৪ লাখে ৫ বিঘায় শুরু, প্রথম বছরেই ৭ লাখ লাভ; ৩১ বিঘায় এসে এ বছর বৃষ্টিতে ফলন মার খেয়েছে
সাতক্ষীরার এক তরুণ ২০১২ সালে ৫ বিঘা লিজ নিয়ে কুল চাষ শুরু করেন এবং ধাপে ধাপে ৩১ বিঘায় পৌঁছান। এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফলন ভালো না হওয়ায় লাভ নিয়ে তিনি সংশয়ে।
সাতক্ষীরা সদরের তুজুলপুরের এক তরুণ ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে নামেন। ২০১২ সালে অন্যের কাছ থেকে ৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে বল আপেল, থাই আপেল ও টক কুল লাগান; মোট পুঁজি ছিল ৪ লাখ টাকা। ওই বছরই প্রায় ১১ লাখ টাকার কুল বিক্রি করে খরচ বাদে প্রায় ৭ লাখ টাকা লাভ করেন। সেখানে সাত বছর চাষ করে ধীরে ধীরে বাগান বাড়ান। গত বছর ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বিহারীনগরে ২৯ বিঘা লিজ নিয়ে তিনি ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ করেন; কুল বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার, আর গত বছর লাভ হয়েছিল ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। এ বছর তিনি ৩১ বিঘায় কুল, ৬ বিঘায় ড্রাগন ও ৫ বিঘায় সাদা মাছ চাষ করেছেন, সব মিলিয়ে খরচ ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এবার কুলের ফলন তেমন ভালো হয়নি, তাই লাভ নিয়ে তিনি অনেকটা সংশয়ে আছেন। তাঁর কৃষিকাজে এখন ৩৫ থেকে ৪০ জন মানুষ কাজ করেন। তাঁকে দেখে এলাকার অনেক বেকার তরুণ কুল চাষ শুরু করেছেন। সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বলেন, সাতক্ষীরার বেলে দোঁআশ মাটি ও নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু কুল চাষের উপযোগী, আর তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট জমি লিজ নিয়ে শুরু করে লাভ দেখে জমি বাড়ানো যায়; তবে জমি বাড়লে খরচ আর আবহাওয়ার ঝুঁকিও সমান হারে বাড়ে।
- ২.অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফলন মার খায়; বাগানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা আগে থেকে রাখুন।
- ৩.কুলের সঙ্গে ড্রাগন ও মাছ চাষ যোগ করলে এক ফসলের ওপর নির্ভরতা কমে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
