মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

আগর-আতর উৎপাদন

আগরগাছের কাঠ ভিজিয়ে জ্বাল দিয়ে সুগন্ধি আতর নামানো। বড়লেখার সুজানগরে প্রায় ২৫০টি কারখানা, মানভেদে তোলাপ্রতি ৳৬,০০০–১০,০০০, আর প্রায় পুরোটাই রপ্তানি হয়।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
আগর-আতর উৎপাদন

আগর-আতর উৎপাদন

শুরুর পুঁজি
৳১,৫০,০০০ – ৳১০,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম বিক্রি
২,৫৫৫ – ১০,৯৫০ দিন
বিতর্কিত
খরচ উঠতে
৪ – ৬ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ওয়ার্কশপ · কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

আগরগাছের কাঠ থেকে জ্বাল দিয়ে সুগন্ধি তেল বা আতর নামানোর কাজ। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর গ্রাম এই কাজের আঁতুড়ঘর, আর ব্যবসায়ীদের সংগঠনের হিসাবে দেশের মোট আগর-আতরের ৯০ থেকে ৯৫ ভাগই বড়লেখাকে ঘিরে হয়। শুধু সুজানগরেই ছোট-বড় প্রায় ২৫০টি কারখানা, জেলার বাকি জায়গায় আরও প্রায় ৫০টি। কাজটা সোজা নয়। আগরগাছে এক ইঞ্চি পরপর লোহার পেরেক মেরে ক্ষত করা হয়, সেই ক্ষতের চারপাশে কালো রঙের কষ জমে, আর গাছ লাগানোর সাত-আট বছর পর তবেই সেই কাঠ কাজে আসে। কাঠ ছোট ফালি করে ১৫ দিন থেকে এক মাস ড্রামের পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়, তারপর স্টিলের ডেকচিতে অনবরত জ্বাল দিয়ে নল বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় আতর জমা হয়। একটা কারখানায় মাসে এক থেকে পাঁচ লিটারের বেশি তরল আতর হয় না। ২০২৪ সালের এপ্রিলে মানভেদে প্রতি তোলা আতর বিক্রি হতো ৳৬,০০০ থেকে ৳১০,০০০। এই আতরের প্রায় পুরোটাই বিদেশে যায় — সৌদি আরব, কুয়েত, ইউরোপ, জাপান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশের ভেতরে এর কোনো বাজার নেই বললেই চলে। কিন্তু ব্যবসাটা এখন চাপে আছে। ব্যবসায়ী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের হিসাবে এক সময় বছরে ১৫০ কোটি টাকার আগর-আতর রপ্তানি হতো, এখন তা ১০০ কোটির নিচে নেমেছে। কারণ তিনটি — গ্যাসের দাম, কাঁচামালের অভাব আর রপ্তানিতে কম প্রণোদনা। এই শিল্পে গ্যাস কিনতে হয় প্রতি ঘনফুট ৳৩০.৫০ দরে, আর সামাজিক বনায়নের আগরগাছের নিলাম বছরের পর বছর বন্ধ থাকায় কাঠ পাওয়াই মুশকিল।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৮০,০০০ – ৳৬,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৬,০০০ – ৳১০,০০০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩,৫০০ – ৳৫,৫০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪১.৭% – ৪৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়২,৫৫৫ – ১০,৯৫০ দিনবিতর্কিত
খরচ উঠে আসার সময়৪ – ৬ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১৫ – ৩০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৩% – ৮%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১ – ৫বাজারদর

শুরু করতে যা লাগবে

  • ভেজানোর ড্রাম, স্টিলের ডেকচি, পাতনের নল, কাঠ কাটার সরঞ্জাম আর গ্যাস সংযোগ। ২০২৫ সালের মার্চে এই শিল্পে গ্যাসের দাম ছিল প্রতি ঘনফুট ৳৩০.৫০।যন্ত্রপাতি
  • বন বিভাগের লাইসেন্স — সামাজিক বনায়নের আগরকাঠ কিনতে নিলামে অংশ নিতে হলে বন বিভাগের লাইসেন্স লাগে। ২০১৬ সালে ৩০–৪০ জন ব্যবসায়ী এই লাইসেন্স নিয়েছিলেন। ফি ও মেয়াদ যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
  • রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (ইআরসি) ও এনবিআর থেকে টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন — বিদেশে পাঠাতে হলে বাধ্যতামূলক। ফি যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে হয়।লাইসেন্স
  • কাঠ দেখে মান বোঝা, কালো রজনসমৃদ্ধ অংশ আলাদা করা ('পাছরানী'), আর জ্বালের তাপমাত্রা ধরে রাখা। এই তিনটির উপরেই আতরের মান ও পরিমাণ নির্ভর করে।দক্ষতা
  • আগরগাছ — ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান থেকে গাছ কেনা, অথবা বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের নিলাম। এপ্রিল ২০২৪-এ প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পরিপক্ব আগরকাঠ প্রতি কেজি ৳৮০,০০০–১,০০,০০০ আর সাধারণ কাঠ মানভেদে ৳২০০–১,০০০ দরে বিক্রি হতো।সরবরাহকারী
  • খোলা উঠান বা শেড, যেখানে গাছ ফালি করা যায় ও ড্রাম রাখা যায়; সঙ্গে জ্বাল দেওয়ার আলাদা ঘর। সুজানগরে অনেকের কারখানা বাড়ির উঠান-বারান্দাতেই।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1বড়লেখার সুজানগর, দক্ষিণভাগ, শাহবাজপুর বা কাঁঠালতলী এলাকায় গিয়ে দেখে আসুন কাজটা কীভাবে হয়। এখানকার কারিগরি দক্ষতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তৈরি — বই পড়ে শেখা যায় না।
  2. 2কাঁচামালের উৎস আগে ঠিক করুন। ব্যক্তিমালিকানাধীন আগরবাগান থেকে গাছ কেনা যায়, তবে সংখ্যায় কম। বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের আগরগাছ নিলামে ওঠে, আর সেই নিলামে অংশ নিতে বন বিভাগের লাইসেন্স লাগে।
  3. 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, আর এনবিআর থেকে টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন করে নিন — রপ্তানি করতে হলে এগুলো লাগবেই।
  4. 4রপ্তানির জন্য ইপিবি থেকে এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ইআরসি) নিন, আর ব্যাংকে রপ্তানির হিসাব খুলুন।
  5. 5বাংলাদেশ আগর অ্যান্ড আতর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বড়লেখা উপজেলা আগর-আতর ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ক্রেতা আর নিলামের খবর এখান দিয়েই আসে।
  6. 6কারখানা সাজান: কাঠ কাটার জায়গা, ভেজানোর ড্রাম, স্টিলের ডেকচি, পাতনের নল আর গ্যাসের সংযোগ। গ্যাসের বিল এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় চলতি খরচ।
  7. 7গাছ কেটে ফালি করে পেরেক খুলে কালো ও সাদা অংশ আলাদা করুন। এই বাছাইয়ের কাজকে স্থানীয় ভাষায় 'পাছরানী' বলে, আর এটাই পুরো উৎপাদনের ভিত্তি — ভুল বাছাই মানে কম আতর।
  8. 8টুকরোগুলো ১৫ দিন থেকে এক মাস ড্রামের পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, তারপর স্টিলের ডেকচিতে অনবরত জ্বাল দিন। নল বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় আতর নির্দিষ্ট পাত্রে জমা হবে।
  9. 9আতরের পাশাপাশি আগরকাঠ, চিপস, গুঁড়া আর বর্জ্যও আলাদা করে বিক্রি করুন। গাছের প্রায় প্রতিটি অংশেরই আলাদা ক্রেতা আছে।
  10. 10রপ্তানির প্রণোদনার জন্য ব্যাংকে আবেদন করুন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগর-আতর রপ্তানিতে ৮ শতাংশ প্রণোদনা নির্ধারণ করেছিল; চলতি বছরের হার আগেই ব্যাংক থেকে জেনে নিন।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চবেশি
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেবেশি
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেকম
  10. অক্টোকম
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীমৌলভীবাজার · বড়লেখা উপজেলার সুজানগর এই শিল্পের আঁতুড়ঘর; শুধু সুজানগরেই প্রায় ২৫০টি কারখানা, জেলার অন্যত্র আরও ৫০টি। ব্যবসায়ী সংগঠনের হিসাবে দেশের ৯০–৯৫ শতাংশ আগর-আতর এখান থেকেই আসে। 'মৌলভীবাজারের আগর' ও 'মৌলভীবাজারের আগর আতর' ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে।
  • সম্ভবঢাকা · উৎপাদন নয়, রপ্তানির দিক। ব্যাংকিং, ইআরসি, প্রণোদনার কাগজপত্র আর বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ ঢাকা থেকেই সহজ।
  • সম্ভবহবিগঞ্জ · পাহাড়ি ও টিলা জমিতে আগরগাছ ভালো হয়, আর মৌলভীবাজারের কারখানার কাছে হওয়ায় কাঠ সরবরাহ সহজ।
  • সম্ভবসিলেট · সিলেট বিভাগীয় বন কার্যালয়ের অধীনে সামাজিক বনায়নের আগরবাগান আছে, আর নিলামও এখান থেকেই হয়। কাঁচামালের কাছাকাছি থাকা সুবিধা।
  • সম্ভবঠাকুরগাঁও · সমতল জমিতে বাণিজ্যিক আগর চাষ শুরু হয়েছে; ঠাকুরগাঁও সদরের ইয়াকুবপুরে জৈব পদ্ধতিতে আগর তেল উৎপাদনের যন্ত্র বসেছে। তবে এখানে কারিগরি দক্ষতা নতুন।
  • কম উপযোগীদিনাজপুর · আগরের চাষ শুরু হয়েছে, তবে প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা নেই।
  • কম উপযোগীপঞ্চগড় · আগরগাছ লাগানো হচ্ছে, কিন্তু তেল নামানোর যন্ত্র না থাকায় গাছ কাজে আসছে না।
  • কম উপযোগীসুনামগঞ্জ · কিছু আগরবাগান আছে, তবে প্রক্রিয়াকরণের কারিগর ও কারখানা নেই বললেই চলে — কাঠ বড়লেখায় পাঠাতে হয়।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনির্ভরশীলতা: কাঁচামালের অভাবই এই ব্যবসার প্রধান বিপদ। ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান থেকে যত গাছ পাওয়া যায় তা চাহিদার তুলনায় সামান্য। বন বিভাগ সামাজিক বনায়নের আওতায় আগরবাগান করেছে, গাছও পরিপক্ব হয়েছে, কিন্তু বহু দিন ধরে নিলাম হচ্ছে না। ২০১৬ সালে বন বিভাগের উৎসাহেই ৩০–৪০ জন ব্যবসায়ী নিলামে অংশ নেওয়ার লাইসেন্স নিয়েছিলেন, অথচ নিলামই বসছে না। লাইসেন্স আছে, গাছ নেই — কারখানা তখন বসে থাকে।
  • বেশিঅন্যান্য: গ্যাসের দাম। আতর নামাতে হলে ডেকচি ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বালিয়ে রাখতে হয়, তাই গ্যাসই সবচেয়ে বড় চলতি খরচ। ২০২৫ সালের মার্চে এই শিল্পে প্রতি ঘনফুট গ্যাসের দাম ছিল ৳৩০.৫০, আর সরকার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা চা-শিল্পের মতো ঘনফুটপ্রতি ৳১১.৯৩ দর চেয়ে আসছেন। দাম বাড়লে ছোট কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দেয় — সুজানগরের একজন ব্যবসায়ী সেটা করেছেনও।
  • বেশিচাহিদা: দেশে এই পণ্যের কোনো বাজার নেই। আতর, আগরকাঠ, এমনকি বর্জ্যও পুরোটাই বিদেশে যায়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের একটি মৌসুম খারাপ গেলে বা একটি চালান আটকে গেলে পুরো গ্রামের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ী সংগঠনের হিসাবে বছরে ১৫০ কোটি টাকার রপ্তানি কয়েক বছরে ১০০ কোটির নিচে নেমেছে।
  • বেশিচলতি মূলধন: টাকা অনেক আগে ঢালতে হয়, ফেরত আসে অনেক পরে। গাছ কিনে ফালি করে ভেজাতে হয় ১৫ দিন থেকে এক মাস, তারপর জ্বাল, তারপর ক্রেতা খোঁজা, তারপর চালান। একেকটি রপ্তানি চালানে সুজানগরের একজন ব্যবসায়ী পান পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা, আর সারা বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার আতর রপ্তানি করেন — অর্থাৎ বছরে হাতে গোনা কয়েকটি চালানেই পুরো আয়। একটি চালান আটকালে বছরটাই আটকে যায়।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: আগরগাছ কাটা ও পরিবহন বন বিভাগের নিয়মের আওতায়। ২০১২ সালের আগর নীতিমালা অনুযায়ী সামাজিক বনায়নের আগরগাছ কাটতে হলে বন বিভাগ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায়, অর্থাৎ সিদ্ধান্তটা ব্যবসায়ীর হাতে নেই। কাগজপত্র ঠিক না থাকলে কাঠ আটক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে মৌলভীবাজারের সুজানগরের একজন আতর কারিগর

ঘনফুটে ২৬ থেকে ৩০ টাকা, মাসে গ্যাস বিলই ৩০ হাজার

সুজানগরের এই আতর চুল্লিতে মাসে তৈরি হয় প্রায় ১২ তোলা আতর, তোলা ৬,০০০ টাকা; অথচ শুধু গ্যাস বিলই মাসে ৩০,০০০ টাকা। চা-শিল্প যেখানে ঘনফুটে ১১.৯৩ টাকা দেয়, এখানে দিতে হয় ৩০ টাকা।

কারণ
নির্ভরশীলতা, আইনি জটিলতা
যা শিখেছিদ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার প্রতিবেদনে মৌলভীবাজারের বড়লেখার একজন আতর কারখানার মালিক

ফ্লাইট বন্ধ হতেই দুই কোটির রপ্তানি থেমে এক কোটি টাকার লোকসান

বড়লেখার সুজানগরের এই আগর-আতর কারখানা সাধারণ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করে। করোনায় মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ২০২০ সালে ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকা।

কারণ
নির্ভরশীলতা, চাহিদা কম

একই রকম আরও ব্যবসা

হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

জুতা তৈরির কারখানা

ছোট কারখানায় স্যান্ডেল ও জুতা বানিয়ে পাইকারের কাছে বিক্রি। স্যান্ডেল ৳২৫০–৭০০, চামড়ার জুতা ৳১,২০০। ভৈরবে ৩,৫০০–৫,০০০ কারখানায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজ করেন।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
জনবল
৪ – ২০ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

থাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম

অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ মেপে কেটে দরজা-জানালা-পার্টিশন বানিয়ে লাগানো। সাধারণ কাজের দর প্রতি বর্গফুট ৳৪৭০–৭৫০, আর মাপ ভুল হলে কাটা মাল ফেরত যায় না।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳৬ লাখ
জনবল
২ – ৬ জন
প্রথম আয়
২০ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

খাতা তৈরির কারখানা

কাগজ কেটে, ভাঁজ করে, মলাট দিয়ে খাতা বানানো। অনলাইনে ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৳১৬৯ আর ১২০ পৃষ্ঠার ৳৭৫, অথচ এক বছরে কাগজের প্যাকেট ১০০–১৫০ টাকা বেড়েছে।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳৭ লাখ
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

কাঠের ফার্নিচার ওয়ার্কশপ

অর্ডার নিয়ে খাট-আলমারি-টেবিল বানানো। এমডিএফের খাট ৳১২,০০০ থেকে, পুরো সেগুনের কিং খাট ৳১,৮০,০০০ পর্যন্ত — কিন্তু কাঠ কিনতে হয় আগে, টাকা আসে ডেলিভারির পরে।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳১২ লাখ
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম আয়
৩০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান