গাছ থেকে পড়ে চলাফেরা হারিয়ে ২০২২ সালে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; এখন ৪-৫ জন কর্মী
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আম পাড়তে গিয়ে পড়ে কোমরের নিচের অংশ অচল হয়ে যাওয়া এক যুবক হুইলচেয়ারে বসে কম্পিউটার শিখে উপজেলা পরিষদের গেটের পাশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলেন। সেখানে এখন প্রশিক্ষণ, কম্পোজ, ডিজিটাল সেবা ও যন্ত্র মেরামত একসঙ্গে চলে, কাজ করেন চার-পাঁচজন।
২০২১ সালের ৮ জুন আম পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার এক যুবকের (বয়স ৩২) কোমরের নিচের অংশ চিরতরে অচল হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, তিনি আর হাঁটতে পারবেন না। এইচএসসি পাসের পর ২০১৪ সালে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পে নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জীবিকার খোঁজ থামেনি। এক বছরের চিকিৎসা শেষে তিনি নতুন করে কিছু শুরুর সিদ্ধান্ত নেন এবং হুইলচেয়ারে বসেই কম্পিউটারের নানা কাজ শেখেন। ২০২২ সালে উপজেলা পরিষদের গেটের পাশে তিনি ‘ডিজিটাল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। উপজেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর নিজস্ব কম্পিউটারভিত্তিক ব্যবসাও চলে। সেখানে কম্পোজসহ ডিজিটাল সেবা গ্রাহকের চাহিদা মতো দেওয়া হয়, আবার কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টার সার্ভিসের কাজও হয়। প্রশিক্ষণ তিনি নিজ হাতে দেন। এ কাজে তিনি এলাকায় সুনাম পেয়েছেন। এখন প্রতিষ্ঠানে চার-পাঁচজন কর্মচারী কাজ করেন। প্রতিবন্ধী এক যুবক সেখানে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তাঁকে নানা সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সমাজসেবা কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে পুঁজি বা আয়ের কোনো অঙ্ক নেই।
যা শেখার আছে
- ১.একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ, কম্পোজ ও ডিজিটাল সেবা এবং কম্পিউটার-প্রিন্টার সার্ভিস একসঙ্গে চালালে আয়ের উৎস একটির বেশি থাকে।
- ২.আগের কাজের অভিজ্ঞতা (এখানে উপজেলা পরিষদে টেকনিশিয়ানের কাজ) নতুন ব্যবসার পুঁজি হতে পারে।
- ৩.উপজেলা পরিষদের গেটের পাশে হওয়ায় সেবা নিতে আসা মানুষের কাছে পৌঁছানো সহজ হয়; স্থানীয় সরকারি দপ্তরের সহায়তাও কাজে লাগে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
