টার্কি পালন
২০১৫–২০২০ সালের হুজুগে প্রায় ৫ হাজার খামার হয়েছিল, এখন কয়েক শ। বাচ্চার দাম ৬০০ থেকে ১৫০ টাকায় নেমেছে আর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই পালন নিরুৎসাহিত করে।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

টার্কি পালন
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৩৩ – ৬০ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- খামার · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
টার্কি পাখি পালন করে মাংস ও বাচ্চা বিক্রি। এই পাতাটা ব্যবসা শুরু করার জন্য নয় — এটা একটা ভেঙে পড়া ব্যবসার হিসাব, যাতে ভুলটা আবার না হয়। ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সংবাদমাধ্যম, ফেসবুক আর ইউটিউবে টার্কি পালনের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে, আর সেই খবর শুনে কয়েক হাজার উদ্যোক্তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় টার্কি পালন শুরু করেন। একসময় দেশে প্রায় পাঁচ হাজার খামারে টার্কি পালন হতো। এখন সেই সংখ্যা কয়েক শতে নেমেছে। দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে দেখুন। শুরুর দিকে এক দিন বয়সী প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হতো ৫০০–৬০০ টাকায়, পরে তা নামে ১৫০ টাকায়। এক মাস বয়সী টার্কি ৭০০–৮০০ থেকে নেমে আড়াই শ টাকা। আর পূর্ণবয়স্ক টার্কি কেজিপ্রতি ২৫০–৩০০ থেকে নেমে দেড় শ টাকা। কারণটা সোজা — ক্রেতা তৈরি হয়নি। কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল হাসান বলেছেন, আমাদের দেশে টার্কির কোনো ভোক্তা চাহিদা তৈরি হয়নি, এ কারণে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসায় এগিয়ে আসেনি। পাঁচ-ছয় কেজির পাখি কেনার সামর্থ্য অনেক ক্রেতার ছিল না, আর কেটে মাংস বিক্রির চলও এ দেশে নেই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এখন টার্কি পালনের বিপক্ষে — মহাপরিচালক বলেছেন, টার্কির মাধ্যমে বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি বলে তাঁরা অনেক দিন ধরেই এটি নিরুৎসাহিত করে আসছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক একসময় টার্কি খামারিদের ঋণ দিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল; ব্যবসা সফল না হওয়ায় সেই ঋণপদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। কেউ যদি আজ আপনাকে টার্কির কথা বলে, জিজ্ঞেস করুন — গত মাসে কার কাছে, কত কেজি বিক্রি করেছেন।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১৫,০০০ – ৳৪০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৭৫০ – ৳১,৮০০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳১৫০ – ৳৬০০ / একক | বাজারদর | |
| মোট লাভের হার | ০% – ৬% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৩৩ – ৬০ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৩০ – ২৪০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ১০% – ২৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ০ – ১ | বাজারদর |
শুরু করতে যা লাগবে
- খাবার — বিএলআরআইয়ের ভাষ্যে খাদ্য খরচ অনেক বেশি, আর এটাই টার্কি পালন টেকসই না হওয়ার অন্যতম কারণ। খাবারের দর কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।শুরুর মাল
- উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে খামার নিবন্ধন ও পরামর্শ। এখানে একটি কথা আগেই জেনে রাখা দরকার: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রথম আলোকে বলেছেন, টার্কি মুরগির মাধ্যমে বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি, এ কারণে তাঁরা অনেক দিন ধরেই টার্কি পালন নিরুৎসাহিত করে আসছেন। নিবন্ধনের ফি বা শর্ত যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০।লাইসেন্স
- লালন-পালনের সঠিক পদ্ধতি। বিএলআরআইয়ের পোলট্রি উৎপাদন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাকিলা ফারুক বলেছেন, খামারিরা ঠিকভাবে টার্কির লালন-পালনের পদ্ধতি জানতেন না, আর বাজার নিয়েও তাঁদের কোনো ধারণা ছিল না।দক্ষতা
- ভ্যাকসিন ও পশুচিকিৎসা। বিএলআরআই বলেছে যথাযথভাবে ভ্যাকসিনেশন হচ্ছে না, আর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির কথা বলছে — অর্থাৎ ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।সরবরাহকারী
- বাচ্চার জোগান — বিএলআরআইয়ের ভাষ্যে বাচ্চার জোগান কমে গেছে। যে কয়েকটি খামার টিকে আছে তা গাজীপুর, নরসিংদী, সাভার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে।সরবরাহকারী
- খামারঘর ও চলাফেরার জায়গা। টার্কি পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, তবে পাখি বড় বলে জায়গাও বেশি লাগে। প্রতি পাখিতে কত জায়গা লাগে তা যাচাই করা যায়নি।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1আগে নিজের এলাকায় হিসাব নিন: গত এক মাসে কে টার্কি কিনেছে, কত কেজি, কত দামে। কাপ্তানবাজারের একজন ব্যবসায়ীর কাছে মাসে দুই-চারজন ক্রেতা আসেন — এই সংখ্যাটা আপনার এলাকায় কত, সেটাই সবচেয়ে জরুরি তথ্য।
- 2উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন তাঁরা টার্কি পালনে উৎসাহ দেন কি না। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, বার্ড ফ্লুসহ রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে তাঁরা অনেক দিন ধরেই টার্কি পালন নিরুৎসাহিত করে আসছেন। উত্তরটা শুনে তবেই এগোন।
- 3যিনি বিক্রি করতে বলছেন তাঁর হিসাবটা দেখুন। এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় বিক্রি হয়েছে বাচ্চার — খামারিরা তখন কোনো ধরনের সাত-পাঁচ না ভেবে ব্যাপকভাবে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বিক্রির প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। যিনি আপনাকে বাচ্চা বেচছেন, তিনি মাংস কোথায় বেচেন সেটা জিজ্ঞেস করুন।
- 4খাবারের খরচ আগে হিসাব করুন, বাচ্চার দাম নয়। বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেছেন খাদ্য খরচ অনেক বেশি, আর এটাই এই পালন টেকসই না হওয়ার অন্যতম কারণ। বাচ্চা ১৫০ টাকায় পাওয়া যায়, কিন্তু পাঁচ কেজি করতে যে খাবার লাগে সেটাই আসল অঙ্ক।
- 5ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। বিএলআরআই বলেছে বর্তমানে যথাযথভাবে ভ্যাকসিনেশন হচ্ছে না — অর্থাৎ ভ্যাকসিন কোথায় পাবেন তা আগে জেনে নিতে হবে, খামার তোলার পরে নয়।
- 6বাচ্চার জোগান কোথা থেকে হবে তা লিখিতভাবে ঠিক করুন। বিএলআরআই বলেছে বাচ্চার জোগান কমে গেছে; এখন গাজীপুর, নরসিংদী, সাভার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে খামার আছে।
- 7বিক্রির পথ শুধু অনলাইন — এটা ধরে নিয়েই পরিকল্পনা করুন। বর্তমানে টার্কির বেচাকেনা সীমাবদ্ধ শুধু অনলাইনে, আর ফেসবুক বা ইউটিউবেই বেশির ভাগ কেনাকাটা হয়। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের খামারি শিরিন আক্তার বলেছেন, আগে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারতেন, এখন যা বিক্রি হয় তা প্রায় সবই অনলাইনে।
- 8ধরে নিন ক্রেতা শৌখিন, নিয়মিত নয়। শিরিন আক্তারের ভাষায়, শখের বশেই বেশির ভাগ ক্রেতা টার্কি কেনেন। পোলট্রি বা ব্রয়লার মুরগির মতো টার্কির নিয়মিত কোনো ক্রেতা নেই — অর্থাৎ প্রতি মাসের বিক্রি আগে থেকে ধরা যায় না।
- 9ওজনের সমস্যাটা মাথায় রাখুন। পাঁচ-ছয় কেজির বেশি ওজনের টার্কি কেনার সামর্থ্য অনেক ভোক্তারই ছিল না, আর ডায়মন্ড এগের এমডি কায়সার আহমেদের ভাষায় কেটে মাংস বিক্রির চলও এ দেশে নেই। একটা পাখি বেচতে হলে একজন ক্রেতাকে একসঙ্গে বড় টাকা দিতে হয়।
- 10ঋণ নিয়ে এই ব্যবসায় নামবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংক একসময় টার্কি খামারিদের ঋণ দিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু টার্কি পালন বাণিজ্যিকভাবে সফল না হওয়ায় সেই ঋণপদ্ধতি বাতিল করা হয়। নিয়ন্ত্রক নিজেই যে পথ থেকে সরে এসেছে, সেখানে ঋণ নিয়ে ঢোকা যায় না।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- কম উপযোগীবগুড়া · টিকে থাকা খামারগুলোর একটি এলাকা; উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় ব্যাপারী পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
- কম উপযোগীচট্টগ্রাম · বহদ্দারহাট বাজারে একসময় টার্কি বিক্রি হতো; প্রতিবেদক গিয়ে ২০২৩ সালে কোনো টার্কি দেখতে পাননি।
- কম উপযোগীঢাকা · কাপ্তানবাজারে ২০১৬–২০১৯ সালে অনেক টার্কি বেচাকেনা হতো; এখন একজন ব্যবসায়ীর কাছে মাসে ২–৪ জন ক্রেতা আসেন। ঢাকার বড় বাজারগুলোতে এখন টার্কি বিক্রি হতে দেখা যায় না।
- কম উপযোগীগাজীপুর · যে কয়েকটি খামার বিচ্ছিন্নভাবে টিকে আছে তার একটি এলাকা; ঢাকার কাছে বলে অনলাইন ক্রেতার কাছে পৌঁছানো সহজ।
- কম উপযোগীনরসিংদী · টিকে থাকা খামারগুলোর আরেকটি এলাকা, তবে বাজার বলতে শুধু অনলাইন।
- কম উপযোগীসিরাজগঞ্জ · কাজীপুর উপজেলার খামারি শিরিন আক্তার ২০১৭ সাল থেকে টার্কি পালন করছেন; তিনি বলেছেন আগে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে পারতেন, এখন যা বিক্রি হয় তা প্রায় সবই অনলাইনে।
- কম উপযোগীসিলেট · লালবাজারে আগে প্রচুর টার্কি বিক্রি হতো, কিন্তু ২০২৩ সালে প্রতিবেদক সেখানে গিয়ে টার্কির দেখা পাননি।
- কম উপযোগীটাঙ্গাইল · বিচ্ছিন্নভাবে কিছু টার্কি খামার আছে; ব্যাপারীরা এসব খামার থেকে পাখি নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেন।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: ভোক্তা চাহিদাই তৈরি হয়নি, আর এটাই পুরো ব্যবসাটা ভেঙে দিয়েছে। কাজী ফার্মস গ্রুপের এমডি কাজী জাহেদুল হাসান: আমেরিকা ও ইউরোপে টার্কির অনেক চাহিদা রয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে টার্কির কোনো ভোক্তা চাহিদা তৈরি হয়নি, এ কারণে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান এ ব্যবসায় এগিয়ে আসেনি। ২০১৯ সাল থেকে চাহিদায় ভাটা পড়ে, আর করোনার পর বাজার একদমই কমে যায়। ঢাকাসহ দেশের বড় বাজারগুলোতে এখন টার্কি বিক্রি করতে দেখা যায় না।
- বেশিচাহিদা: দাম ধসে পড়েছে, আর সেটা সব ধাপে। এক দিন বয়সী বাচ্চা ৫০০–৬০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকায়; এক মাস বয়সী ৭০০–৮০০ থেকে আড়াই শ টাকায়; পূর্ণবয়স্ক টার্কি কেজিপ্রতি ২৫০–৩০০ থেকে দেড় শ টাকায়। একসময় দেশে প্রায় পাঁচ হাজার খামারে টার্কি পালন হতো, এখন সেই সংখ্যা কয়েক শতে নেমেছে।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিয়ন্ত্রক সংস্থাই বিপক্ষে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক তালুকদার বলেছেন, টার্কি মুরগির মাধ্যমে বার্ড ফ্লুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি, এ কারণে তাঁরা অনেক দিন ধরেই টার্কি পালন নিরুৎসাহিত করে আসছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও টার্কি খামারিদের জন্য করা ঋণপদ্ধতি বাতিল করেছে। সরকারি সহায়তা বা ঋণের উপর ভরসা করার সুযোগ এখানে নেই।
- বেশিনির্ভরশীলতা: বিক্রি শুধু অনলাইনে, আর ক্রেতা শৌখিন। বর্তমানে বেচাকেনা সীমাবদ্ধ শুধু অনলাইনে; ফেসবুক বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মেই বেশির ভাগ কেনাকাটা হয়। কাপ্তানবাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেছেন, ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত অনেক টার্কি বেচাকেনা হতো, বর্তমানে মাসে হয়তো ২–৪ জন ক্রেতা আসেন। পোলট্রি বা ব্রয়লারের মতো নিয়মিত ক্রেতা টার্কির নেই।
- বেশিচলতি মূলধন: খাদ্য খরচ বেশি অথচ বিক্রির দাম নিচে। বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাজেদুল করিমের মূল্যায়নে এক হাজার টার্কি যথাযথ প্রক্রিয়ায় পালন করলে সব খরচ বাদ দিয়ে মাসে ৬৮ হাজার টাকা লাভ থাকত — কিন্তু তিনি নিজেই বলেছেন বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন আর তা লাভজনক হচ্ছে না, বাচ্চার জোগান কমেছে, ভ্যাকসিনেশন ঠিকমতো হচ্ছে না আর খাদ্য খরচ অনেক বেশি পড়ছে। যাত্রাবাড়ীর আবদুর রউফ লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করে ২০২১ সালে লোকসানের মুখে ব্যবসা বন্ধ করে দেন।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
আড়াই লাখের টার্কি খামার এক বছরেই বন্ধ
২০১৯ সালের শুরুতে প্রায় ২,৫০,০০০ টাকায় ৭০টি বাচ্চা নিয়ে শুরু; সপ্তাহে ৪০–৫০টি ডিম যেত ডজন ৪০০ টাকায়। ক্রেতা ছিলেন শুধু নতুন খামারিরা, আর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে খামার বন্ধ।
- পুঁজি
- ৳২.৫ লাখ
- কারণ
- চাহিদা কম, দাম পড়ে যাওয়া
একই রকম আরও ব্যবসা
কৃষি ও খামারপান বরজ
বাঁশ ও ছনের বরজে পান চাষ। বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় ৳১ লাখ, আর রাজশাহীতে ৬৪ পাতার এক বিড়া ৳১০০–১২০ থেকে নেমে ৳৪ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১২০ – ১৮০ দিন
কৃষি ও খামারআগর চাষ
আগর গাছ লাগিয়ে কাঠে পেরেক মেরে আগর জমানো, তারপর সেই কাঠ থেকে আতর। কিন্তু প্রথম টাকা আসে ৮ থেকে ১৬ বছর পর, আর রপ্তানি করতে বন অধিদপ্তরের সাইটিস অনাপত্তি সনদ লাগে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ২,৫৫৫ – ৫,৮৪০ দিন
কৃষি ও খামারসমতলের চা চাষ
সমতল জমিতে চা লাগিয়ে কাঁচা পাতা তুলে কারখানায় নগদে বিক্রি। মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত দর কেজি ৳২৮, বাজারে ৳৩৪–৩৫; তবে ওজন থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কাটা যায়।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ৭৩০ – ১,০৯৫ দিন
কৃষি ও খামারপুকুরে মাছ চাষ
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে পুকুরে হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ৪.৯৬ টন — ময়মনসিংহে ১২.৭২ টন আর রাঙ্গামাটিতে ২.০১ টন। জেলা বদলালেই আয় বদলে যায়।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৬ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ২৪০ – ৩৬৫ দিন
