পেঁয়াজ চাষ
মুড়িকাটা ও হালি — দুই ফসলের পেঁয়াজ। আগস্ট ২০২৬-এ দেশী পেঁয়াজের পাইকারি জাতীয় গড় ৳৪১.৮২ কেজি, কিন্তু চৈত্র-বৈশাখের ভরা মৌসুমে কৃষক পেয়েছেন মণ ৳৭০০–১,১০০, অথচ খরচ মণে ৳১,৪০০–১,৬০০।
- শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

পেঁয়াজ চাষ
- শুরুর পুঁজি
- ৳৩০,০০০ – ৳২,৫০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ১০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৯০ – ১৫০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৪ – ২৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- খামার · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
বাংলাদেশে পেঁয়াজ দুই ভাগে হয়। মুড়িকাটা লাগানো হয় কার্তিক-অগ্রহায়ণে আগের মৌসুমের কন্দ দিয়ে, ওঠে পৌষ-মাঘে — এই পেঁয়াজই শীতের শুরুতে বাজারের আগুন নেভায়। হালি পেঁয়াজ বীজতলা থেকে চারা তুলে লাগানো হয় অগ্রহায়ণ-পৌষে, ওঠে ফাল্গুন-চৈত্রে, আর দেশের বেশিরভাগ পেঁয়াজ এটাই। টাকার হিসাবটা নিষ্ঠুর। ২০২৬ সালের মার্চে ফরিদপুরে কৃষক মণপ্রতি পেয়েছেন ৳৭০০–১,১০০, অথচ তাঁদের নিজেদের হিসাবেই উৎপাদন খরচ মণে ৳১,৪০০–১,৬০০ — মণে ৳৫০০–৬০০ লোকসান। মে মাসে রাজবাড়ীর বানীবহ বাজারে দর ছিল ৳৭০০–১,০৫০ মণ, আগের বছর একই সময়ে ছিল ৳১,৮০০–২,০০০। নিজের জমিতে চাষ করলে খরচ কেজিপ্রতি ৳২৮–৩০, বর্গা নিলে ৳৩৮–৪০ — আর এই পার্থক্যটাই ঠিক করে কে টিকবে। বীজ এই ফসলের সবচেয়ে দামি উপকরণ: কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা আদেশে শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ ধরা হয়েছে কেজি ৳৩,৫২০, বিঘাপ্রতি ১ কেজি। সংরক্ষণও সমস্যা — ঘরে বা মাচায় রাখা পেঁয়াজের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়, তাই সবাই একসঙ্গে বেচতে বাধ্য হন, আর একসঙ্গে বেচলেই দাম পড়ে। উল্টোদিকে ভাদ্র-আশ্বিনে, যখন দেশি পেঁয়াজ ফুরিয়ে আসে, সেই একই পেঁয়াজ ঢাকায় খুচরা ৳৫০–৬৪ কেজিতে বিক্রি হয়।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৩০,০০০ – ৳১,২৫,০০০ | বিতর্কিত | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১৮ – ৳৪২ / কেজি | সরকারি সূত্র | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২৮ – ৳৪০ / কেজি | বিতর্কিত | |
| মোট লাভের হার | -৭১% – ৩৩% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৯০ – ১৫০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৪ – ২৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৯০ – ২৪০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২৫% – ৩০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৫ – ৫৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- বীজতলার জন্য উঁচু জমি ও ছাউনি, চারা তোলার যন্ত্রপাতি, সেচের ব্যবস্থা, ছায়ায় শুকানোর জায়গা এবং বস্তা বা ঝুড়ি। সরকারি প্রকল্পে সংরক্ষণ ঘরে এয়ারফ্লো মেশিন বসানো হচ্ছে।যন্ত্রপাতি
- সার — সরকার-নির্ধারিত কৃষক পর্যায়ের দরে ইউরিয়া ৳২৭, টিএসপি ৳২৭, ডিএপি ৳২১, এমওপি ৳২০ প্রতি কেজি। প্রণোদনা কর্মসূচিতে শীতকালীন পেঁয়াজের জন্য বিঘাপ্রতি ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি দেওয়া হয়, যা সরকারের নিজের ধরা মাত্রা।শুরুর মাল
- বীজ বা কন্দ — এই ফসলের সবচেয়ে বড় খরচ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের রবি ২০২৫-২৬ প্রণোদনা আদেশে শীতকালীন পেঁয়াজের বীজের একক মূল্য ধরা হয়েছে কেজি ৳৩,৫২০, বিঘাপ্রতি ১ কেজি। বাজারে কন্দের দাম মণে ৳৩,৫০০–৮,০০০ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে।শুরুর মাল
- কৃষি বিপণন লাইসেন্স — কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ ও বিধিমালার আওতায়, ফরম-১ এ আবেদন। আড়তদার, মোকামের মজুতদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীর জন্য প্রযোজ্য। ফি ও মেয়াদ এখানে যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে ইস্যু, প্রতি বছর নবায়ন। নিজের ফসল নিজে বেচলে লাগে না।লাইসেন্স
- বীজতলা তৈরি ও চারার বয়স বুঝে রোপণ, ৭০–৮০ শতাংশ ডগা শুকানো অবস্থায় তোলার সময় চেনা, তোলার পর ঠিকমতো শুকানো, আর কন্দ বাছাই করে আলাদা রাখা। ভুল সময়ে তুললে বা কাঁচা রাখলে সংরক্ষণেই সব যায়।দক্ষতা
- বিশ্বস্ত কন্দ ও বীজ সরবরাহকারী (বিএডিসি বা অনুমোদিত ডিলার), সার ডিলার, হাটের বেপারী বা মোকামের আড়তদার, আর চারা রোপণ ও তোলার সময়ের শ্রমিকের দল।সরবরাহকারী
- সংরক্ষণের ঘর বা বাঁশের মাচা, বাতাস চলাচলসহ। রাজবাড়ীতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মডেল ঘরের ধারণক্ষমতা ঘরপ্রতি কমপক্ষে ৩০০ মণ, আয়ু প্রায় ২০ বছর। হিমাগার এখানে কাজে আসে না — পেঁয়াজ হিমাগারে রাখা হয় না।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1ঠিক করুন মুড়িকাটা করবেন, হালি করবেন, নাকি দুটোই। মুড়িকাটায় টাকা তাড়াতাড়ি ফেরে (৯০ দিনে) আর শীতের শুরুতে দাম ভালো, কিন্তু কন্দ কিনতে অনেক টাকা লাগে। হালিতে ফলন বেশি, কিন্তু সবাই একসঙ্গে তোলে বলে দামও একসঙ্গে পড়ে।
- 2কন্দ বা বীজ আগেভাগে ঠিক করুন — এটাই সবচেয়ে বড় খরচ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনা আদেশে শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ ধরা হয়েছে কেজি ৳৩,৫২০, বিঘায় ১ কেজি; কন্দের দাম মণে ৳৩,৫০০ থেকে ৳৮,০০০ পর্যন্ত ওঠানামা করে।
- 3কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনার তালিকায় নাম আছে কি না উপজেলা কৃষি অফিসে জেনে নিন। ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে শীতকালীন পেঁয়াজে ২৩,০০০ জন/বিঘা বরাদ্দ ছিল, জনপ্রতি ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি — মূল্যে বিঘাপ্রতি ৳৩,৯৪২.৫০।
- 4নিজের বীজ করার কথা ভাবুন। বাসস-এর খবর অনুযায়ী ২০ জেলার ৮,০০০ কৃষককে জনপ্রতি ৳১১,৮২৫ মূল্যের উপকরণ দেওয়া হচ্ছে — ২০ শতাংশ জমির জন্য ১৬০ কেজি কন্দ, ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি এমওপি, বীজ রাখার পাত্র ও পরিচর্যার নগদ। নিজের বীজ থাকলে পরের বছর সবচেয়ে বড় খরচটাই থাকে না।
- 5বীজতলা করুন সাবধানে (হালির ক্ষেত্রে)। বীজ যত দামি, চারা মরলে ক্ষতিও তত বড়। অতিবৃষ্টি বা ঘন কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হলে পুরো মৌসুম পিছিয়ে যায়।
- 6সার সরকারি দরে কিনুন — ডিএপি ৳২১, এমওপি ৳২০, ইউরিয়া ও টিএসপি ৳২৭ প্রতি কেজি কৃষক পর্যায়ে। দোকানে বেশি চাইলে রসিদ চান; ২০২৬ সালে সরবরাহ-সংকটে অনেক জায়গায় নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি নেওয়া হয়েছে।
- 7তোলার আগে ঠিক করুন কতটা এখনই বেচবেন আর কতটা রাখবেন। একবারে সবটা হাটে তুললে দর আরও পড়ে, আর ঘরে রাখলে তিন-ছয় মাসে প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়। এই দুই ক্ষতির মাঝখানেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
- 8পাতাসহ ৭০–৮০ শতাংশ ডগা শুকিয়ে গেলে তুলুন, তারপর ছায়ায় ভালোভাবে শুকিয়ে তবে ঘরে তুলুন। কাঁচা অবস্থায় ঘরে তুললে গোড়া পচে যায়, আর এক বস্তা থেকে পচন পুরো মাচায় ছড়ায়।
- 9মাচা বা সংরক্ষণ ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। সরকারি প্রকল্পে এয়ারফ্লো মেশিন দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেটা বিদ্যুতে চলে — বিদ্যুৎ গেলে বাতাস বন্ধ, তাই মাচার উচ্চতা ও ফাঁকা জায়গাটাই আসল ভরসা।
- 10আমদানির খবরে চোখ রাখুন। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি সরকার নতুন আমদানি অনুমতি (আইপি) দেওয়া বন্ধ করে দিলে দেশি পেঁয়াজের দাম সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কেজিতে ৳৫–১০ বেড়ে যায়। উল্টোটাও ঠিক তত দ্রুত ঘটে।
- 11পরের মৌসুমের কন্দ আলাদা করে রাখুন এবং আলাদা জায়গায় রাখুন, খাওয়ার পেঁয়াজের সঙ্গে মেশাবেন না। কন্দের দাম এক বছরে দ্বিগুণ হতে দেখা গেছে।
- 12ব্যবসায়িকভাবে কিনে-বেচলে বা মোকামে মজুত করলে কৃষি বিপণন লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স নিন। নিজের খেতের পেঁয়াজ নিজে বেচলে লাগে না।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনকম
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোবেশি
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবগুড়া · উত্তরাঞ্চলের পেঁয়াজ বলয়ের অংশ ও বড় আড়ত; বীজ উৎপাদন কর্মসূচিতে ৫০০ কৃষক।
- খুব উপযোগীফরিদপুর · দ্বিতীয় বৃহত্তম — ২০২৫-২৬-এ ৫৪,০০০ হেক্টর, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮,০০০; শুধু সালথা উপজেলাতেই ১২,৫০০ হেক্টর। ভরা মৌসুমের লোকসানের খবরও সবচেয়ে বেশি আসে এখান থেকেই।
- খুব উপযোগীপাবনা · দেশের এক নম্বর পেঁয়াজ জেলা — ২০২৫-২৬ মৌসুমে একাই ৫৪,৪০০ হেক্টর, শুধু সাঁথিয়া উপজেলাতেই ১৬,৬৯০ হেক্টর। সাঁথিয়া ও সুজানগরের মোকামগুলো উত্তরবঙ্গের দর ঠিক করে দেয়।
- খুব উপযোগীরাজবাড়ী · বানীবহসহ বড় মোকাম, আর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ৫০টি মডেল সংরক্ষণ ঘর এখানেই — বালিয়াকান্দিতে ৩০টি, কালুখালীতে ২০টি, মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১৫,০০০ মণ।
- খুব উপযোগীরাজশাহী · ২০২৬ সালের শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি উপকারভোগী পাওয়া দুই জেলার একটি (১,০০০ কৃষক) — অর্থাৎ বীজ উৎপাদনের ঘাঁটি হিসেবেও গড়ে তোলা হচ্ছে।
- খুব উপযোগীসিরাজগঞ্জ · বগুড়া-সিরাজগঞ্জ-পাবনা-জয়পুরহাট অঞ্চলে মোট ৫৯,৪৩৯ হেক্টর পেঁয়াজ হয়; সিরাজগঞ্জ বীজ উৎপাদন কর্মসূচিতেও ৬০০ কৃষক পেয়েছে।
- সম্ভবঝিনাইদহ · শৈলকুপা দেশের বড় পেঁয়াজের মোকামগুলোর একটি, আর বীজ উৎপাদন কর্মসূচিতেও জেলাটি অন্তর্ভুক্ত।
- সম্ভবকুষ্টিয়া · ঢাকার বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহকারী উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোর একটি, তবে এখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা কম বলে বেশিরভাগই তোলার সঙ্গে সঙ্গে বেচে দিতে হয়।
- সম্ভবমানিকগঞ্জ · ঢাকার কাছে, তাই তোলার দিনই কারওয়ান বাজার ও শ্যামবাজারে পাঠানো যায়; বীজ উৎপাদন কর্মসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত।
- সম্ভবমেহেরপুর · স্থানীয় জাতের পেঁয়াজ এখান থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে যায়; ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে খাতুনগঞ্জে মেহেরপুরের পেঁয়াজ ছিল কেজি ৳৪০–৪২।
- সম্ভবঠাকুরগাঁও · শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ৯০০ কৃষক বরাদ্দ পেয়েছে — দেশের বীজ-নির্ভরতা কমাতে এই জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: ভরা মৌসুমে দাম উৎপাদন খরচের নিচে নেমে যাওয়া। ২০২৬ সালের মার্চে ফরিদপুরে মণপ্রতি ৳৭০০–১,১০০, খরচ ৳১,৪০০–১,৬০০ — মণে ৳৫০০–৬০০ লোকসান। মুড়িকাটার দর মৌসুমের শুরুতে ৳৩,৫০০ মণ থেকে নেমে ৳৭০০–৮০০ হয়েছে। মে মাসে রাজবাড়ীতে ৳৭০০–১,০৫০, আগের বছর একই সময়ে ৳১,৮০০–২,০০০। বাম্পার ফলনই এই ক্ষতির কারণ — চাষের জমি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলে দাম ধসে পড়ে।
- বেশিনষ্ট হওয়া: সংরক্ষণে পচন। হিমাগার নেই, ঘরে বা মাচায় রাখতে হয়, আর দেশের উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ এভাবেই নষ্ট হয়। রাজবাড়ীতে ২০২৬ সালের মে মাসে কম দামের সঙ্গে পচনও যোগ হয়ে ক্ষতি বেড়েছে। সরকারি এয়ারফ্লো মেশিন বিদ্যুতে চলে, তাই লোডশেডিংয়ের মাসে সেটাও ভরসা নয়।
- বেশিচলতি মূলধন: বীজ ও কন্দের দামের ঝাঁকুনি। ২০২৪ সালে কন্দের দাম মণে ৳৩,৫০০–৪,০০০ থেকে ৳৭,০০০–৮,০০০ হয়ে যায় আর জমি ভাড়া বিঘায় ৳৮,০০০–১০,০০০ থেকে ৳২০,০০০–২৫,০০০ — ফলে বিঘাপ্রতি খরচ ৳৬০,০০০–৬৫,০০০ থেকে বেড়ে ৳১,২০,০০০–১,২৫,০০০ হয়। এই টাকাটা যায় রোপণের আগে, ফসল ওঠার চার-পাঁচ মাস আগে।
- বেশিনির্ভরশীলতা: আমদানির সিদ্ধান্ত। দেশের চাহিদার একটা অংশ আমদানি দিয়েই মেটে, তাই সরকারের আমদানি অনুমতি (আইপি) খোলা না বন্ধ — এটাই কৃষকের দাম ঠিক করে দেয়। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি নতুন আইপি বন্ধ হলে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৳৫–১০ বেড়ে যায়; উল্টোদিকে আইপি খুললে ভরা মৌসুমেও দাম নিচে থেকে যায়। এই সিদ্ধান্তে কৃষকের কোনো হাত নেই।
- মাঝারিঅন্যান্য: আবহাওয়া। বীজতলার সময় অতিবৃষ্টি বা ঘন কুয়াশা চারা নষ্ট করে, আর বীজ কেজি ৳৩,৫২০ দরে সেই ক্ষতিটা সরাসরি নগদ ক্ষতি। তোলার ঠিক আগে বৃষ্টি হলে পেঁয়াজ ভিজে যায়, তখন আর সংরক্ষণ করা যায় না, সঙ্গে সঙ্গে বেচে দিতে হয় — আর তখনই দাম সবচেয়ে কম।
সূত্র
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
দৈনিক বাজার দর প্রতিবেদন — চলমান মূল্য টিকার (পেঁয়াজ দেশী ৬০.০০–৬৪.০০ টাকা/কেজি)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · বাংলাদেশ
পণ্যভিত্তিক মাসিক পাইকারী ও খুচরা জাতীয় গড় বাজারদর, আগষ্ট ২০২৬ (২৭১টি কৃষিপণ্যের বুলেটিন)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · বাংলাদেশ (জাতীয় গড়)
সারের বিক্রয়মূল্য — টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের ডিলার ও কৃষক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ ও ফি
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২০ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
- সংগ্রহ: ১৭ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · ঢাকা মহানগর
পেঁয়াজ ও আলুর দৈনিক পাইকারী ও খুচরা বাজারদর (সর্বশেষ ১৬-০৯-২০২৬)
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য · বাংলাদেশ
শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে বিনামূল্যে উপকরণ পাচ্ছেন ৮ হাজার কৃষক
সংগ্রহ: ৯ জুন, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: districts, requirements · রাজশাহী, ফরিদপুর, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও অন্যান্য ২০ জেলা
কম দামে দিশেহারা পেঁয়াজ চাষি, পচনে বাড়ছে ক্ষতি — রাজবাড়ীর বানীবহ বাজার
সংগ্রহ: ২৬ মে, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য, পরিবর্তনশীল খরচ · রাজবাড়ী, ফরিদপুর
Onion farmers face heavy losses as prices plummet amid supply surplus (ফরিদপুর)
সংগ্রহ: ৬ মার্চ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: districts, বিক্রয় মূল্য, পরিবর্তনশীল খরচ · ফরিদপুর, পাবনা, সাঁথিয়া, সালথা
আমদানি বন্ধে চাঙ্গা হচ্ছে নিম্নমুখী থাকা দেশী পেঁয়াজের বাজার — ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন আইপি বন্ধ
সংগ্রহ: ২৩ জানু, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: risks · বাংলাদেশ
75,000 tonnes of local onions to hit market this month; prices expected to stabilise
সংগ্রহ: ৭ নভে, ২০২৫যে হিসাবের সূত্র: risks · বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জ
যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১১ এপ্রি, ২০২৩
যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
৪ লাখ ৭০ হাজারের পেঁয়াজ, ঘরে রাখা ৪৫০ মণের ৯০ শতাংশই পচে গেছে
সাড়ে চার একরে ৪,৭০,০০০ টাকা খরচ করে পেঁয়াজ হয়েছিল ৬০০ মণ। দাম ওঠার আশায় ৪৫০ মণ ঘরে রাখলে তার প্রায় ৯০ শতাংশ পচে যায়; মৌসুম শেষে ১,০০,০০০ টাকার কমই হাতে আসবে বলে তিনি ধরছেন।
- পুঁজি
- ৳৪.৭ লাখ
- কারণ
- নষ্ট হওয়া, দাম পড়ে যাওয়া
একই রকম আরও ব্যবসা
কৃষি ও খামারভেড়া পালন
মাঠে ও চরে ঘাস খাইয়ে ভেড়া পালন। ২০২৬ সালের কোরবানির আগে জয়পুরহাটে এক খামারি ২৬টি ভেড়া বিক্রি করেছেন ৳২,৩০,০০০ টাকায় — গড়ে প্রতিটি প্রায় ৳৮,৮০০।
- পুঁজি
- ৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ১৮০ – ৩৬৫ দিন
কৃষি ও খামারছাগল মোটাতাজাকরণ
পাঁচ-ছয় মাসের খাসি কিনে খাইয়ে কোরবানির হাটে বিক্রি। মে ২০২৬-এ চট্টগ্রামের হাটে ছোট ছাগল ৳৮,০০০–১৫,০০০, বড় ছাগল ৳৪০,০০০–৫০,০০০; বড় সংকর জাত কেজি দরে ৳৭০০–৮০০।
- পুঁজি
- ৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ৩৬৫ দিন
কৃষি ও খামারঝিনুক ও মুক্তা চাষ
পুকুরের ঝিনুকে বীজ বসিয়ে ৭–১১ মাসে মুক্তা তৈরি। পাইকারিতে এ গ্রেডের মুক্তা ৳৫০০–৬০০, কিন্তু নিয়মিত ক্রেতা নেই — এটিই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
- পুঁজি
- ৳৩০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ২১০ – ৩৩০ দিন
কৃষি ও খামারআলু চাষ
শীতে আলু লাগিয়ে ফাল্গুনে তোলা। আগস্ট ২০২৬-এ পাইকারি জাতীয় গড় দর দেশী আলু ৳২৯.৮০, হল্যান্ড ৳২০.৫৩–২০.৭১ কেজি, কিন্তু ভরা মৌসুমে খেতেই দর নেমেছিল ৳৩–৭; হিমাগারের ভাড়া এখন কেজিতে ৳৬।
- পুঁজি
- ৳৩০ হাজার – ৳৩ লাখ
- জনবল
- ২ – ১০ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ১২০ দিন
