সিমেন্টের খুঁটি ও পিলার তৈরি
ছাঁচে ঢেলে কংক্রিটের খুঁটি ও পিলার বানানো। কনক্রিট ব্লকের সঙ্গে একই মিক্সারে চলে, আর রড-সিমেন্টের দাম বাড়াই এখানকার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

সিমেন্টের খুঁটি ও পিলার তৈরি
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,৫০,০০০ – ৳৯,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ১০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ – ৯০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৬ – ১২ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
সিমেন্ট, বালু, পাথরের কুচি আর রড দিয়ে ছাঁচে ঢেলে খুঁটি বা পিলার বানানোর কাজ। বেড়ার খুঁটি, সীমানা প্রাচীরের পিলার, ড্রাগন ও পানের বাগানের খুঁটি, গরুর খোঁয়াড়, মাছের ঘেরের খুঁটি — গ্রামে কাঠ আর বাঁশের জায়গা এগুলোই নিচ্ছে, কারণ একবার পুঁতলে বিশ-ত্রিশ বছর চলে। যন্ত্রপাতি কনক্রিট ব্লকের কারখানার মতোই — একটাই মিক্সার মেশিনে দুটো কাজ চলে, তাই অনেকে ব্লক আর খুঁটি একসঙ্গে বানান। কাঁচামালের দাম এখন বড় চিন্তা। ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক সপ্তাহেই রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা আর সিমেন্ট বস্তাপ্রতি ১০–২০ টাকা বেড়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ৬০ গ্রেডের এমএস রড টনপ্রতি ৳৯২,৫০০–৯৪,৫০০, যা এক বছরে ১০ শতাংশ বেড়েছে; ৪০ গ্রেড ৳৮৯,০০০–৯১,০০০, বেড়েছে ১৭ শতাংশ। সিমেন্টের বস্তা ব্র্যান্ডভেদে ৳৪৮০–৫৬০। খুঁটি ঢালার পর পানি দিয়ে শক্ত করতে (কিউরিং) সময় লাগে, তাই টাকা ঢালার পর মাল বিক্রির উপযুক্ত হতে কয়েক সপ্তাহ যায়। এই অপেক্ষাটাই ছোট কারখানার সবচেয়ে বড় চাপ।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳২,০০,০০০ – ৳৮,৫০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৩১,৫০০ – ৳৩১,৬০০ / একক | সরকারি সূত্র | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳২২,০০০ – ৳২৭,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ১৪% – ৩০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ – ৯০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৬ – ১২ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ২০ – ৬০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১ – ৫ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- কংক্রিট মিক্সার মেশিন, খুঁটির ছাঁচ (স্টিলের ছাঁচ স্থানীয় ওয়ার্কশপে বানানো যায়; আমদানি করা প্লাস্টিকের ছাঁচ অনলাইনে ৳৪,০০০–৮,৫০০), ভাইব্রেটর, বেলচা-ঝুড়ি, পানির পাম্প আর কিউরিংয়ের হাউস। কনক্রিট ব্লক বানালে একই মিক্সার দুই কাজে চলে।যন্ত্রপাতি
- সিমেন্ট (৫০ কেজির বস্তা ব্র্যান্ডভেদে ৳৪৮০–৫৬০), এমএস রড (৬০ গ্রেড টনপ্রতি ৳৯২,৫০০–৯৪,৫০০, ৪০ গ্রেড ৳৮৯,০০০–৯১,০০০), বালু (সিএফটি ৳৮–২৭) আর পাথরের কুচি (দেশি থ্রি-ফোর সিএফটি ৳১২৩–১২৫)।শুরুর মাল
- টিআইএন ও ভ্যাট নিবন্ধন — জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ঠিকাদার বা কোম্পানির কাছে বিল দিতে হলে এ দুটো লাগে, কারণ বিল থেকে উৎসে কর কাটা হয়।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কার্যদিবস।লাইসেন্স
- মিশ্রণের অনুপাত ঠিক রাখা, রডের খাঁচা বাঁধা, ভাইব্রেটর দিয়ে ফাঁক বের করা আর কিউরিং ঠিকমতো করা। এগুলোর যেকোনো একটিতে ছাড় দিলে খুঁটি পোঁতার সময়ই ভাঙে।দক্ষতা
- সিমেন্টের ডিলার, রডের দোকান, বালু ও পাথরের গদি। একসঙ্গে বেশি কিনলে দাম কমে, তাই এঁদের সঙ্গে বাকির সম্পর্ক গড়াই আসল কাজ।সরবরাহকারী
- রাস্তার পাশে খোলা জায়গা, ঢালাই ও শুকানোর জন্য সমতল মেঝে, পানির ব্যবস্থা আর বিদ্যুৎ সংযোগ। ভারী মাল বলে ট্রাক ঢোকার রাস্তা বাধ্যতামূলক।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1ঠিক করুন কী ধরনের খুঁটি বানাবেন — বেড়ার ছোট খুঁটি, সীমানা প্রাচীরের পিলার, না বাগানের খুঁটি। মাপ আর রডের পরিমাণ প্রতিটির আলাদা।
- 2রাস্তার পাশে জায়গা নিন। ভারী মাল, তাই ট্রাক-ট্রাক্টর ঢুকতে না পারলে ব্যবসা চলে না। পানির ব্যবস্থাও লাগবে।
- 3সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, আর বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট পাওয়া যায় কি না খোঁজ নিন।
- 4ছাঁচ ও মিক্সার জোগাড় করুন। স্টিলের ছাঁচ স্থানীয় ওয়ার্কশপে বানানো যায়, আর আমদানি করা প্লাস্টিকের ছাঁচ অনলাইনে ৳৪,০০০–৮,৫০০ পড়ে। কনক্রিট ব্লকের কাজও করলে একই মিক্সারে দুটো চলবে।
- 5রড, সিমেন্ট, বালু আর পাথরের কুচির সরবরাহকারী ঠিক করুন। দাম সপ্তাহে সপ্তাহে বদলায়, তাই একদিনের দর ধরে মাসের হিসাব করবেন না।
- 6নমুনা হিসেবে অল্প কয়েকটি খুঁটি ঢালুন আর ভেঙে দেখুন কতটা শক্ত হচ্ছে। মিশ্রণের অনুপাত এখানেই ঠিক করে নিতে হবে।
- 7ঢালার পর পানি দিয়ে কিউর করুন। তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করলে খুঁটি পোঁতার সময়ই ভেঙে যায়, আর একবার নাম খারাপ হলে গ্রামে আর কেউ নেয় না।
- 8আশপাশের হার্ডওয়্যার ও নির্মাণসামগ্রীর দোকানে নমুনা রাখুন, আর ড্রাগন-পান চাষি ও ঘের মালিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
- 9পরিবহনের হিসাব আলাদা করে রাখুন। খুঁটি ভারী, তাই দূরে পাঠাতে গাড়ি ভাড়াই দামের বড় অংশ হয়ে যায়।
- 10শুকনো মৌসুমে বেশি বানিয়ে রাখুন। বর্ষায় ঢালাই ও শুকানো দুটোই কঠিন, অথচ তখন বেড়ার চাহিদা কম থাকে না।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনকম
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেকম
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীবগুড়া · উত্তরবঙ্গের নির্মাণসামগ্রীর কেন্দ্র; বিসিক শিল্পনগরী আছে আর যন্ত্রপাতি স্থানীয়ভাবে মেলে।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · কারখানা ও আবাসনের সীমানা প্রাচীরের কাজ বেশি, আর ঢাকার বাজার কাছে।
- খুব উপযোগীযশোর · ড্রাগন ও পানের বাগান এবং মাছের ঘেরের খুঁটির চাহিদা বেশি।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · শিল্প এলাকার বেড়া ও প্রাচীরের চাহিদা নিয়মিত, সরবরাহকারীও কাছে।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · শিল্প ও আবাসনের প্রাচীরের কাজ বেশি; পাথর ও সিমেন্ট বন্দরের কাছে বলে সস্তা।
- সম্ভবকুমিল্লা · মহাসড়কের ধারে জমি ঘেরার কাজ বাড়ছে, আর সরবরাহ সহজ।
- সম্ভবঢাকা · চাহিদা সবচেয়ে বেশি, কিন্তু জায়গার ভাড়া চড়া বলে কারখানা সাধারণত শহরের বাইরে বসে।
- সম্ভবখুলনা · চিংড়ির ঘের ও মাছের খামারের খুঁটির বড় বাজার।
- সম্ভবনাটোর · ড্রাগন ফল ও আমবাগানের এলাকা; বাগানের খুঁটির নিয়মিত চাহিদা।
- সম্ভবরাজশাহী · বাগান ও জমি ঘেরার চাহিদা, আর শহরে নির্মাণকাজ বাড়ছে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: কাঁচামালের দাম হঠাৎ লাফ দেয়। ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রথম আলো জানায়, এক সপ্তাহের মধ্যে বড় ব্র্যান্ডের রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে ৳৯০,০০০–৯৪,৫০০ হয়েছে আর সিমেন্ট বস্তাপ্রতি ১০–২০ টাকা বেড়েছে। কারণ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় জাহাজভাড়া বৃদ্ধি; ক্লিংকারের টনপ্রতি দাম ৪২ ডলার থেকে ৫৮ ডলারে ওঠে। আগে থেকে দর দেওয়া থাকলে সেই চালানে পুরো লাভ চলে যায়।
- বেশিচলতি মূলধন: টাকা আগে যায়, মাল পরে বিক্রি হয়। সিমেন্ট, রড, বালু ও পাথর নগদে কিনে ঢালাই করতে হয়, তারপর কিউরিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটা খুঁটিও বিক্রি করা যায় না। এই ফাঁকে নতুন চালানের কাঁচামালও কিনতে হয়। হাতে টাকা না থাকলে কারখানা মাঝপথে থেমে যায়।
- মাঝারিচাহিদা: চাহিদা মৌসুমি আর স্থানীয়। শুকনো মৌসুমে বেড়া ও সীমানা প্রাচীরের কাজ হয়, বর্ষায় প্রায় বন্ধ। ভারী মাল বলে দূরে পাঠানো লাভজনক নয় — গাড়ি ভাড়াই দামের বড় অংশ খেয়ে ফেলে। ফলে বাজার মূলত আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নেই সীমাবদ্ধ, আর সেখানে আরেকটা কারখানা বসলে দাম পড়ে যায়।
- মাঝারিঅন্যান্য: মান নিয়ে বিপদ। মিশ্রণে সিমেন্ট কম দিলে বা কিউরিং তাড়াতাড়ি থামালে খুঁটি পোঁতার সময়ই ভেঙে যায়। গ্রামের বাজারে খবর দ্রুত ছড়ায় — একবার 'অমুকের খুঁটি ভাঙে' রটে গেলে বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়, আর ফেরত-বদল দিতে গিয়ে আরও টাকা যায়। ছোট কারখানার কোনো পরীক্ষাগার থাকে না, তাই মান ধরে রাখা পুরোটাই মালিকের নিজের শৃঙ্খলার উপর।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ১৫ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · ঢাকা মহানগর — সিপাহীবাগ, মিরপুর-৬, মোহাম্মদপুর টাউন হল, নিউমার্কেট, রামপুরা, মহাখালী বাজার
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
গরু বেচে ৪০ হাজার, বাকিটা ১৮ মাসের শ্রমে — এখন দিনে লাভ ১২–১৫ হাজার
২,৮০,০০০ টাকার খুঁটির কারখানা কেনা হয়েছিল হাতে মাত্র ৪০,০০০ টাকা নিয়ে; বাকি টাকা শোধ হয়েছে চাচার কারখানায় ১৮ মাস শ্রম দিয়ে। এখন দুই কারখানায় দিনে ৬০০–৬৫০ খুঁটি, লাভ ১২,০০০–১৫,০০০ টাকা।
- পুঁজি
- ৳৪০ হাজার
- কারণ
- চলতি মূলধন, ভালো যোগাযোগ
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপজুতা তৈরির কারখানা
ছোট কারখানায় স্যান্ডেল ও জুতা বানিয়ে পাইকারের কাছে বিক্রি। স্যান্ডেল ৳২৫০–৭০০, চামড়ার জুতা ৳১,২০০। ভৈরবে ৩,৫০০–৫,০০০ কারখানায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজ করেন।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপথাই গ্লাস ও অ্যালুমিনিয়াম
অ্যালুমিনিয়াম ও কাচ মেপে কেটে দরজা-জানালা-পার্টিশন বানিয়ে লাগানো। সাধারণ কাজের দর প্রতি বর্গফুট ৳৪৭০–৭৫০, আর মাপ ভুল হলে কাটা মাল ফেরত যায় না।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳৬ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ২০ – ৬০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপখাতা তৈরির কারখানা
কাগজ কেটে, ভাঁজ করে, মলাট দিয়ে খাতা বানানো। অনলাইনে ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৳১৬৯ আর ১২০ পৃষ্ঠার ৳৭৫, অথচ এক বছরে কাগজের প্যাকেট ১০০–১৫০ টাকা বেড়েছে।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳৭ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপআগর-আতর উৎপাদন
আগরগাছের কাঠ ভিজিয়ে জ্বাল দিয়ে সুগন্ধি আতর নামানো। বড়লেখার সুজানগরে প্রায় ২৫০টি কারখানা, মানভেদে তোলাপ্রতি ৳৬,০০০–১০,০০০, আর প্রায় পুরোটাই রপ্তানি হয়।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১০ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ২,৫৫৫ – ১০,৯৫০ দিন
