টাইলস ও মার্বেল ফিটিং
মেঝে, দেয়াল ও বাথরুমে টাইলস-মার্বেল বসানোর কাজ। টাইলস প্রতিটি ৳৫৫–১৭০, আর টাইলস মিস্ত্রির সরকারি ন্যূনতম হাজিরা শহরে ৳১১০৫ — সাইটের সবচেয়ে বেশি।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

টাইলস ও মার্বেল ফিটিং
- শুরুর পুঁজি
- ৳৩০,০০০ – ৳২,৫০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৭ – ৩০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ১ – ৩ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ঘুরে ঘুরে সেবা · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
টাইলস ও মার্বেল বসানোর কাজ — মেঝে, দেয়াল, বাথরুম, সিঁড়ি আর রান্নাঘর। বাড়ির কাজের একেবারে শেষ ধাপ, তাই মালিক তখন ক্লান্ত আর টাকাও প্রায় শেষ। কাজটা মাপে চলে, আর বাজারে দর হয় বর্গফুটে। টাইলসের নিজের দাম টুকরা ধরে। প্রথম আলোর ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখের খুচরা বাজারদরে আকিজের ডবল চার্জ টাইলস ৳১২০–১৩০, পলিশ ৳৯৩–৯৫, হোমোজিনাস ৳৭৮–৮০; স্যাফায়ারের ওয়াল টাইলস ৳৫৭, শেলটেকের ফ্লোর টাইলস ৳৬৫, ডিবিএল ৳১২৫, আর পার্কিং টাইলস প্রতিটি ৳৫৫। বড় মাপের টাইলসের দাম দ্বিগুণের বেশি। মজুরিতেও এই কাজ সবার উপরে। নির্মাণ ও কাঠশিল্পের ন্যূনতম মজুরি কাঠামোয় টাইলস ও মোজাইক মিস্ত্রি ১ নম্বর গ্রেডে, শহরে দৈনিক ৳১১০৫ আর গ্রামে ৳১০২০ — রাজমিস্ত্রির চেয়েও বেশি। কারণ টাইলস একবার ভুল বসলে খুলে আবার বসাতে হয়, আর তখন টাইলসও নষ্ট হয়, মজুরিও দ্বিগুণ লাগে। এখনকার সবচেয়ে বড় সমস্যা মাল পাওয়া। গ্যাস-সংকটে সিরামিক খাতের উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমেছে, কারখানা বন্ধ, বাজারে এক রঙের টাইলস মাঝপথে ফুরিয়ে যাচ্ছে। একই লটের টাইলস না পেলে মেঝের রং মেলে না, আর দোষটা এসে পড়ে মিস্ত্রির ঘাড়ে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৪৯,০০০ – ৳১,৫০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৫৫ – ৳১৭০ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৪৭ – ৳১৫০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ১২% – ১৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৭ – ৩০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১ – ৩ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ৭ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ১৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৪০ – ৪০০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- টাইলস কাটার মেশিন, হাতে কাটার কাটার, স্পিরিট লেভেল, রাবার হাতুড়ি, স্পেসার, নটেড ট্রয়াল, সুতা ও মাপার ফিতা, গ্রাউট গান। যন্ত্র কম, কিন্তু কাটার মেশিন ভালোটা না হলে টাইলস বেশি ভাঙে।যন্ত্রপাতি
- সিমেন্ট, বালু, টাইলস অ্যাডহেসিভ ও গ্রাউট। যে মিস্ত্রি নিজে টাইলস কিনে দেন, তাঁর আগাম মাল কেনার টাকাও লাগে।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কার্যদিবস।লাইসেন্স
- মাপ ও লেআউট ঠিক করা, নিচের তল সমান করা, পানির ঢাল বোঝা আর কোণা-কিনারা কেটে মেলানো। মজুরি কাঠামোয় টাইলস ও মোজাইক মিস্ত্রি সবচেয়ে উপরের গ্রেডে — এটাই বলে দেয় দক্ষতাটা কতটা দামি।দক্ষতা
- টাইলস ও স্যানিটারি দোকান, আর মার্বেল-গ্রানাইটের গদি। এক লটের মাল একসঙ্গে পাওয়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট দোকানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা লাগে।সরবরাহকারী
- নিজের কারখানা লাগে না, কাজ হয় সাইটে। তবে যন্ত্রপাতি ও অবশিষ্ট টাইলস রাখার একটা জায়গা দরকার।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কাজ শুরুর আগে মেঝে বা দেয়ালের মাপ নিন আর বর্গফুট হিসাব করুন। কত টাইলস লাগবে, তার সঙ্গে কাটাকুটির জন্য বাড়তি ধরুন।
- 2মালিকের সঙ্গে ঠিক করুন — টাইলস কে কিনবে, সিমেন্ট-বালু কে দেবে, আর ভাঙা টাইলসের দায় কার। এই তিনটা আগে না বললেই পরে ঝগড়া।
- 3টাইলস কেনার সময় একই লটের মাল কিনুন আর পুরো কাজের জন্য একবারেই কিনে রাখুন। লট বদলালে রঙে তফাত হয়, খালি চোখেই ধরা পড়ে।
- 4যন্ত্রপাতি গোছান: টাইলস কাটার মেশিন, হাতে কাটার কাটার, স্পিরিট লেভেল, রাবার হাতুড়ি, স্পেসার, নটেড ট্রয়াল, গ্রাউটের সরঞ্জাম।
- 5সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, বিশেষ করে ইন্টেরিয়র ও দোকানের কাজ ধরতে চাইলে।
- 6মেঝে সমান করে নিন। নিচের ঢালাই বা প্লাস্টার উঁচু-নিচু থাকলে টাইলস ফাঁপা হয়ে বসে আর কয়েক মাসেই খুলে আসে।
- 7পানি যাওয়ার ঢাল ঠিক রাখুন — বাথরুম, ছাদ ও বারান্দায় এটাই সবচেয়ে বড় ভুলের জায়গা।
- 8কাজের শুরুতে অগ্রিম নিন আর ঘর ধরে ধরে বিল করুন। একেবারে শেষে টাকা চাইলে মালিকের হাত ততক্ষণে খালি।
- 9গ্রাউট ও ফিনিশিংয়ের কাজ শেষ করে মালিককে ডেকে দেখান, তারপর শেষ কিস্তি বুঝে নিন।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনকম
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেকম
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · আবাসন ও বাণিজ্যিক ভবনের কাজ নিয়মিত; বন্দরের কারণে আমদানি করা মার্বেল-গ্রানাইটও এখানে আগে আসে।
- খুব উপযোগীঢাকা · ফ্ল্যাট ও ইন্টেরিয়রের কাজ সবচেয়ে বেশি, আর টাইলসের শোরুমও এখানেই ঘন।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · দেশের বেশির ভাগ সিরামিক কারখানা এই জেলায়, তাই মাল পাওয়া সহজ আর দামও কম পড়ে।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · সিরামিক কারখানা ও ঘন আবাসন দুটোই আছে।
- খুব উপযোগীসিলেট · প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে দামি টাইলস ও মার্বেলের চাহিদা বেশি, আর টাকা তুলনামূলক সময়মতো আসে।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; নতুন ভবনের কাজ বাড়ছে।
- সম্ভবকক্সবাজার · হোটেল ও রিসোর্টে বড় মাপের টাইলস ও মার্বেলের কাজ পাওয়া যায়।
- সম্ভবকুমিল্লা · প্রবাসী আয়ে বাড়ি তৈরি বেশি; মহাসড়কের ধারে দোকান ও রেস্টুরেন্টের ইন্টেরিয়রের কাজও মেলে।
- সম্ভবহবিগঞ্জ · জেলায় সিরামিক কারখানা আছে আর গ্যাস-সংকটেও এখানকার কারখানা তুলনামূলক কম ভুগেছে, তাই মাল পাওয়া সহজ।
- সম্ভবরাজশাহী · শহরে বহুতল ভবন বাড়ছে, মজুরি ঢাকার চেয়ে কম।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিনির্ভরশীলতা: মাল না পাওয়াই এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। গ্যাস-সংকটে সিরামিক খাতের সার্বিক উৎপাদন ৩০ শতাংশে নেমেছে বলে জানিয়েছে বিসিএমইএ। গাজীপুরের একটি কারখানা এক সপ্তাহ পুরো বন্ধ ছিল, আরেকটির চারটি ইউনিটের তিনটি ১৭ দিন বন্ধ — দিনে ৩ লাখ বর্গফুট উৎপাদনের জায়গায় নেমেছে ৫০ হাজারে। এক রঙের টাইলস মাঝপথে ফুরিয়ে গেলে কাজ আটকে যায়, আর অন্য লটের মাল লাগালে রং মেলে না।
- বেশিবাকিতে বিক্রি: টাইলসের কাজ বাড়ির একেবারে শেষ ধাপ। ততক্ষণে মালিকের বাজেট শেষ, ব্যাংকের ঋণও তোলা হয়ে গেছে। ফলে শেষ কিস্তি মাসের পর মাস আটকে থাকে, আর মিস্ত্রি ইতিমধ্যে তাঁর সহকারীর মজুরি দিয়ে ফেলেছেন। ঘর ধরে ধরে বিল না করলে এই টাকা আদায় করা কঠিন।
- মাঝারিঅন্যান্য: ভুল বসালে খরচ দ্বিগুণ। টাইলস তুলে ফেললে সেটা আর ব্যবহার করা যায় না, নতুন টাইলস কিনতে হয় (প্রতিটি ৳৫৫–১৭০), আর মজুরিও আবার দিতে হয় — শহরে দিনে ৳১১০৫। নিচের তল সমান না থাকলে বা পানির ঢাল ভুল হলে কয়েক মাস পরে সমস্যা ধরা পড়ে, তখন দায় পুরোটাই মিস্ত্রির।
- মাঝারিচাহিদা: কাজ আসে বাড়ি তৈরির মৌসুমে। বর্ষায় নির্মাণ কমে গেলে টাইলসের কাজও কমে, কারণ এটা সব সময় শেষ ধাপ। আবার ঈদের আগে ঘর ঠিক করার হিড়িক পড়ে। সারা বছর সমান কাজ পাওয়া যায় না, তাই ভালো সময়ের আয় দিয়ে খারাপ সময় চালাতে হয়।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপনকশি কাঁথা
কাপড় স্তরে স্তরে সাজিয়ে সুই-সুতায় নকশা তোলা কাঁথা। জামালপুরে মজুরিসহ খরচ ৳১,৬০০–১,৮০০, ঢাকার পাইকারকে বিক্রি ৳২,০০০, আর ঢাকার দোকানে সেটাই ৳৪,০০০–৫,০০০।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳২ লাখ
- জনবল
- ১ – ২৫ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৩৬৫ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপমৃৎশিল্প ও টেরাকোটা
মাটির হাঁড়ি-পাতিল, টব ও টেরাকোটার শোপিস তৈরি। বিজয়পুরের পণ্য বিদেশে যায়, কিন্তু গ্যাস না থাকায় লাকড়িতে পোড়াতে হয় আর মাল নষ্ট হয়।
- পুঁজি
- ৳৪০ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ২ – ১২ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপমোমবাতি ও সাবান তৈরি
অল্প পুঁজিতে ছোট কারখানায় মোমবাতি ও সাবান তৈরি। সাবান বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক তালিকায় — সিএম লাইসেন্স ছাড়া বিক্রি করা যাবে না; মোমবাতি তালিকার বাইরে।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ১ – ১০ জন
- প্রথম আয়
- ১৯ – ৯৪ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপকাঠের খেলনা তৈরি
আসবাবের কারখানার ফেলে দেওয়া কাঠের টুকরা দিয়ে শিশুদের খেলনা বানানো। বিসিকের মেলায় কাঠের পণ্য ৳১০০ থেকে ৳৩,০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
- পুঁজি
- ৳২০ হাজার – ৳৩ লাখ
- জনবল
- ১ – ১০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ১২০ দিন
