২২ শ্রমিকের কাজু কারখানা দুই মাসেই বন্ধ, কাঁচা বাদাম নেই
পাবনার ঈশ্বরদীতে দিনে ২৫০ কেজি সক্ষমতার কাজু প্রক্রিয়াজাত কারখানা খোলার দুই মাসের মাথায় কাঁচা কাজু না পেয়ে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়; সীমিত পুঁজিতে সারা বছরের কাঁচামাল মজুত করতে পারেননি উদ্যোক্তা।
২০২১ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে একজন উদ্যোক্তা কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি কারখানা স্থাপন করেন। ২২ জন দক্ষ শ্রমিক নিয়ে কারখানাটির দৈনিক ২৫০ কেজি কাজু প্রস্তুতের সক্ষমতা ছিল। কিন্তু চালুর মাত্র দুই মাস পর কাঁচা কাজুর সরবরাহ না থাকায় তাঁকে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তাঁর পুঁজি সীমিত; কাঁচা কাজু কিনে সারা বছর মজুত রাখতে পারেন না, আর অভ্যন্তরীণ বাজারে তখন কাঁচা কাজু পাওয়াই যাচ্ছিল না। কারখানা বন্ধ থাকলেও স্থায়ী শ্রমিকদের বেতন আর কারখানার ভাড়া দিতে হচ্ছে — তাই তিনি লোকসানে।
একই সময়ে বান্দরবান, গাজীপুর ও নীলফামারীর আরও কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয় বা বন্ধের পথে ছিল। কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পেতে রপ্তানিকারকেরা কাঁচা কাজু ভারত ও ভিয়েতনামে পাঠাচ্ছিলেন, আর আমদানিতে ৩৭.৫ শতাংশ শুল্কের কারণে বিদেশ থেকে কাঁচা কাজু আনলে কেজিপ্রতি খরচ দেশি বাদামের প্রায় দ্বিগুণ পড়ে। এক কেজি প্রস্তুত কাজুর জন্য ৬ থেকে ৭ কেজি কাঁচা বাদাম লাগে, তাই কাঁচামালের দামই এই ব্যবসার মূল হিসাব।
যা শেখার আছে
- ১.মৌসুমি কাঁচামালের ব্যবসায় মৌসুমেই সারা বছরের মাল কেনার পুঁজি না থাকলে কারখানা বছরের বড় অংশ বসে থাকবে।
- ২.কারখানা বন্ধ থাকলেও ভাড়া আর স্থায়ী বেতন চলতে থাকে — শুরুর আগে এই স্থির খরচ কয়েক মাস টানার টাকা রাখুন।
- ৩.রপ্তানি প্রণোদনা বা শুল্কের মতো সরকারি নীতি কাঁচামালের জোগান বদলে দিতে পারে; শুরুর আগে তা খোঁজ নিন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
