বান্দরবানের কারখানায় মাসে ৪ টন কাজু, প্যাকেটে কেজি ১,৩০০ টাকা
পাহাড়ের কাঁচা কাজু স্থানীয়ভাবে কিনে নয় ধাপে প্রক্রিয়া ও প্যাকেট করে সারা দেশে বিক্রি করছে বান্দরবানের একটি মাঝারি কারখানা; কাঁচামালের নিশ্চয়তায় বাগানিদের সঙ্গে চুক্তি করছে তারা।
বান্দরবান শহরের পশ্চিম বালাঘাটায় পাঁচ বছর আগে একটি কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করে একটি স্থানীয় কৃষিভিত্তিক কোম্পানি। প্রথম আলো ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখানে গিয়ে দেখে, ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন, যাঁদের বেশির ভাগ নারী। বাগান থেকে আনা কাঁচা কাজু রোদে শুকানো, ছোট-বড় দানা আলাদা করা, ব্রয়লারে সেদ্ধ, ঠান্ডা করে খোসা ছাড়ানো, কাটা, বাছাই ও প্যাকেজিং — মোট নয়টি ধাপ পেরিয়ে বাদাম বাজারে যায়।
কারখানায় দৈনিক প্রায় ২০০ কেজি বাদাম প্রক্রিয়া হয়; ব্যবস্থাপকের হিসাবে মাসে গড়ে চার টন। খোসা ছাড়ানোর নারী শ্রমিকেরা দিনে ২০০ টাকা পান; কাটার কাজে প্রতি কেজি ৬ টাকা, দিনে ৫০ কেজি কাটলে ৩০০ টাকা। কাজুর অ্যাসিড চামড়ায় লাগলে ফোসকা পড়ে — কাজটা কঠিন। বড় দানা কম পাওয়া যায় বলে বেশির ভাগ বাদাম হাতে চালানো যন্ত্রে কাটা হয়।
নিজেদের নামে প্যাকেট করা এই কাজু পাইকারি কেজি ১,২০০ টাকা ও খুচরা ১,৩০০ টাকায় সারা দেশে বিক্রি হয়। কারখানা বড় করতে তারা বাগানিদের সঙ্গে চুক্তি করে কাঁচামালের জোগান বাড়ানোর চেষ্টা করছে — এতে বাগানি বাজার পান, কারখানাও জোগানের নিশ্চয়তা পায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মতে, এতে আমদানি-নির্ভরতা কমছে।
যা শেখার আছে
- ১.কাঁচামালের উৎসের কাছে কারখানা বসালে পরিবহন খরচ কমে এবং স্থানীয় চাষির কাছ থেকে সরাসরি কেনা যায়।
- ২.মৌসুমি কাঁচামালে চলা ব্যবসায় চাষিদের সঙ্গে আগাম চুক্তি জোগানের নিশ্চয়তা দেয়।
- ৩.কাজের ধাপ ও শ্রমিকের মজুরি (দৈনিক বা কেজিপ্রতি) আগে থেকে হিসাব করলে প্যাকেটের দাম ঠিক করা সহজ হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
