২,৫০০ টাকায় গ্রামে অনলাইন খাবারের দোকান, পাঁচ মাসে আশপাশে জনপ্রিয়
সিরাজগঞ্জের বেলকুচির তাঁতপল্লি তামাই গ্রামে তিন বোন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ২,৫০০ টাকায় ফেসবুক পেজভিত্তিক খাবারের ব্যবসা শুরু করেন; বাবা মোটরসাইকেলে ডেলিভারি দেন, পিৎজা-বার্গার-রাইসবোল বিক্রি হয় সবচেয়ে বেশি।
করোনার সময় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচির তামাই গ্রামে ফিরে আসেন স্নাতক শেষ করা এক তরুণী। প্রথমে ফেসবুক পেজে স্থানীয় শাড়ি-লুঙ্গি বিক্রি করে ভালো সাড়া পান। এরপর পরিবারের সহযোগিতায় গ্রামে অনলাইন রেস্তোরাঁ চালুর সিদ্ধান্ত নেন; ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর শুধু গ্রামের মধ্যে খাবার সরবরাহ শুরু হয়। নেতৃত্ব তাঁর, সঙ্গে দুই ছোট বোন ও মা রান্নায় সাহায্য করেন।
তাঁর ভাষায়, মূলধন তেমন ছিল না — মাত্র ২,৫০০ টাকা দিয়ে শুরু। পেশাদারভাবে রান্না শেখেননি, ছোটবেলার রান্নার ঝোঁকই কাজে লেগেছে। অর্ডার অনুযায়ী পিৎজা, বার্গার, কাচ্চি, রাইসবোল, পাস্তা, তেহারি, শর্মাসহ নানা খাবার বানান। সবচেয়ে বেশি চলে পিৎজা (২৫০–২৭৫ টাকা), বার্গার (৯৯–১৫০ টাকা) আর রাইসবোল (৯৯ টাকা)। সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অর্ডার আসে; বিকেলে আর শুক্রবারে বেশি। বাবা মোটরসাইকেলে সময়মতো খাবার পৌঁছে দেন; আরও তিন নারী সহায়ক হিসেবে কাজ করেন।
প্রথম আলো ২০২১ সালের মে মাসে জানায়, মাত্র পাঁচ মাসে নিজ গ্রাম ও আশপাশে পরিচিতি পেয়েছে উদ্যোগটি; জেলার অন্য গ্রাম ও শহর থেকেও অর্ডার আসছে। বাবা বলেন, গ্রাম পর্যায়ে এমন ডিজিটাল উদ্যোগ সফল হতে পারে, প্রথমে তাঁরা বিশ্বাস করতে পারেননি।
যা শেখার আছে
- ১.ঘরের রান্নাঘর আর পরিবারের শ্রম দিয়ে শুরু করলে পুঁজি খুব কম লাগে — এখানে ২,৫০০ টাকা।
- ২.প্রথমে ছোট এলাকায় (এক গ্রাম) ডেলিভারি দিন, সুনাম হলে পরিধি বাড়ান।
- ৩.কোন পদ বেশি চলে আর কখন অর্ডার বেশি আসে (বিকেল, শুক্রবার) তা দেখে রান্না ও লোকবল ঠিক করুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
