মাসে ৫০ টাকা চাঁদায় ১০ তরুণের সমিতি, ১৭ বছরে মূলধন প্রায় ৫০ কোটি
১৯৯৮ সালে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ১০ জন শিক্ষিত বেকার তরুণ মাসে ৫০ টাকা চাঁদায় সমিতি গড়েন। এক বছরে জমা ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ঋণ কার্যক্রম শুরু, ২০০১ সালে নিবন্ধন, আর ২০১৫ সালে মূলধন প্রায় ৫০ কোটি টাকা।
১৯৯৮ সালের বন্যার সময় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের এক তরুণ, সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস, ঢাকায় কাজ না পেয়ে এলাকার ১০ জন শিক্ষিত তরুণকে নিয়ে একটি সমিতি গড়েন। সদস্যরা প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে জমা দিতেন। দুই মাসে সদস্য হয় ১০০ জন। এক বছর পর তহবিলে জমা হয় ৬০ হাজার টাকা, আর সেই টাকা দিয়ে শুরু হয় ঋণদান — যেমন ভাড়ায় রিকশা চালানো একজনকে রিকশা কেনার ঋণ, শোধের সময় এক বছর। ২০০১ সালের ১৭ জুন সমিতিটি বহুমুখী সমবায় সমিতি হিসেবে নিবন্ধন পায়। ২০০২ সালে চান্দ্রা বাজারে অফিস নিয়ে ছয়জন কর্মী নিয়োগ হয়; সদস্যরা সমিতির মূলধন থেকে কিস্তিতে পরিবহন, কম্পিউটার, ফটোকপি ও সেলাই মেশিন কেনেন। সাধারণ মানুষ আমানত রাখতে শুরু করলে ২০০৩ সালে মূলধন দাঁড়ায় ১৭ লাখ টাকা। ২০০৫ সালে সাতটি শাখা খুলে ৪২ জন কর্মী নিয়োগ হয়। ২০১৫ সালের লেখায় তিনি জানান, মূলধন প্রায় ৫০ কোটি টাকা, প্রতি মাসের আয়-ব্যয় ও লাভ-ক্ষতির হিসাব জেলা ও উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে পাঠানো হয়, আর প্রতিটি শাখা ও প্রকল্প কঠোরভাবে তদারক করা হয়। তাঁর ভাষায়, “রাতারাতি কিছু হয়ে যাব বা করে ফেলব, এমন চিন্তা নিয়ে আমি সমিতি গঠনের উদ্যোগ নিইনি।”
যা শেখার আছে
- ১.নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে শুরু করুন; প্রথম বছর শুধু সঞ্চয়, তারপর ছোট ঋণ — এতে সদস্যদের আস্থা তৈরি হয়।
- ২.আমানত নেওয়ার আগে নিবন্ধন করুন এবং প্রতি মাসের হিসাব সমবায় কার্যালয়ে জমা দিন।
- ৩.ঋণ দিন আয় বাড়ানোর কাজে (রিকশা, মেশিন, গবাদিপশু), যাতে কিস্তি শোধের উৎস থাকে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
