মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

খেলাধুলার সামগ্রীর দোকান

ব্যাট, বল, জার্সি ও র‍্যাকেটের খুচরা দোকান। বাচ্চাদের ব্যাট ৳১০৯–৫১১, ইংলিশ উইলো ৳২,২৫০–৩,১৯০, ফুটবল ৳৪৮৪–১,২০০। স্কুল, ক্লাব আর টুর্নামেন্টের মৌসুমেই বিক্রি।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
খেলাধুলার সামগ্রীর দোকান

খেলাধুলার সামগ্রীর দোকান

শুরুর পুঁজি
৳২,০০,০০০ – ৳৯,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম বিক্রি
২৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৯ – ১৫ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

ব্যাট, বল, জার্সি, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট, শাটল আর ক্যারম-লুডুর মতো খেলার জিনিস বিক্রির দোকান। ক্রেতা তিন রকম — স্কুল-কলেজ, পাড়ার ক্লাব আর নিজের শখে খেলা ছেলেমেয়ে। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দারাজে নামধারী বিক্রেতাদের তালিকায় বাচ্চাদের কাঠের ক্রিকেট ব্যাট ছিল ৳১০৯–৫১১, টেপ টেনিসের ফুল সাইজ ব্যাট ৳৭৬০–৯৩৮, আর ইংলিশ উইলোর ব্যাট ৳২,২৫০ থেকে ৳৩,১৯০। পাঁচ নম্বর ফুটবল ছিল ৳৪৮৪–১,২০০, আর ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট ৳১৯৮ থেকে ৳৪,৫০০। এই দামের পার্থক্যটাই ব্যবসার আসল কথা। এক তাকেই ৳১০৯-এর খেলনা ব্যাট আর ৳৩,০০০-এর ইংলিশ উইলো — সস্তা মালে বিক্রি অনেক কিন্তু লাভ সামান্য, দামি মালে লাভ বেশি কিন্তু বছরে হাতে গোনা কয়েকটা বিক্রি হয়। নতুন দোকান শুরু হয় সস্তা ঘর দিয়ে, আর দামি ব্যাট রাখা শুরু হয় ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরে। বিক্রি বছরজুড়ে সমান নয়। শীতে মাঠে টুর্নামেন্ট বসে, তখন ক্রিকেট-ব্যাডমিন্টনের মৌসুম; ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া; বিশ্বকাপের বছরে ফুটবল ও জার্সির বিক্রি হঠাৎ বেড়ে যায়। বর্ষার তিন মাস মাঠ ভেজা থাকে, দোকান তখন প্রায় বন্ধ।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১,০০,০০০ – ৳৫,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳১০৯ – ৳৪,৫০০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৭৫ – ৳৩,৩০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার২৭% – ৩১%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়২৫ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৯ – ১৫ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১% – ৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৫ – ৩০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • র‍্যাকেট স্ট্রিংয়ের যন্ত্র বা টান দেওয়ার সরঞ্জাম, বল পাম্প ও নিডল, গ্রিপ লাগানোর সরঞ্জাম, কাচের শোকেস আর বিকাশ-নগদের মার্চেন্ট নম্বর।যন্ত্রপাতি
  • ক্রিকেট ব্যাট (খেলনা থেকে ইংলিশ উইলো), টেপ টেনিস ও কর্ক বল, প্যাড-গ্লাভস, ৫ ও ৩ নম্বর ফুটবল, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট ও শাটল, ভলিবল, ক্যারম-লুডু-দাবা, জার্সি ও মোজা, আর স্কুলের ক্রীড়ার জন্য মেডেল-ট্রফি।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কার্যদিবসে হয়।লাইসেন্স
  • ব্যাটে গ্রিপ লাগানো, র‍্যাকেটে সুতা টানা, বলে হাওয়া দেওয়া, আর ক্রেতার খেলার মান দেখে ঠিক দামের মাল বেছে দেওয়া।দক্ষতা
  • ঢাকার গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকার পাইকারি দোকান, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, আর জার্সি ছাপানোর স্ক্রিন প্রিন্ট বা সাবলিমেশন কারখানা।সরবরাহকারী
  • মাঠ, স্কুল বা স্টেডিয়ামের কাছে ১৫০–৪০০ বর্গফুটের দোকান। ব্যাট ঝোলানোর দেয়াল, বল রাখার তাক আর জার্সি সাজানোর জায়গা লাগে।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ বা স্টেডিয়ামের কাছাকাছি দোকান দেখুন। খেলোয়াড় মাঠ থেকে ফেরার পথে কেনে।
  2. 2সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং সাইনবোর্ড ফি দিন।
  3. 3ঢাকার গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের নিচের খেলার সামগ্রীর পাইকারি দোকানগুলো ঘুরে দর নিন। দেশি ব্র্যান্ড আর আমদানি করা মালের দাম আলাদা করে লিখে রাখুন।
  4. 4প্রথম চালানে সস্তা ঘরের মাল বেশি রাখুন — বাচ্চাদের ব্যাট, টেপ টেনিস বল, ৫ নম্বর ফুটবল, সাধারণ র‍্যাকেট ও শাটল। দামি ইংলিশ উইলো একটার বেশি রাখবেন না।
  5. 5আশপাশের স্কুল-কলেজের ক্রীড়া শিক্ষকের সঙ্গে পরিচয় করুন। বার্ষিক ক্রীড়ার মালামাল ও পুরস্কারের অর্ডার এখান থেকেই আসে।
  6. 6পাড়ার ক্লাব ও টুর্নামেন্ট কমিটির তালিকা করুন এবং জার্সি ছাপানোর ব্যবস্থা রাখুন। এক দলের এগারোটি জার্সির অর্ডার একটা ব্যাটের চেয়েও বড় বিক্রি।
  7. 7স্কুল বা ক্লাবে বাকিতে মাল দেওয়ার আগে লিখিত অর্ডার নিন আর অন্তত অর্ধেক টাকা আগেই নিন। কমিটি বদলে গেলে পুরোনো বিল কেউ স্বীকার করে না।
  8. 8ব্যাট গ্রিপ লাগানো, র‍্যাকেটে সুতা টানা আর ফুটবল-বলে হাওয়া দেওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। এই ছোট সেবাগুলোই খদ্দের ধরে রাখে।
  9. 9শীতের টুর্নামেন্ট মৌসুমের অন্তত দেড় মাস আগে বড় চালানটি তুলুন, আর ডিসেম্বরের স্কুল ক্রীড়ার জন্য আলাদা করে মেডেল, ট্রফি ও কাপ রাখুন।
  10. 10বর্ষার তিন মাস নতুন মাল তোলা কমিয়ে দিন, রাবার ও চামড়ার জিনিস শুকনো জায়গায় রাখুন, আর জমে থাকা বিল আদায়ে নামুন।

মৌসুম

  1. জানুবেশি
  2. ফেব্রুবেশি
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনকম
  7. জুলাইকম
  8. আগস্টকম
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ঘিরে ক্লাব-ক্রিকেটের চল, আর বড় শহরে স্কুলের সংখ্যা বেশি।
  • খুব উপযোগীঢাকা · গুলিস্তান ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকার পাইকারি বাজার এখানেই, আর স্কুল-ক্লাবের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি।
  • খুব উপযোগীসিলেট · আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম ঘিরে ক্রিকেটের আগ্রহ বেশি, আর প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতায় দামি ব্যাটও চলে।
  • সম্ভববগুড়া · শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম ঘিরে ক্রিকেটের চল, আর উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় আশপাশের উপজেলা থেকেও ক্রেতা আসে।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর মহাসড়ক ধরে আশপাশের বাজারে সরবরাহ সহজ।
  • সম্ভবগাজীপুর · কারখানার শ্রমিকদের আন্তঃকারখানা টুর্নামেন্ট হয়, জার্সি ও বলের চাহিদা থাকে।
  • সম্ভবখুলনা · বিভাগীয় ক্রীড়াকেন্দ্র, স্টেডিয়াম ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা ঘিরে নিয়মিত টুর্নামেন্ট হয়।
  • সম্ভবময়মনসিংহ · বিভাগীয় শহর ও বড় শিক্ষাকেন্দ্র, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়ার অর্ডার নিয়মিত।
  • সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি ও পুরোনো ক্লাব সংস্কৃতি, ঢাকার পাইকারি বাজারও কাছে।
  • সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সংখ্যা বেশি, শিক্ষার্থীদের খেলার সরঞ্জামের চাহিদা নিয়মিত।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিবাকিতে বিক্রি: স্কুল, কলেজ ও পাড়ার ক্লাব বিলে মাল নেয় আর টাকা দেয় দেরিতে। স্কুলের ক্রীড়া বাজেট ছাড় না হওয়া পর্যন্ত বিল আটকে থাকে, আর ক্লাবের ক্ষেত্রে টুর্নামেন্ট শেষে কমিটি বদলে গেলে পুরোনো বিল কেউ স্বীকারই করে না। এক টুর্নামেন্টের জার্সি ও সরঞ্জামের অর্ডার মাসের পুরো পুঁজির সমান হতে পারে, আর সেটা মার গেলে দোকান বসে যায়।
  • বেশিচাহিদা: বিক্রি মৌসুমে বাঁধা। শীতের টুর্নামেন্ট আর ডিসেম্বর-জানুয়ারির স্কুল ক্রীড়া — এই কয়েক মাসেই বছরের বেশির ভাগ বিক্রি। বর্ষার তিন মাস মাঠ ভেজা থাকে আর দোকান প্রায় বন্ধ থাকে, কিন্তু ভাড়া ও কর্মচারীর বেতন সেই মাসগুলোতেও দিতে হয়।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: এক তাকে ৳১০৯-এর খেলনা ব্যাট থেকে ৳৩,১৯০-এর ইংলিশ উইলো — দামের ঘর এত চওড়া যে সব ঘরে মাল রাখতে গেলেই পুঁজি ছড়িয়ে যায়। দামি ব্যাট বা র‍্যাকেট কিনে বসে থাকলে সেই টাকা মাসের পর মাস আটকে থাকে, অথচ সস্তা ঘরের মাল ফুরিয়ে গেলে রোজকার বিক্রিটাই বন্ধ হয়ে যায়।
  • মাঝারিনষ্ট হওয়া: রাবার ও চামড়ার জিনিস বসে থাকলে নষ্ট হয়। ফুটবলের ব্লাডার শুকিয়ে ফাটে, শাটলকক স্যাঁতসেঁতে হয়ে ভেঙে যায়, কাঠের ব্যাটে ঘুণ ধরে আর চামড়ার গ্লাভসে ছত্রাক পড়ে। বর্ষার মাসগুলোতেই ঠিক তখন ক্ষতি হয় যখন বিক্রিও সবচেয়ে কম।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: ভালো ব্যাট, র‍্যাকেট ও শাটলের বড় অংশ আমদানি করা। ডলারের দর বাড়লে বা এলসি খুলতে দেরি হলে পাইকারি দাম এক লাফে বেড়ে যায়, আর টুর্নামেন্টের ঠিক আগে মাল না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

কসমেটিকস দোকান

ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ ও সাজসজ্জার পণ্য বিক্রির দোকান। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকায় অন্তত ১৮টি প্রসাধনী — সনদ ছাড়া বা কাগজবিহীন আমদানি করা মাল তুললে দায় দোকানদারের।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

চশমার দোকান

ফ্রেম আর লেন্স এনে দোকানে বসে চশমা বানিয়ে দেওয়া। একজোড়া সাধারণ চশমা ৳৬৪৯ থেকে ৳৫,৪০০ (অনলাইন দর, ২১-০৯-২০২৬)। বিএসটিআইয়ের কোনো সনদ লাগে না, ট্রেড লাইসেন্সই একমাত্র কাগজ।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

পোষা প্রাণীর খাবার ও সামগ্রীর দোকান

বিড়াল-কুকুরের আমদানি করা খাবার, লিটার ও সরঞ্জামের দোকান। শুকনো খাবার কেজিপ্রতি ৳৪৮৭ থেকে ৳১,৯০০ (২১-০৯-২০২৬)। খাবারে আমদানি শুল্ক ২৫%, আর চাহিদা এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১০ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

মাছের আড়ত

চাষির মাছ নিলামে তুলে কমিশনে বিক্রি। কমিশন প্রায় ৩ শতাংশ, আর চাষিকে ধরে রাখতে বিনা সুদে দাদন দিতে হয় — লাভটা আসলে ভলিউমে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
৩ – ১২ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান