মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

জুতা মেরামত

জুতা সেলাই, সোল লাগানো ও পলিশ। সিলেটে পলিশ ৳৩০, দিনে আয় ৳৪০০–৫০০; লঞ্চে কাজ করা একজনের কোনো দিন ৳৭০০, কোনো দিন ৳২০০-ও নয়।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
জুতা মেরামত

জুতা মেরামত

শুরুর পুঁজি
৳২,০০০ – ৳৩০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম বিক্রি
১ – ৭ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
০.৫ – ৩ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ঘুরে ঘুরে সেবা · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

জুতা সেলাই, সোল লাগানো আর পলিশ — সাইটের সবচেয়ে কম পুঁজির কাজগুলোর একটি। একটি কাঠের বাক্স, সুই-সুতা, আঠা, রেত আর কালি — এইটুকু নিয়েই মানুষ বছরের পর বছর সংসার চালান। দোকান লাগে না; মোড়ে বসা যায়, বাজারে বসা যায়, এমনকি লঞ্চেও। কিন্তু আয়টা ছোট আর অনিশ্চিত, আর সেটা লুকিয়ে লাভ নেই। সিলেটের জিন্দাবাজারে ২৫ বছর ধরে বসা বিন্দু ঋষি ২০২২ সালে বলেছিলেন, পলিশ করতে তিনি ৩০ টাকা নেন, দিনে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়, মাঝেমধ্যে হাজার টাকাও ওঠে, আর দিনে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা খরচ হয়ে যায়। বরিশাল-ঢাকা লঞ্চে চার দশক ধরে কাজ করা বাবুল হোসেন ২০২৬ সালে বলেন, কোনো দিন ৭০০ টাকা আয় হয়, আবার কোনো দিন ২০০-৩০০ টাকাও ওঠে না। বিন্দু ঋষি একটা কথা বলেছিলেন যা এই কাজের ভবিষ্যৎ বুঝিয়ে দেয় — শৌখিন লোকজন এখন নিজেরাই দামি কালি দিয়ে পলিশ করে নেন, বাইরে করান না। তাই যাঁরা টিকছেন, তাঁরা শুধু পলিশে নয় — সেলাই, সোল বদল আর ব্যাগ-বেল্ট মেরামতেও হাত দিচ্ছেন।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১,০০০ – ৳৫,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৩০ / এককঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩ – ৳৬ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৮০% – ৯০%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১ – ৭ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়০.৫ – ৩ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ দিনঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
অপচয় ও ক্ষতির হার২% – ৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৭ – ১৭সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • কাঠের বাক্স, মোটা সুই ও সুতা, চামড়ার আঠা, রেত, হাতুড়ি, ছুরি, ব্রাশ ও কালি। বাবুল হোসেনের পুরো কর্মস্থলই একটি ছোট বাক্স, যা রাতে বালিশ হিসেবেও কাজে লাগে।যন্ত্রপাতি
  • সোল, হিল, চামড়ার টুকরো, চেইন, ফিতা ও নানা রঙের কালি। বেশি মজুত রাখার দরকার নেই, কারণ যা লাগে তা কাছের বাজারেই মেলে।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফুটপাতে বাক্স নিয়ে বসলে বেশির ভাগ কারিগরই নেন না, কিন্তু দোকানঘর নিলে লাগে। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু।লাইসেন্স
  • চামড়া সেলাই, সোল বসানো ও হিল বদলানো। বিন্দু ঋষি এই কাজ শিখেই ২৫ বছর সংসার চালিয়েছেন, আর বাবুল হোসেন চার দশক।দক্ষতা
  • স্থায়ী দোকান লাগে না। মোড়, বিপণিবিতানের সামনে, বাসস্ট্যান্ড বা লঞ্চের ডেক — যেখানে মানুষ চলাচল করে সেখানেই কাজ চলে।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1কাজটা শিখে নিন। সেলাই, সোল লাগানো আর হিল বদলানো — এই তিনটি শেখা কাজ, আর পলিশের চেয়ে এগুলোতেই টাকা বেশি।
  2. 2জায়গা বাছুন। মোড়, বিপণিবিতানের সামনে, অফিসপাড়া, বাসস্ট্যান্ড বা লঞ্চঘাট — যেখানে মানুষ হেঁটে যায় আর জুতা নিয়ে ভাবে।
  3. 3বিন্দু ঋষির মতো দিনের ভাগে জায়গা বদলান। তিনি সকালে মোড়ে বসেন, দুপুরে বিপণিবিতানের সামনে গিয়ে বসেন, আর থাকেন রাত ৮-৯টা পর্যন্ত।
  4. 4সরঞ্জাম জোগাড় করুন: কাঠের বাক্স, মোটা সুই ও সুতা, চামড়ার আঠা, রেত, হাতুড়ি, ছুরি, কালি ও ব্রাশ।
  5. 5শুধু পলিশের উপর ভরসা করবেন না। বিন্দু ঋষি নিজেই বলেছেন, শৌখিন লোকজন এখন নিজেরাই দামি কালি দিয়ে পলিশ করে নেন — তাই সেলাই ও সোলের কাজই আসল ভরসা।
  6. 6ব্যাগ, বেল্ট, স্যান্ডেল আর স্কুলব্যাগের চেইন মেরামতও নিন। একই সরঞ্জামে হয়, আর খদ্দেরের সংখ্যা বেড়ে যায়।
  7. 7একই জায়গায় প্রতিদিন বসুন। এই কাজে মানুষ জায়গা চেনে, মুখ চেনে — জায়গা বদলালে পুরোনো খদ্দের আর খুঁজে পান না।
  8. 8দিনের আয় আর খরচ লিখে রাখুন। বিন্দু ঋষির দিনে ১২০–১৫০ টাকা খাওয়াসহ খরচ হয়ে যায় — এই হিসাব না রাখলে বোঝাই যায় না কোন দিন আসলে লাভ হলো।
  9. 9কাজ না থাকলে জায়গা বদলে দেখুন। বাবুল হোসেন আয় না হলে ভোরে বরিশাল ঘাট থেকে ভোলার লঞ্চে ওঠেন আর সন্ধ্যায় ঢাকার লঞ্চে ফেরেন।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীবরিশাল · লঞ্চঘাট ও লঞ্চের ডেক নিজেই কর্মস্থল; বাবুল হোসেন চার দশক ধরে বরিশাল-ঢাকা লঞ্চে কাজ করছেন।
  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দর, অফিস ও বিপণিবিতান ঘিরে চলাচল বেশি; বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনেও কাজ মেলে।
  • খুব উপযোগীঢাকা · অফিসপাড়া, বিপণিবিতান ও বাসস্ট্যান্ডে পায়ে হাঁটা মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তাই কাজও এখানেই বেশি।
  • খুব উপযোগীসিলেট · নগরের জিন্দাবাজারে বছরের পর বছর ধরে এই পেশার কারিগরেরা বসেন; বিন্দু ঋষি সেখানেই ২৫ বছর কাজ করছেন।
  • সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড ও বাজারে যাত্রীদের কাছ থেকে কাজ আসে।
  • সম্ভবগাজীপুর · কারখানার শ্রমিকদের জুতা দ্রুত নষ্ট হয়, আর তাঁরা নতুন কেনার চেয়ে মেরামত করান।
  • সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি ও শিল্প এলাকা; বাজার ও লঞ্চঘাটে কাজ মেলে।
  • সম্ভবরাজশাহী · বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপাড়ায় শিক্ষার্থীদের জুতা-স্যান্ডেল মেরামতের নিয়মিত চাহিদা আছে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচাহিদা: চাহিদা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। বিন্দু ঋষির কথায়, আগে মানুষ বাইরে বের হলে জুতা পলিশ করাতেন; এখন শৌখিন লোকজন নিজেরাই দামি কালি দিয়ে পলিশ করে নেন। সস্তা জুতার দামও এত কম যে অনেকে মেরামত না করিয়ে নতুন কিনে ফেলেন। ফলে পলিশ-নির্ভর কারিগরের আয় বছর বছর কমছে, আর কাজটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সেলাই ও সোলের কাজে টিকে থাকার উপর।
  • বেশিচলতি মূলধন: আয় দৈনিক আর অনিশ্চিত, অথচ খরচ প্রতিদিনের। বাবুল হোসেনের কোনো দিন ৭০০ টাকা ওঠে, কোনো দিন ২০০-৩০০ টাকাও নয়, আর অনেক দিন সারা দিন কাজ করেও খরচটাই ওঠে না। বিন্দু ঋষির দৈনিক খরচই ১২০–১৫০ টাকা। জমা টাকা না থাকায় এক সপ্তাহ অসুস্থ হলে বা টানা বৃষ্টি হলে সংসার সরাসরি ধাক্কা খায়।
  • বেশিঅন্যান্য: বসার জায়গার কোনো নিরাপত্তা নেই। ফুটপাত বা মোড়ে বসা কারিগরকে উচ্ছেদ, দখল বা পুলিশি তাড়ার মুখে পড়তে হয়, আর জায়গা হারালে পুরোনো খদ্দেরও হারায় — কারণ এই কাজে মানুষ জায়গা চিনেই আসে। বিন্দু ঋষির আশপাশে একই পেশার আরও ১৫ জন বসেন, তাই ভিড়ও বেশি।
  • মাঝারিঅন্যান্য: উৎসবেই সবচেয়ে বেশি চাপ। বিন্দু ঋষি বলেছেন, আগে তিনি পূজার অপেক্ষায় থাকতেন, এখন মনে হয় উৎসব না এলেই ভালো — কারণ আয় বাড়ে না, কিন্তু পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কিনতে বড় অঙ্ক বেরিয়ে যায়। আয় স্থির না হলে উৎসব এই পেশায় স্বস্তি নয়, চাপ।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঝালকাঠির একজন নারী মুচি

ফুটপাতে ১২ বছর সেলাইয়ের পর এক লাখ টাকায় নিজের জুতার দোকান

ঝালকাঠির এই নারী ১২ বছর ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করেছেন। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী প্রায় ১ লাখ টাকা দিয়ে দোকানঘর তুলে নতুন জুতা-স্যান্ডেল তুলে দেন; দোকান চালু হয় ২০২০ সালের ৫ আগস্ট।

পুঁজি
৳১ লাখ
কারণ
চলতি মূলধন, ভালো যোগাযোগ
মিশ্র অভিজ্ঞতাদৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিবেদনে পাবনার একজন মুচি

কাজপ্রতি ২৫ পয়সা থেকে ১০ টাকা, ৪০ বছরে ছেলেকে মাস্টার্স

শুরুর দিকে প্রতি কাজে মিলত ২৫ পয়সা থেকে ২ টাকা; ৪০ বছর পর সর্বনিম্ন মজুরি ১০ টাকা। এই আয়েই ছেলেকে মাস্টার্স পড়িয়েছেন, মেয়েদের পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন।

কারণ
ভালো মান, নিয়মিত ক্রেতা
যা শিখেছিআজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে ভোলার একজন মুচি

কোনো দিন ৫০ টাকা, কোনো দিন কিছুই নয় — ৬৭ বছরের জুতা সেলাই

নয় বছর বয়স থেকে জুতা সেলাই করছেন, এখন বয়স ৭৬। দিনের আয় ৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে, শীতে ২০০–৩০০; বয়স্ক ভাতা মেলে তিন মাসে ১,৬৫০ টাকা।

কারণ
চাহিদা কম, চলতি মূলধন

একই রকম আরও ব্যবসা

ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

মেহেদি ও ব্রাইডাল সেবা

বিয়ে, গায়েহলুদ ও ঈদে মেহেদির নকশা ও কনের সাজ। ঢাকায় উৎসবের মেহেদি ৳১,২২৫–১,৬২৫ আর ব্রাইডাল ৳৩,৯০০–৫,৫২৫ প্রতিজন।

পুঁজি
৳৩ হাজার – ৳৫০ হাজার
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

চাবি ও তালা সেবা

চাবি বানানো, তালা সারানো ও আটকে যাওয়া দরজা খোলা। চাবি ৳২৫–২০০, বাড়িতে ডাক পড়লে ৳২৫০–৫০০; ভালো দিনে হাজার টাকা, খারাপ দিনে কিছুই না।

পুঁজি
৳৩ হাজার – ৳৪০ হাজার
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম আয়
১ – ৭ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

টিউশন ও হোম টিউটর

ছাত্রের বাড়িতে বা নিজের ঘরে পড়িয়ে ছাত্রপ্রতি মাসিক আয়। পুঁজি প্রায় শূন্য। দেশে তিন-চতুর্থাংশের বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটর বা কোচিংয়ে পড়ে।

পুঁজি
৳৫০০ – ৳৮ হাজার
জনবল
১ জন
প্রথম আয়
৭ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
ঘরোয়া ও স্থানীয় সেবা

ঘড়ি মেরামত

হাতঘড়ি ও দেয়ালঘড়ি মেরামত। দেশে ঘড়ির বাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু পাটুয়াটুলীতে ৩০ টাকাতেও ঘড়ি মেলে — তাই সস্তা ঘড়ি কেউ সারায় না।

পুঁজি
৳৫ হাজার – ৳১.৫ লাখ
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান