শখের মাছশিকারিদের জন্য ২০১৪ সালে মহাখালীতে বড়শি-হুইলের দোকান; ফেসবুকে সারা দেশের ক্রেতা, তবে কম বৃষ্টিতে ভরা মৌসুমেও বিক্রি মন্দা
ছোটবেলা থেকে মাছ ধরার শখ থেকে তিন ভাই ২০১৪ সালে ঢাকার মহাখালীতে একটি চীনা ব্র্যান্ডের মাছ ধরার সরঞ্জামের দোকান খোলেন, পরে এলিফ্যান্ট রোডে আরেকটি শোরুম হয়। ফেসবুক ও ইউটিউবে সারা দেশ থেকে ক্রেতা আসে, তবে কম বৃষ্টির বছরে এপ্রিল-অক্টোবরের মৌসুমেও ব্যবসা ভালো যায়নি।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রমপুরের গ্রামে বাবার সঙ্গে মাছ ধরে বড় হওয়া এক ব্যক্তি ভালো মানের বড়শি ও হুইল খুঁজতে খুঁজতে মাছ ধরার সরঞ্জামের ডিলার হয়ে যান। তিনি দেখেন দেশের শখের মাছশিকারিদের মধ্যে একটি চীনা ব্র্যান্ডের পণ্যের বেশ আগ্রহ; ভাইদের পরামর্শে আধুনিক সরঞ্জাম আমদানি শুরু করেন এবং দুই ভাইয়ের সাহায্যে ২০১৪ সালে মহাখালীতে দোকান খোলেন। দোকান খোলার আগে তাঁরা যাঁর কাছ থেকে সরঞ্জাম কিনতেন, ২১ বছর এই ব্যবসায় থাকা সেই ব্যক্তিই এখন শোরুমের ব্যবস্থাপক। শুরুতে শুধু বড়শির ছিপ ও হুইল ছিল; ধীরে ধীরে যোগ হয় বড়শি, সুতা, জাল, সুইভেল, ট্যাকল বক্স, তাঁবু, মাছ ধরার নৌকা। গ্রাম থেকে পিঁপড়ার ডিম এনে ফ্রিজে রেখে মৌসুমভেদে কেজি ১,২০০-১,৫০০ টাকায় টোপ হিসেবে বেচেন। হুইল ১,২০০-৩,০০০ টাকা, ছিপ ৫০০-২,৮০০ টাকা, সুতা ১৫০-৪০০ টাকা, বড়শি ১০-৬০ টাকা। মহাখালীর পাশাপাশি এলিফ্যান্ট রোডেও শোরুম আছে। ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সারা দেশ থেকে ক্রেতা আসে; কুড়িগ্রামের এক বৃদ্ধ ছাগল বেচে ছিপ-হুইল কিনে নিয়ে গেছেন। অনেকে জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীতে উপহার হিসেবেও সরঞ্জাম কেনেন। বর্ষাকাল মাছ ধরার সেরা সময়, তাই এপ্রিল থেকে অক্টোবর বিক্রি ভালো হয়; কিন্তু প্রতিবেদনের বছরে বৃষ্টি কম হওয়ায় জলাশয়ে পানি কম ছিল, ভরা মৌসুমেও ব্যবসা ভালো যায়নি। টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিজেদের তিনটি মৎস্য খামারে তাঁরা 'ফিশ অ্যান্ড প্লে' চালু করেছেন, যেখানে সারা দিনের ফি ৩০০ টাকা। তবে তাঁর মতে, জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া ও কারেন্ট জালের কারণে মাছ ধরার সুযোগ কমছে।
যা শেখার আছে
- ১.মাছ ধরার সরঞ্জামের বিক্রি বৃষ্টি ও জলাশয়ের পানির ওপর নির্ভর করে; এপ্রিল-অক্টোবরের মৌসুমের আয় দিয়ে সারা বছরের খরচ সামলানোর হিসাব রাখুন।
- ২.ফেসবুক ও ইউটিউবে ভিডিও দিলে দূরের জেলার শখের মাছশিকারিরাও ক্রেতা হন।
- ৩.অভিজ্ঞ সরবরাহকারী বা লোককে সঙ্গে নিলে শুরুতে ভুল কম হয়; এই দোকানের ব্যবস্থাপক আগে তাঁদের সরবরাহকারী ছিলেন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
