বেডশিট ও হোম টেক্সটাইল
যন্ত্রচালিত তাঁতে বেডশিট ও ঘরের কাপড় বুনে পাইকারি হাটে বিক্রি। একটি তাঁতে দিনে ৮–১৫টি কাপড়; বাজারে সাধারণ ডাবল বেডশিট সেট ৳৩৮৯–৪৮৯।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

বেডশিট ও হোম টেক্সটাইল
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,৫০,০০০ – ৳১৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৩ – ১২ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ – ৭৫ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ১৩ – ২১ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
বেডশিট, বালিশের কভার, পর্দা আর গামছা — এগুলো বানানো হয় যন্ত্রচালিত তাঁতে, আর বিক্রি হয় পাইকারি হাটে। দেশের সবচেয়ে বড় হাট নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট। সেখানে দেশীয় কাপড়ের পাইকারি দোকান প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার, হাট বসে সপ্তাহে তিন দিন — বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার। বণিক সমিতির হিসাবে প্রতি হাটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়, আর ঈদের মৌসুমে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা। শাড়ি-লুঙ্গির পাশাপাশি বিছানার চাদর আর পর্দার কাপড় এখানেই ওঠে, আর এই হাট ঘিরে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে কয়েক লাখ তাঁতকল গড়ে উঠেছে। আরেক কেন্দ্র সিরাজগঞ্জ — জেলার নয় উপজেলায় তাঁতবোর্ডের হিসাবে প্রায় পাঁচ লাখ তাঁতকল, আর প্রায় দশ লাখ মানুষ এর সঙ্গে জড়িত। কাজের হিসাবটা এরকম: প্রতিটি তাঁতে ৩–৪ জন শ্রমিক লাগে, আর একজন শ্রমিক এক তাঁতে দিনে ৮ থেকে ১৫টি কাপড় বুনতে পারেন। ঝুঁকিটা লুকানো নেই। সুতার দাম বাড়ে কিন্তু কাপড়ের দাম বাড়ে না — ২০২৬ সালের এপ্রিলে সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা বলেছেন, রোজার ঈদে যে লুঙ্গি ২২০–২৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, ঈদের পরে তা নেমেছে ১৮০–২০০ টাকায়, অথচ এক ডোপ সুতার দাম ১৫ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকায় উঠেছে। তার উপর লোডশেডিং — জেনারেটরে তাঁত চালালে খরচ প্রায় চার গুণ, আর উৎপাদন নেমে আসে অর্ধেকে। বাজারে বিক্রির দিকটা অবশ্য পরিষ্কার: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রকমারিতে দুই বালিশের কভারসহ সাধারণ সুতি ডাবল বেডশিট ৳৩৮৯–৪৮৯, আর ব্র্যান্ডের চাদর ৳২,০০০–৪,১৫০ পর্যন্ত।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳১,২৫,০০০ – ৳৭,৩০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৩৮৯ – ৳১,৩৩৯ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৩০০ – ৳৮২০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ২৩% – ৩৯% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ – ৭৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১৩ – ২১ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ১৫ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৩% – ৭% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৮ – ১৫ | অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত |
শুরু করতে যা লাগবে
- যন্ত্রচালিত তাঁত (পাওয়ার লুম), মাকু ও যন্ত্রাংশ, নলিতে সুতা পাকানোর চরকা, রং করার পাত্র আর শুকানোর ব্যবস্থা। মাকুসহ যন্ত্রাংশ আমদানিনির্ভর — একটি কোরিয়ান মাকু ৳১,৩০০ পর্যন্ত উঠেছে।যন্ত্রপাতি
- সুতা — ৬০ কাউন্ট পাউন্ডপ্রতি ৳২৯৩–২৯৫ (২০ অক্টোবর ২০২৪)। সিরাজগঞ্জে ২০২৬ সালের এপ্রিলে বলা হয়েছে গত বছরের ৳১৫,০০০ দামের এক ডোপ সুতা এখন ৳২২,০০০। সঙ্গে রং ও রাসায়নিক।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কর্মদিবসে দেওয়া হয়।লাইসেন্স
- তাঁত চালানো ও ছোটখাটো মেরামত, সুতা রং করা, আর হাটের চলতি নকশা বোঝা। দক্ষ তাঁতশ্রমিক পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা — মজুরি কম বলে শ্রমিকেরা এই কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন।দক্ষতা
- সুতার আড়ত ও রঙের সরবরাহকারী, আর বিক্রির জন্য পাইকারি হাটে অন্তত দুজন আড়তদার।সরবরাহকারী
- বিদ্যুৎ সংযোগসহ কারখানাঘর, সুতার শুকনো গুদাম আর রং করা ও শুকানোর খোলা জায়গা।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কোন হাটে বিক্রি করবেন তা আগে ঠিক করুন। বাবুরহাটে হাট বসে বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার — সপ্তাহের ওই তিন দিনই আপনার বিক্রির দিন।
- 2সেই হাটে গিয়ে দেখে আসুন কোন নকশার চাদর চলছে আর আড়তদাররা কত দামে নিচ্ছেন। নকশা না মিললে মাল পড়ে থাকে।
- 3ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন।
- 4স্থানীয় তাঁত মালিক সমিতিতে যোগাযোগ করুন — বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম অ্যান্ড পাওয়ার লুম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখা সুতার দর ও বাজারের খবর রাখে।
- 5তাঁত বসানোর ঘর ঠিক করুন — বিদ্যুতের সংযোগ, সুতা রাখার শুকনো জায়গা আর রং করা ও শুকানোর খোলা উঠান লাগবে।
- 6সুতা কেনার আগে দর লিখে রাখুন। ২০ অক্টোবর ২০২৪-এ ৬০ কাউন্টের সুতা ছিল পাউন্ডপ্রতি ৳২৯৩–২৯৫, তার দুই মাস আগে ৳২৭৫–২৮০ — কয়েক দিন পরপরই ৭–৮ টাকা করে বাড়ে।
- 7তাঁত, মাকু ও যন্ত্রাংশ জোগাড় করুন। যন্ত্রাংশও আমদানি হয় — একটি কোরিয়ান মাকুর দাম দেড় মাসে ৳১,০২০ থেকে ৳১,৩০০-এ উঠেছিল।
- 8প্রতি তাঁতে ৩–৪ জন শ্রমিকের হিসাব ধরুন — সুতা রং করা, শুকানো, নলিতে পাকানো আর বোনা, সব মিলিয়ে।
- 9লোডশেডিংয়ের জন্য আগেই ব্যবস্থা করুন। জেনারেটরে তাঁত চালালে খরচ প্রায় চার গুণ হয় আর উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসে — তবু শ্রমিকের মজুরি দিতেই হয়।
- 10উৎপাদিত চাদর নিজের নামে বাজারজাত করবেন না কোম্পানির কাছে গ্রে (অপ্রস্তুত) বেচবেন — এই সিদ্ধান্ত আগে নিন। তামাইয়ের অনেক তাঁতি দুটোই করেন।
- 11ঈদ, পূজা ও রমজানের আগে উৎপাদন বাড়ান — এই সময়েই হাটে সবচেয়ে বেশি টাকা ঘোরে।
- 12ঈদের পরপর দাম পড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকুন। ২০২৬ সালে রোজার ঈদের পর লুঙ্গির দাম ১৫–২০ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেবেশি
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোবেশি
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীগাজীপুর · বাবুরহাটকে ঘিরে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে এখানেও কয়েক লাখ তাঁতকল গড়ে উঠেছে।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · বাবুরহাট ঘিরে গড়ে ওঠা তাঁতকলের একটা বড় অংশ এখানে; সুতা ও রঙের সরবরাহকারীও কাছে।
- খুব উপযোগীনরসিংদী · শেখেরচর-বাবুরহাটে দেশীয় কাপড়ের পাইকারি দোকান প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার; বিছানার চাদর ও পর্দার কাপড় এখানেই ওঠে আর প্রতি হাটে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
- খুব উপযোগীসিরাজগঞ্জ · তাঁতবোর্ডের হিসাবে নয় উপজেলায় প্রায় পাঁচ লাখ তাঁতকল আর দশ লাখ মানুষ জড়িত; বেলকুচি, শাহজাদপুর ও এনায়েতপুরেই প্রায় দুই লাখ তাঁত।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · বড় শহরের খুচরা ও পাইকারি চাহিদা আছে, কিন্তু তাঁতের বলয় থেকে দূরে।
- সম্ভবঢাকা · দেশের সবচেয়ে বড় খুচরা বাজার আর ব্র্যান্ডের চাদরের ক্রেতা এখানেই, তবে কারখানার জায়গা ও বিদ্যুতের খরচ বেশি।
- সম্ভবপাবনা · সিরাজগঞ্জের তাঁত এলাকার লাগোয়া, আর তামাইয়ের কারখানায় পাবনা থেকেই শ্রমিক আসেন — অর্থাৎ দক্ষ লোক এখানে আছে।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বেশি, তাই দামি চাদরের বাজার তুলনামূলক ভালো।
- সম্ভবটাঙ্গাইল · পুরোনো তাঁত এলাকা; এখানকার শাড়ি বাবুরহাটের সংগ্রহে নিয়মিত ওঠে।
- কম উপযোগীরংপুর · এখান থেকে শ্রমিকেরা সিরাজগঞ্জের তাঁতে কাজ করতে যান — অর্থাৎ দক্ষ লোক আছে কিন্তু কারখানা, সুতার আড়ত ও হাট কোনোটাই নেই।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: সুতার দাম বাড়ে, কাপড়ের দাম বাড়ে না। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সিরাজগঞ্জের তাঁতিরা বলেছেন, গত বছরের ১৫ হাজার টাকার এক ডোপ সুতা এখন ২২ হাজার টাকা, অথচ রোজার ঈদে ২২০–২৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া লুঙ্গি ঈদের পরে ১৮০–২০০ টাকায় নেমেছে। যে সুতা চড়া দামে কিনে তাঁতে তুলেছেন, সেই কাপড় কম দামে বেচতে হলে ক্ষতি পুরোটাই আপনার।
- বেশিনির্ভরশীলতা: লোডশেডিং সরাসরি উৎপাদন খেয়ে ফেলে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সিরাজগঞ্জের কারখানাগুলোতে কাপড় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছিল, আর ডিজেল জেনারেটরে তাঁত চালাতে খরচ প্রায় চার গুণ বেড়ে যাচ্ছিল। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শ্রমিকের মজুরি দিতেই হয়।
- বেশিচাহিদা: বিক্রি ঈদ, পূজা আর রমজানের উপর দাঁড়িয়ে। ঈদের মৌসুমে বাবুরহাটে দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়, আর ঈদ পার হলেই দাম ১৫–২০ শতাংশ পড়ে যায়। মৌসুমের আগে বেশি বানিয়ে ফেললে আর মৌসুম না জমলে সেই মাল গুদামে বসে থাকে।
- বেশিঅন্যান্য: শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি তাঁতে ৩–৪ জন লাগে, কিন্তু সিরাজগঞ্জে আগে যেখানে ১০ জন কাজ করতেন এখন সেখানে ৬ জন। তাঁতিরা বলছেন শ্রমিকেরা মজুরি বাড়াতে বলছেন, আর সুতার দামের কারণে মজুরি বাড়ানোর জায়গা নেই — এই টানাপোড়েনেই কারখানা বন্ধ হচ্ছে।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: হাটের আড়তদারের কাছে মাল দিয়ে টাকা পুরোটা একসঙ্গে আসে না — বাবুরহাটে সপ্তাহে তিন দিন হাট, আর পরের হাটে গিয়ে বকেয়ার খোঁজ নিতে হয়। কত দিনে টাকা আসে তার কোনো লিখিত নিয়ম নেই, তাই প্রথমবার ছোট পরিমাণে দিয়ে দেখে নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপজুতা তৈরির কারখানা
ছোট কারখানায় স্যান্ডেল ও জুতা বানিয়ে পাইকারের কাছে বিক্রি। স্যান্ডেল ৳২৫০–৭০০, চামড়ার জুতা ৳১,২০০। ভৈরবে ৩,৫০০–৫,০০০ কারখানায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজ করেন।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপথাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম
অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ মেপে কেটে দরজা-জানালা-পার্টিশন বানিয়ে লাগানো। সাধারণ কাজের দর প্রতি বর্গফুট ৳৪৭০–৭৫০, আর মাপ ভুল হলে কাটা মাল ফেরত যায় না।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳৬ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ২০ – ৬০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপখাতা তৈরির কারখানা
কাগজ কেটে, ভাঁজ করে, মলাট দিয়ে খাতা বানানো। অনলাইনে ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৳১৬৯ আর ১২০ পৃষ্ঠার ৳৭৫, অথচ এক বছরে কাগজের প্যাকেট ১০০–১৫০ টাকা বেড়েছে।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳৭ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপআগর-আতর উৎপাদন
আগরগাছের কাঠ ভিজিয়ে জ্বাল দিয়ে সুগন্ধি আতর নামানো। বড়লেখার সুজানগরে প্রায় ২৫০টি কারখানা, মানভেদে তোলাপ্রতি ৳৬,০০০–১০,০০০, আর প্রায় পুরোটাই রপ্তানি হয়।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ২,৫৫৫ – ১০,৯৫০ দিন
