ঢাকা ড্রায়ারে দফায় ৫০০ কেজি শুঁটকি, তবু বিদ্যুৎ খরচে ব্যবসা বন্ধ
২০১৯ সালে কক্সবাজারে কয়েক বন্ধু বৈদ্যুতিক ড্রায়ারে স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি বানানো শুরু করেন; কিন্তু বিদ্যুৎ খরচে উৎপাদন ব্যয় বেশি পড়ায় খোলা মাঠের শুঁটকির সঙ্গে দামে না পেরে ২০২৩ সালে বন্ধ করেন।
২০১৯ সালে কক্সবাজারে কয়েকজন বন্ধু মিলে শুঁটকির ব্যবসা শুরু করেন, যেখানে খোলা মাঠে না শুকিয়ে তাঁরা একটি বৈদ্যুতিক ড্রায়ার ব্যবহার করতেন। ড্রায়ারের চেম্বারে এক দফায় ৫০০ কেজি পর্যন্ত মাছ শুকানো যেত। ঢাকা ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকায় শুকানোর সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকত, গন্ধও ছড়াত না।
কিন্তু সমস্যা ছিল খরচে। উদ্যোক্তাদের একজন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, খোলা মাঠে শুকানো প্রথাগত শুঁটকি উৎপাদকদের সঙ্গে বাজারে তাঁরা কখনো পেরে ওঠেননি, কারণ জ্বালানির খরচে তাঁদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যেত। ফলে ২০২৩ সালে তাঁরা শুঁটকির ব্যবসা থামিয়ে ফল শুকানো ও হিমায়িত করার কাজে যান।
সেখানেও ফল আশাব্যঞ্জক হয়নি। আনারস শুকিয়ে ভালো শেলফ লাইফ পেলেও বাজারের সাড়া হতাশাজনক — তাঁর ভাষায়, মৌসুমে যখন তাজা ফল সস্তায় পাওয়া যায়, তখন কেউ শুকনা ফল খেতে চায় না। একই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক জানান, বাজারে শিল্প ড্রায়ারের দাম ৬০ হাজার টাকা থেকে কয়েক লাখ টাকা; বিদ্যুৎ বিল বাদ দিলেও প্রাথমিক দামই অনেক উদ্যোক্তার নাগালের বাইরে।
যা শেখার আছে
- ১.ড্রায়ার মান বাড়ায়, কিন্তু কেজিপ্রতি বিদ্যুৎ খরচ ধরে দেখুন বাজারদরে পোষায় কি না — না পোষালে সৌরশক্তির মতো কম খরচের বিকল্প ভাবুন।
- ২.উন্নত মানের শুঁটকির জন্য বেশি দাম দেবে এমন ক্রেতা আগে খুঁজে নিন; সাধারণ বাজারে সস্তা শুঁটকির সঙ্গে দামে লড়া কঠিন।
- ৩.নতুন পণ্যে (শুকনা ফল) যাওয়ার আগে ছোট পরিসরে চাহিদা যাচাই করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
