, থাই লক, হ্যান্ডেল, রাবার গ্যাসকেট, স্ক্রু ও সিলিকন।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু হয়, প্রতি বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- মাপ নেওয়া ও মিটার-কাট করা। এক ইঞ্চি ভুলে ফ্রেম বাতিল হয় আর কাটা প্রোফাইল ডিলার ফেরত নেয় না — এই দক্ষতাই ব্যবসার লাভ।দক্ষতা
- প্রোফাইলের ডিলার (কাই, চুং হুয়া, পিএইচপি, ফুজি, ফ্যালকন, আলকো, ম্যাক্স, আলটেক, আরামিট, ফু ওয়াং, নিক্কি) আর আলাদা কাচের সরবরাহকারী।সরবরাহকারী
- ২০–২১ ফুট লম্বা প্রোফাইল ঢোকানো যায় এমন ঘর, আর কাচ খাড়া করে রাখার নিরাপদ জায়গা। রাস্তার পাশে হলে মাল ওঠানো-নামানো সহজ হয়।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1যেখানে নতুন ফ্ল্যাট বা দোকান উঠছে, তার কাছে ঘর নিন। প্রোফাইল ২০–২১ ফুট লম্বা আসে, তাই ঘরে ঢোকানো ও রাখার জায়গা লাগবে।
- 2সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০ আর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি; ৩–৫ কার্যদিবসে হয়।
- 3প্রোফাইলের ডিলার ঠিক করুন। কাই, চুং হুয়া, পিএইচপি, ফুজি, ফ্যালকন, আলকো, ম্যাক্স — ব্র্যান্ড ভেদে দর আলাদা, আর খদ্দেরকে ব্র্যান্ডের নাম বলে দর দিতে হয়।
- 4কাচের আলাদা সরবরাহকারী ঠিক করুন — সাদা, পারদ, কালো আর টাফেন্ড কাচ আলাদা দরে আসে এবং টাফেন্ড কাচ কেটে ফেলা যায় না, মাপমতো বানিয়ে আনতে হয়।
- 5কাটার মেশিন, ড্রিল, রিভেট গান, স্ক্রু ড্রাইভার, মাপার ফিতা আর কাচ কাটার সরঞ্জাম কিনুন। মিটার-কাট ঠিক না হলে জোড়া মিলবে না।
- 6কাজ ধরার আগে নিজে গিয়ে মাপ নিন এবং মাপ লিখে খদ্দেরকে দেখিয়ে সই করিয়ে নিন। মাপ ভুল হলে কাটা প্রোফাইল ফেরত যায় না, পুরোটাই লোকসান।
- 7দর দেওয়ার সময় বলুন কোন ব্র্যান্ডের প্রোফাইল, কত পুরু, কোন কাচ আর কাজ ধরে দর না কাচ আলাদা — এই চারটা না বললে পরে টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়।
- 8কারখানায় ফ্রেম বানিয়ে, কাচ বসিয়ে, চাকা-লক-হ্যান্ডেল লাগিয়ে তারপর সাইটে নিয়ে গিয়ে ফিট করুন। ভাঙা কাচের ক্ষতি আপনারই।
- 9ঠিকাদার ও ডেভেলপারের সঙ্গে নিয়মিত কাজের কথা বলুন, কিন্তু বিল পাশের শর্ত আর সময় লিখিত রাখুন।
- 10কাজ শেষে অবশিষ্ট ছোট টুকরা প্রোফাইল আলাদা করে রাখুন — ছোট ভেন্ট, বাথরুমের দরজা বা মেরামতের কাজে এগুলোই লাভ দেয়।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দরনগরীতে নতুন ভবন ও শোরুমের কাজ নিয়মিত; আমদানি করা প্রোফাইল বন্দর দিয়েই আসে।
- খুব উপযোগীঢাকা · নতুন ফ্ল্যাট ও দোকান সবচেয়ে বেশি, ডেভেলপার ও ঘর সাজানোর ঠিকাদারও এখানেই; প্রোফাইল ও কাচের ডিলারও শহরের ভেতরেই পাওয়া যায়।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · কারখানা ও কর্মীদের জন্য নতুন বাড়ি উঠছে; কারখানার অফিস-পার্টিশনের কাজও এখান থেকে আসে।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি আর নতুন ফ্ল্যাটের কাজ; ঢাকার ডিলার কাছে বলে মাল আনা সহজ।
- খুব উপযোগীসিলেট · প্রবাসী পরিবারের বাড়ি তৈরিতে দামি কাচ ও রঙিন প্রোফাইলের কাজ বেশি হয়, তাই প্রতি বর্গফুট দরও বেশি পাওয়া যায়।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের জেলার কাজও এখান থেকে ধরা যায়।
- সম্ভবকক্সবাজার · হোটেল ও রিসোর্টের কাজে কাচ-অ্যালুমিনিয়ামের বড় কাজ আসে, তবে কাজ মৌসুমি।
- সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কঘেঁষা বাজারে নতুন দোকান ও শোরুমের সামনের কাজ নিয়মিত আসে।
- সম্ভবখুলনা · শহর ও আশপাশে নতুন ফ্ল্যাটের কাজ আছে, কিন্তু মাল আনতে ঢাকা বা চট্টগ্রামের উপর নির্ভর করতে হয়।
- সম্ভবরাজশাহী · শহরে নতুন ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজ আছে, তবে দামি কাচের চাহিদা কম।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: এই কাজ নিজের পায়ে দাঁড়ায় না — নতুন ফ্ল্যাট, নতুন দোকান আর ঘর সাজানোর কাজ থাকলে তবেই কাজ আছে। এলাকায় নির্মাণ থেমে গেলে দোকান খোলা থাকে কিন্তু কাজ আসে না, অথচ ঘরভাড়া আর কারিগরের টাকা প্রতি মাসেই দিতে হয়।
- বেশিঅন্যান্য: মাপ ভুল হলে পুরো মাল লোকসান। কাটা অ্যালুমিনিয়াম প্রোফাইল ডিলার ফেরত নেয় না, আর টাফেন্ড কাচ বানানোর পর আর কাটা যায় না — এক ইঞ্চি ভুলে গোটা ফ্রেম আবার বানাতে হয়। একটা মাঝারি জানালার কাজে এক বর্গফুট ধরে ৳৪৭০–৭৫০ হিসাবে পুরো ফ্রেমের মালটাই নতুন করে কিনতে হয়।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: ঠিকাদার ও ডেভেলপারের কাজ বড় হয়, কিন্তু টাকা আসে বিল পাশের পর। ততদিনে পরের কাজের প্রোফাইল ও কাচ কেনার টাকা আটকে থাকে, আর একসঙ্গে দুটো বড় কাজের বিল আটকালে দোকান বসে যায়।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: মাল আমদানি-নির্ভর ব্র্যান্ডের প্রোফাইলে চলে। ডিলার দর বাড়ালে বা ব্র্যান্ডের নির্দিষ্ট রঙ-সেকশন শেষ হয়ে গেলে চলতি কাজ আটকে যায়, কারণ খদ্দেরকে যে ব্র্যান্ড ও রঙ বলে দর দেওয়া হয়েছে সেটাই দিতে হয়।
- মাঝারিচলতি মূলধন: প্রোফাইল বান্ডিল ধরে আর কাচ বড় শিটে কিনতে হয়, তাই কাজ পাওয়ার আগেই মাল কিনে রাখতে হয়। ছোট ছোট কাজ ধরলে কাটা টুকরা জমে, আর সেই জমা টুকরার টাকা মরা পুঁজি হয়ে বসে থাকে।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপজুতা তৈরির কারখানা
ছোট কারখানায় স্যান্ডেল ও জুতা বানিয়ে পাইকারের কাছে বিক্রি। স্যান্ডেল ৳২৫০–৭০০, চামড়ার জুতা ৳১,২০০। ভৈরবে ৩,৫০০–৫,০০০ কারখানায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজ করেন।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপখাতা তৈরির কারখানা
কাগজ কেটে, ভাঁজ করে, মলাট দিয়ে খাতা বানানো। অনলাইনে ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৳১৬৯ আর ১২০ পৃষ্ঠার ৳৭৫, অথচ এক বছরে কাগজের প্যাকেট ১০০–১৫০ টাকা বেড়েছে।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳৭ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপআগর-আতর উৎপাদন
আগরগাছের কাঠ ভিজিয়ে জ্বাল দিয়ে সুগন্ধি আতর নামানো। বড়লেখার সুজানগরে প্রায় ২৫০টি কারখানা, মানভেদে তোলাপ্রতি ৳৬,০০০–১০,০০০, আর প্রায় পুরোটাই রপ্তানি হয়।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ২,৫৫৫ – ১০,৯৫০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপকাঠের ফার্নিচার ওয়ার্কশপ
অর্ডার নিয়ে খাট-আলমারি-টেবিল বানানো। এমডিএফের খাট ৳১২,০০০ থেকে, পুরো সেগুনের কিং খাট ৳১,৮০,০০০ পর্যন্ত — কিন্তু কাঠ কিনতে হয় আগে, টাকা আসে ডেলিভারির পরে।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১২ লাখ
- জনবল
- ২ – ১০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
