ঘূর্ণিঝড়ে ৭৪ লাখের ক্ষতির পর চন্দ্রমল্লিকার চারায় বছরে লাভ ১৮ লাখ
যশোরের ঝিকরগাছার এক ফুলচাষি ধান-পাট ছেড়ে ২০০১ সালে এক বিঘায় গোলাপ-ডালিয়া দিয়ে শুরু করেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে শেড নষ্ট হয়ে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার ক্ষতির পর চন্দ্রমল্লিকার চারায় মনোযোগ দিয়ে এখন বছরে প্রায় ১৮ লাখ টাকা লাভ করেন।
যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামের এই চাষি একসময় ধান ও পাট করতেন, খরচ তুলতেই হিমশিম খেতেন। ২০০১ সালে এক বিঘা জমিতে—১০ কাঠায় গোলাপ, ১০ কাঠায় ডালিয়া—ফুল চাষ শুরু করেন। ২০০৮ সালে জারবেরার কথা ভাবেন, পরে পিকেএসএফের আর্থিক সহায়তায় ডাচ গোলাপ, জারবেরা ও কার্নেশন চাষে সাফল্য পান।
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ছয় বিঘার শেড নষ্ট হয়ে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়, তিনি নিঃস্ব হয়ে যান। খেতে থাকা ডাচ গোলাপ ও কার্নেশনের চারা বিক্রি করে আবার শুরু করেন, এবার চন্দ্রমল্লিকায়। প্রায় ৩০০ জাত পরীক্ষা করে দেখেন, অনেক জাতে ফুল ধরলে গাছ নুয়ে পড়ে, বাঁশের খুঁটি লাগে, খরচ বাড়ে। তাই পুনে থেকে আনা যে জাতের গাছ হেলে পড়ে না, সেটিতে মনোযোগ দেন। ২০২২ সালে টিউলিপও চাষ করেছিলেন, তাতে তেমন লাভ হয়নি।
এখন পাঁচ বিঘার পাঁচটি শেডে মাদার প্ল্যান্ট রেখে সারা দেশের নার্সারিতে চারা পাঠান। তাঁর হিসাবে, চন্দ্রমল্লিকার উৎপাদন খরচ আড়াই টাকা, বিক্রি পাঁচ টাকা; অন্য ফুলে লাভ ২০–২৫ শতাংশ। বছর শেষে খরচ বাদে প্রায় ১৮ লাখ টাকা লাভ থাকে বলে জানান।
যা শেখার আছে
- ১.শেড ও বাগানে বড় বিনিয়োগ ঝড়ে এক রাতে শেষ হতে পারে; সব পুঁজি এক জায়গায় না রেখে চারা বা মাদার প্ল্যান্টের মতো দ্রুত বিক্রিযোগ্য সম্পদ রাখা কাজে দেয়।
- ২.জাত বাছাইয়ে খরচের হিসাব করুন: যে গাছে খুঁটি লাগে না, তাতে শ্রম ও উপকরণ দুটোই কম।
- ৩.ফুলের চেয়ে চারা বিক্রিতে মার্জিন বেশি হতে পারে, যদি নিজেই উৎপাদন করেন এবং দেশজুড়ে নার্সারির সঙ্গে যোগাযোগ থাকে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
