মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পার্সেল ডেলিভারি এজেন্সি

অনলাইন বিক্রেতার মাল ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা। দেশে দিনে ৩.৫–৪ লাখ পার্সেল যায়; বাজারদর ঢাকায় ৳৫৫–৭০, ঢাকার বাইরে ৳১৩৫–১৫০।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পার্সেল ডেলিভারি এজেন্সি

পার্সেল ডেলিভারি এজেন্সি

শুরুর পুঁজি
৳১,৫০,০০০ – ৳৬,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম বিক্রি
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৬ – ১০ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ঘুরে ঘুরে সেবা · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

ফেসবুক পেজ আর অনলাইন দোকানের পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা। দেশে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার লাখ পার্সেল যায় — ই-ক্যাব এই হিসাব দেয়। এই ব্যবসায় ঢোকার দুটো রাস্তা আছে। এক, নিজের এলাকায় বড় কুরিয়ারের হয়ে পিকআপ ও ডেলিভারির কাজ নেওয়া। দুই, নিজের ছোট কুরিয়ার চালিয়ে এলাকার অনলাইন বিক্রেতাদের মাল পৌঁছে দেওয়া। পুঁজি কম, কারণ গুদাম লাগে না — একটা ছোট ঘর, দুটো মোটরসাইকেল আর কয়েকজন লোক হলেই শুরু হয়। বাজারের দাম জানা আছে। স্টেডফাস্ট ঢাকার ভেতরে ৳৫৫ থেকে আর ঢাকার বাইরে শহর থেকে শহরে ৳১৩৫ পর্যন্ত নেয়, সঙ্গে দরজায় তোলা টাকার ১ শতাংশ ক্যাশ অন ডেলিভারি চার্জ। রেডএক্স ঢাকার ভেতরে ১ কেজি পর্যন্ত ৳৭০, ঢাকার বাইরের বিভাগে ৳১৫০; ঢাকার ভেতরে ক্যাশ চার্জ শূন্য, বাইরে ১ শতাংশ। আসল ঝুঁকি টাকার নয়, ফেরতের। ক্রেতা মাল না নিলে পার্সেল ফেরত আসে, তখন যাওয়া-আসা দুই খরচই আপনার। আর আপনি ক্রেতার কাছ থেকে নগদ তুলে বিক্রেতাকে দেন, অর্থাৎ প্রতিদিন অন্যের অনেক টাকা আপনার হাতে থাকে। সেই টাকা ঠিকমতো হিসাব করে ফেরত দেওয়াই এই ব্যবসার আসল কাজ, আর একবার গোলমাল হলে বিক্রেতা আর ফেরে না।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৫০,০০০ – ৳২,৫০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৫৫ – ৳১৫০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳২৫ – ৳৭০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৫৩% – ৫৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৭ – ৩০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৬ – ১০ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১ – ৭ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৫% – ১২%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৪০ – ১২০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • মোটরসাইকেল (রাইডারের নিজের হলে পুঁজি অনেক কম), পার্সেল ব্যাগ, ওজন মাপার যন্ত্র, আর প্রতিটি পার্সেল ট্র্যাক করার জন্য অন্তত একটা স্মার্টফোন ও খাতা।যন্ত্রপাতি
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। আবেদন ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০।লাইসেন্স
  • কুরিয়ার সার্ভিস নিবন্ধন — ডাক অধিদপ্তরের অধীনে কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনার অনুমোদনের নিয়ম আছে। ফি ও শর্ত জেলা ডাক কার্যালয় থেকে জেনে নিতে হবে।লাইসেন্স
  • হিসাব রাখা — বিশেষ করে অন্যের নগদ টাকার হিসাব, আর এলাকার রাস্তাঘাট ও ঠিকানা চেনা।দক্ষতা
  • স্থানীয় অনলাইন বিক্রেতা, আর প্রয়োজনে বড় কুরিয়ারের এলাকা কার্যালয় যাদের হয়ে উপ-ঠিকাদারি করা যায়।সরবরাহকারী
  • ছোট একটা ঘর, ১০০–৩০০ বর্গফুট, পার্সেল রাখা ও বাছাই করার জন্য। গুদাম লাগে না।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1এলাকার অনলাইন বিক্রেতাদের তালিকা করুন — কে দিনে কয়টা পার্সেল পাঠায় তা জেনে নিন।
  2. 2ঠিক করুন আপনি বড় কুরিয়ারের হয়ে কাজ করবেন, নাকি নিজের কুরিয়ার চালাবেন। দুটোর পুঁজি ও ঝুঁকি আলাদা।
  3. 3ট্রেড লাইসেন্স করুন, আর কুরিয়ার সার্ভিস হিসেবে ডাক অধিদপ্তরে নিবন্ধনের নিয়ম জেনে নিন।
  4. 4ছোট একটা ঘর নিন যেখানে পার্সেল রাখা ও বাছাই করা যায়। গুদাম লাগে না।
  5. 5মোটরসাইকেল ও রাইডার ঠিক করুন। রাইডারের নিজের মোটরসাইকেল থাকলে পুঁজি অনেক কমে।
  6. 6বিক্রেতার সঙ্গে লিখিত চুক্তি করুন: চার্জ কত, ফেরত এলে কে খরচ দেবে, আর টাকা কত দিনে ফেরত যাবে।
  7. 7প্রতিটি পার্সেলের নম্বর দিন আর কোথায় আছে তা লিখে রাখুন। হারানো পার্সেলের দাম আপনাকেই দিতে হয়।
  8. 8ক্রেতার কাছ থেকে তোলা নগদ আলাদা খাতায় লিখুন, নিজের টাকার সঙ্গে মেশাবেন না।
  9. 9প্রতিদিন বা সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে বিক্রেতার টাকা ফেরত দিন — সময়মতো ফেরত দেওয়াই আপনার প্রধান বিজ্ঞাপন।
  10. 10ফেরত আসা পার্সেলের হার প্রতি মাসে হিসাব করুন। হার বাড়লে সেই বিক্রেতার সঙ্গে দাম নিয়ে নতুন কথা বলুন।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চবেশি
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেবেশি
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টবেশি
  9. সেপ্টেবেশি
  10. অক্টোবেশি
  11. নভেবেশি
  12. ডিসেবেশি
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · দ্বিতীয় বড় শহর, বিক্রেতা ও ক্রেতা দুই-ই বেশি।
  • খুব উপযোগীঢাকা · দেশের বেশির ভাগ অনলাইন বিক্রেতা ও পার্সেল ঢাকাকেন্দ্রিক।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · ঢাকার লাগোয়া, কারখানা ও ঘন বসতির কারণে ডেলিভারি ঘনত্ব বেশি।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · কাপড়ের অনলাইন বিক্রেতা অনেক, পার্সেলও বেশি।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বিতরণকেন্দ্র, আশপাশের জেলায় মাল ছড়ানো যায়।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে থাকায় মাল আনা-নেওয়া সহজ।
  • সম্ভবখুলনা · বিভাগীয় শহর, রেডএক্সের মতো কুরিয়ারের বিভাগীয় দর প্রযোজ্য।
  • সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরকেন্দ্রিক অনলাইন কেনাকাটা আছে।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের অনলাইন কেনাকাটা বেশি, তবে দূরত্বের কারণে খরচ বেশি।
  • কম উপযোগীবান্দরবান · পাহাড়ি এলাকা, রাস্তা কঠিন আর পার্সেল সংখ্যা কম।
  • কম উপযোগীকক্সবাজার · দূরত্ব বেশি, প্রতি পার্সেলে খরচ বেশি পড়ে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: আপনি ক্রেতার কাছ থেকে নগদ তোলেন আর বিক্রেতাকে ফেরত দেন, তাই প্রতিদিন অন্যের বড় অঙ্কের টাকা আপনার হাতে থাকে। দিনে ১০০টি পার্সেলে গড়ে ৳১,০০০ করে হলেই এক লাখ টাকা। রাইডার টাকা নিয়ে উধাও হলে বা হিসাব ভুল হলে ক্ষতি আপনার, বিক্রেতার নয়।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: দুই-তিনজন বড় বিক্রেতার উপর পুরো ব্যবসা দাঁড়িয়ে থাকে। একজন সস্তা কুরিয়ারে চলে গেলেই দিনের পার্সেল অর্ধেক হয়ে যায়। বড় কুরিয়ারের হয়ে কাজ করলে তারা চুক্তি বদলালে বা এলাকা অন্যকে দিলে আয় বন্ধ।
  • বেশিচাহিদা: ক্রেতা মাল না নিলে পার্সেল ফেরত যায় আর যাওয়া-আসা দুই খরচই আপনার। ফেসবুকে কেনা পণ্যে ফেরতের হার বেশি, বিশেষ করে কাপড় ও জুতায়, কারণ মাপ মেলে না।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: পার্সেলে কী আছে আপনি জানেন না। নিষিদ্ধ বা চোরাই মাল বহন করলে আইনি দায় বহনকারীর উপরেও পড়ে। বিক্রেতার পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই না করলে ঝুঁকি বেশি।
  • মাঝারিঅন্যান্য: উৎসবের সময় পার্সেল কয়েকগুণ বেড়ে যায় — ঈদ, পয়লা বৈশাখ আর শীতের কাপড়ের মৌসুমে। তখন লোক ও মোটরসাইকেল না বাড়াতে পারলে দেরি হয় আর বিক্রেতা হারায়; আবার সারা বছরের জন্য বেশি লোক রাখলে খরচ ওঠে না।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

মেডিকেল ট্যুরিজম সহায়তা

বিদেশে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রোগীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ভিসা, টিকিট ও থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া। আলাদা লাইসেন্স নেই, তবে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সনদ লাগে — মেয়াদ ৩ বছর।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳১২ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
৩০ – ১২০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

নৌকা ও ট্রলার ভাড়া

মাছ ধরা, মালামাল টানা ও পর্যটকের জন্য নৌকা-ট্রলার ভাড়া দেওয়া। ডিজেল লিটারে ৳১১৫, আর ৮–২৯ অক্টোবর ২০২৬ ২২ দিন ইলিশ ধরা পুরোপুরি বন্ধ।

পুঁজি
৳১.৫ লাখ – ৳৩০ লাখ
জনবল
২ – ২০ জন
প্রথম আয়
৩০ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

অনলাইন গ্রোসারি ডেলিভারি

অ্যাপ বা পেজে অর্ডার নিয়ে মুদি বাজার বাসায় পৌঁছে দেওয়া। চিনিতে লাভ ৭%, বোতলজাত তেলে প্রায় শূন্য — এই পাতলা লাভের ভেতর থেকেই ডেলিভারির খরচ বের করতে হয়।

পুঁজি
৳১ লাখ – ৳৮ লাখ
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ডিজিটাল ও বি২বি সেবা

ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট ও ডেলিভারি

অনলাইন বিক্রেতার পণ্য গুদামে রেখে, প্যাকেট করে, ক্রেতার হাতে পৌঁছে দিয়ে নগদ টাকা তুলে আনার কাজ। পার্সেলপ্রতি কুরিয়ারের দর ৳৫৫–১৯০, আর বিক্রেতাকে টাকা বুঝিয়ে দিতে হয় সর্বোচ্চ ১০ দিনে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳২৫ লাখ
জনবল
৩ – ১৫ জন
প্রথম আয়
১০ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান