২ লাখ ২০ হাজার টাকায় বাড়িতে নুডলস কারখানা, প্রথম রোজায় সাড়ে ৫ লাখের লাচ্ছা
চট্টগ্রামের এক উদ্যোক্তা ১৯৯৮ সালে বাড়ির ৬০০ বর্গফুটে নুডলস মেশিন বসান, পরে ছাদে লাচ্ছা সেমাই। প্রথম রোজায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার বিক্রিতে মুনাফা ৫০ হাজার; রোজার পর চানাচুর ধরে কারখানা চালু রাখেন।
চট্টগ্রামের পাথরঘাটার এক তরুণ শেয়ারবাজারে সঞ্চয়ের বড় অংশ হারানোর পর বড় চাচার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়ে পুরান ঢাকার নারিন্দা থেকে নুডলস তৈরির মেশিন কিনে বাড়িতে বসান; সব মিলিয়ে বিনিয়োগ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, সাল ১৯৯৮। বাসার ৬০০ বর্গফুটে কারখানা, কাজ করতেন তিনি, তাঁর ভাই আর তিনজন শ্রমিক; বাবার ব্যবসার বিক্রয় প্রতিনিধিরা পণ্য বিক্রিতে সাহায্য করতেন। এক ব্যবসায়ীর পরামর্শে ছাদে লাচ্ছা সেমাই শুরু করেন। বাজারের লাচ্ছা তখন তৈলাক্ত ছিল, তাই তাঁরা ড্রায়ারে শুকিয়ে নিতেন, তাতে সাড়া মেলে। প্রথম রোজায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার লাচ্ছা বিক্রি হয়, সব খরচ বাদে মুনাফা ৫০ হাজার টাকা। রোজার পর চাহিদা কমে গেলে কারখানা বন্ধ না রেখে চানাচুর বানানো শুরু করেন; পিপি ব্যাগে সাড়া না পেয়ে প্লাস্টিকের জারে ব্র্যান্ড করে বিক্রি বাড়ে। ধীরে ধীরে পণ্য বাড়িয়ে পরে রপ্তানিতে যান; প্রতিবেদনের সময় তিন কারখানায় ৫০০–৫৫০ শ্রমিক কাজ করতেন এবং আগের বছর রপ্তানি ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকার।
যা শেখার আছে
- ১.সেমাইয়ের বিক্রি রোজাকেন্দ্রিক; বছরের বাকি সময় একই কারখানা ও শ্রমিক দিয়ে অন্য পণ্য (যেমন চানাচুর, নুডলস) বানালে খরচ বসে থাকে না।
- ২.বাজারের পণ্যে একটা স্পষ্ট দুর্বলতা (তৈলাক্ত লাচ্ছা) ধরে তা ঠিক করা ছোট কারখানার জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
- ৩.খোলা ব্যাগে সাড়া না পেলে প্যাকেজিং ও ব্র্যান্ডিং বদলে দেখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
