৮০ হাজার টাকা পুঁজিতে স্টেশনে জার্সির দোকান: দুই মাসে বিক্রি প্রায় ৪ লাখ, লাভ ৪৫ হাজার
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী বিশ্বকাপ উপলক্ষে ১৩টি জার্সি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশনে বিক্রি শুরু করেন। বিক্রির টাকা আবার খাটিয়ে প্রায় দুই মাসে প্রায় ৪০০ জার্সি বিক্রি করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, দুজনেই লক্ষ্মীপুরের, ঈদুল ফিতরের পর বন্ধুদের আড্ডায় ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে জার্সি বিক্রির কথা তোলেন। পরিচিত এক সিনিয়রের কাছ থেকে ১৩টি জার্সি নিয়ে মে মাসের শেষ সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে দুটি স্ট্যান্ড আর দুটি টেবিল নিয়ে ছোট্ট দোকান দেন। চাহিদা থাকায় আরও বিনিয়োগ করেন; মোট শুরুর বিনিয়োগ প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এরপর বিক্রির অর্থ আবার খাটিয়ে ধাপে ধাপে নতুন জার্সি আনেন। প্রায় দুই মাসে তাঁরা প্রায় ৪০০টি জার্সি বিক্রি করেছেন, সব মিলিয়ে বিক্রি প্রায় ৪ লাখ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে লাভ ৪৫ হাজার টাকা, আর হাতে এখনো প্রায় ২৫ হাজার টাকার জার্সি আছে। বিক্রি হচ্ছে বেশি আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স ও ব্রাজিলের জার্সি। শুরুতে উচ্চমানের জার্সি রাখলেও পরে শিক্ষার্থীদের ক্রয়ক্ষমতা বুঝে কম দামের কিছু যোগ করেন; এখন দামের তিনটি ক্যাটাগরিতে বিক্রি করেন। ঈদুল আজহায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ফুটপাতেও বিক্রি করেছেন। অনলাইনে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেতাদেরও জার্সি দিচ্ছেন। তাঁরা বলেন, ব্যবসা থেকে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ, ক্রেতার সঙ্গে আচরণ ও বাজার বোঝার অভিজ্ঞতা হয়েছে; ভবিষ্যতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ব্যবসা বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
যা শেখার আছে
- ১.মৌসুমি চাহিদার (বিশ্বকাপ) আগে অল্প মাল দিয়ে শুরু করে বিক্রি দেখে মূলধন বাড়ানো নিরাপদ।
- ২.ক্রেতা শিক্ষার্থী হলে তাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী দামের একাধিক ক্যাটাগরি রাখুন।
- ৩.মৌসুম পেরোলে অবিক্রিত মজুত পড়ে থাকার ঝুঁকি আছে; বিক্রির টাকা তুলে নিয়ে মজুত কম রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
