দড়ি ও সুতলি তৈরি
পাটের আঁশ পাকিয়ে দড়ি-সুতলি বানানো। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ কাঁচা পাট কেজিপ্রতি প্রায় ৳৮৬–৯৯, আর তৈরি সুতলি অনলাইনে ৳৩৯০ কেজি — এই ব্যবধানই ব্যবসা।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

দড়ি ও সুতলি তৈরি
- শুরুর পুঁজি
- ৳৪০,০০০ – ৳৬,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ১৫ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১৫ – ৬০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ২ – ৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · সহজ
ব্যবসাটি সম্পর্কে
পাটের আঁশ পাকিয়ে দড়ি আর সুতলি বানানো — এই কাজ বাংলাদেশের গ্রামে বহু পুরোনো, কিন্তু এখনো টিকে আছে কারণ চাহিদা কমেনি। বস্তা বাঁধা, মাল প্যাক করা, কুরিয়ারের পার্সেল বাঁধা, খাট-চেয়ারের বুনন, গরু বাঁধা, নৌকা বাঁধা, ইটভাটা ও নির্মাণের কাজ — সবখানেই দড়ি লাগে। কাঁচামাল দেশেই মেলে, আর সেটাই এই ব্যবসার আসল সুবিধা। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরায় মানভেদে প্রতি মণ কাঁচা পাট বিক্রি হচ্ছিল ৳৩,২০০–৩,৭০০ টাকায়, অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৳৮৬–৯৯। অন্যদিকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনলাইনে পাটের দড়ি ও সুতলি কেজিপ্রতি ৳৩৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। মাঝের এই ব্যবধানটুকুই আপনার ব্যবসা — তবে তার ভেতরে ঢুকে যায় মজুরি, আঁশের অপচয়, পরিবহন আর আড়তের কমিশন। কাজটা ছোট করেও শুরু করা যায়। হাতে ঘোরানো চরকা দিয়ে বাড়ির উঠানেই সুতলি পাকানো যায়, আবার মোটর লাগানো যন্ত্র বসালে দিনে অনেক বেশি উৎপাদন হয়। পাট ওঠে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে, তখনই দাম সবচেয়ে কম থাকে। যে কারিগর মৌসুমে পাট কিনে সারা বছরের জন্য মজুত করতে পারেন, তাঁর লাভ বেশি; যিনি প্রতি সপ্তাহে হাট থেকে কিনে চালান, তাঁর লাভ পাটের দামের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে ওঠানামা করে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳২৫,০০০ – ৳৩,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৩৯০ / কেজি | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৮৬ – ৳৯৯ / কেজি | বাজারদর | |
| মোট লাভের হার | ৭৪% – ৭৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১৫ – ৬০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ২ – ৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ২০ – ১৮০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৮% – ১৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ২০ – ৫০০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- পাকানোর চরকা বা মোটরচালিত টুইস্টিং যন্ত্র, আঁশ আঁচড়ানোর যন্ত্র, ওজনের দাঁড়িপাল্লা আর গুটিয়ে রাখার ফ্রেম। যন্ত্রের দর এই গবেষণায় পাওয়া যায়নি।যন্ত্রপাতি
- কাঁচা পাট — ১৫-০৯-২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরায় মানভেদে প্রতি মণ ৳৩,২০০–৩,৭০০, অর্থাৎ কেজিপ্রতি প্রায় ৳৮৬–৯৯। এক বেলে প্রায় ১৮২ কেজি পাট থাকে।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু, বছর বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- আঁশের মান চেনা, সমান মোটাই ধরে রেখে পাকানো আর গিঁট দেওয়া। কাজটা কঠিন নয়, কিন্তু হাত না বসলে দড়ির মোটাই এলোমেলো হয় আর ক্রেতা ফিরিয়ে দেয়।দক্ষতা
- পাটের হাট ও গ্রামের ফড়িয়া — সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা, পাবনার সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটের মতো সাপ্তাহিক পাটের হাট।সরবরাহকারী
- শুকনো ও ছাদ-দেওয়া জায়গা — পাট ভিজলে পচে যায় আর রং নষ্ট হয়ে দাম পড়ে যায়। পাকানোর জন্য লম্বা খোলা জায়গাও লাগে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1কোন জিনিস বানাবেন তা আগে ঠিক করুন — পাতলা সুতলি (বস্তা ও প্যাকেট বাঁধার), মাঝারি দড়ি (গরু বাঁধা, খাট বোনা) নাকি মোটা দড়ি (নৌকা, নির্মাণ)। প্রতিটির ক্রেতা আলাদা, দামও আলাদা।
- 2পাটের হাট ঠিক করুন। সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় পাটের বড় বাজার আছে, আর ব্যবসায়ীরা গ্রামে গিয়েও কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনেন। মণে ৫০০ টাকার তফাত মানে কেজিতে প্রায় ১৩ টাকা — হাট বেছে নেওয়াই প্রথম লাভ।
- 3জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে পাট কিনুন। ২০২৫ সালে মৌসুমের শুরুতে সাতক্ষীরায় মণ ছিল ৳৩,৪০০–৩,৫০০, আর মৌসুম শেষে ৳৪,০০০–৪,২০০। যতটা সম্ভব মৌসুমেই কিনে শুকনো জায়গায় রাখুন।
- 4আঁশ বেছে নিন ও পরিষ্কার করুন। মানভেদে দাম আলাদা, আর খারাপ আঁশ দিয়ে পাকানো দড়ি ছিঁড়ে যায় — একবার ছিঁড়লে সেই ক্রেতা আর ফেরে না।
- 5উৎপাদনের যন্ত্র বসান। হাতে ঘোরানো চরকায় বাড়ির উঠানেই শুরু করা যায়; মোটরচালিত পাকানোর যন্ত্র বসালে দিনের উৎপাদন অনেক বাড়ে। শুরুতে হাতে শুরু করে বিক্রি বাড়লে যন্ত্রে যাওয়াই নিরাপদ।
- 6সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। বাড়িতে ছোট করে করলেও বিক্রির জন্য এটি লাগে।
- 7নিয়মিত ক্রেতা ধরুন। চালের ও সারের আড়ত, কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান, ইটভাটা ও নির্মাণের ঠিকাদার — এরা প্রতি মাসেই একই পরিমাণ দড়ি নেয়। একবার নিয়মিত হয়ে গেলে বিক্রির ঝামেলা থাকে না।
- 8পাটকাঠিও আলাদা করে বিক্রি করুন যদি নিজে পাট প্রক্রিয়া করেন। সাতক্ষীরায় প্রতি আঁটি পাটকাঠি ৳৬০–১০০ টাকায় বিক্রি হয়।
- 9হস্তশিল্প ও রপ্তানিমুখী ক্রেতার খোঁজ করুন। পাটের সুতলি নকশিকাঁথা, ব্যাগ, পাপোশ ও ঘর সাজানোর পণ্যে ব্যবহার হয়, আর সেখানে দাম সাধারণ দড়ির চেয়ে বেশি।
- 10প্রতি চালানে কত কেজি পাট ঢুকল আর কত কেজি দড়ি বেরোল তা লিখে রাখুন। এই অপচয়ের হিসাবই বলে দেবে আপনি আসলে লাভ করছেন কি না।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টবেশি
- সেপ্টেবেশি
- অক্টোবেশি
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীফরিদপুর · দেশের অন্যতম প্রধান পাট উৎপাদন ও পাট ব্যবসার কেন্দ্র; কাঁচামাল হাতের নাগালে।
- খুব উপযোগীযশোর · পাট চাষ ও পাট ব্যবসা দুটোই বেশি, আর হস্তশিল্পের কারিগরও আছেন।
- খুব উপযোগীপাবনা · সাঁথিয়াসহ উপজেলাগুলোতে হাজার হাজার হেক্টরে পাট হয়; করমজা চতুরহাটে সাপ্তাহিক পাটের হাট বসে।
- খুব উপযোগীরাজবাড়ী · পাট চাষের বড় এলাকা আর ফরিদপুরের পাটের বাজার লাগোয়া।
- খুব উপযোগীসাতক্ষীরা · সাত উপজেলায় প্রায় ১১,৬৭৫ হেক্টরে পাট, আর পাটকেলঘাটায় বড় পাটের বাজার — তবু জেলায় পাটভিত্তিক শিল্প নেই, তাই কারখানার জায়গা ফাঁকা।
- সম্ভবজামালপুর · পাট ও পাটপণ্যের হস্তশিল্পের ঐতিহ্য আছে, নারী কারিগরের সংখ্যা বেশি।
- সম্ভবকুষ্টিয়া · পাটের আবাদ ভালো, আর ছোট কারখানার জন্য জায়গা ও শ্রমিক সহজে মেলে।
- সম্ভবনড়াইল · পাট চাষের এলাকা, আর যশোর-খুলনার বাজার কাছে।
- সম্ভবসিরাজগঞ্জ · যমুনার চরে পাটের আবাদ বেশি, আর তাঁত ও সুতার কাজের অভিজ্ঞ শ্রমিক আছে।
- সম্ভবটাঙ্গাইল · পাট ও তাঁতের এলাকা; সুতা ও আঁশের কাজ জানা কারিগর পাওয়া যায়।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: পাটের দাম বছরে দুইবার বদলায় আর সেটাই লাভ খেয়ে ফেলে। ২০২৫ সালে সাতক্ষীরায় মৌসুমের শুরুতে মণ ছিল ৳৩,৪০০–৩,৫০০, শেষে ৳৪,০০০–৪,২০০ — প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। যে কারিগর মৌসুমে কিনে রাখার টাকা জোগাড় করতে পারেন না, তাঁকে বছরের শেষ দিকে সবচেয়ে চড়া দামে পাট কিনে একই দামে দড়ি বেচতে হয়।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: একটি জেলায় পাট হলেই সেখানে পাটভিত্তিক শিল্প থাকে না। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিজেই বলেছে, জেলায় পাটভিত্তিক কোনো শিল্প না থাকায় উৎপাদিত পাট জেলার বাইরে বিক্রি হয়। ছোট কারিগরকে তাই কাঁচামাল কিনতে আর তৈরি মাল বেচতে দুই দিকেই পরিবহন খরচ দিতে হয়।
- মাঝারিচাহিদা: সস্তা প্লাস্টিক ও নাইলনের দড়ি একই কাজ কম দামে করে দেয়। প্যাকেজিং ও বাঁধাছাঁদার অনেক কাজে এখন প্লাস্টিকের ফিতা ব্যবহার হয়, আর ক্রেতা দাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেন। পাটের দড়ি টেকে সেখানেই, যেখানে পচনশীলতা বা প্রাকৃতিক উপাদান শর্ত।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: আড়ত ও বড় ক্রেতা মাল নিয়ে যায় আগে, টাকা দেয় পরে। ছোট কারিগরের হাতে তখন পরের চালানের পাট কেনার টাকা থাকে না, আর কাজ থেমে গেলে শ্রমিকও অন্য কাজে চলে যান।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
৩ হাজার টাকায় শুরু, এখন মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকার বিক্রি
২০২০ সালে ৩,০০০ টাকা নিয়ে ঘরে বসে শুরু। এখন মাসে বিক্রি ৩–৩.৫ লাখ টাকা, খরচ বাদে মুনাফা বিক্রির ১৫–১৭ শতাংশ, আর কাজ করেন ২১–৩০ জন।
- পুঁজি
- ৳৩ হাজার
- কারণ
- চলতি মূলধন, চাহিদা কম
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপমৃৎশিল্প ও টেরাকোটা
মাটির হাঁড়ি-পাতিল, টব ও টেরাকোটার শোপিস তৈরি। বিজয়পুরের পণ্য বিদেশে যায়, কিন্তু গ্যাস না থাকায় লাকড়িতে পোড়াতে হয় আর মাল নষ্ট হয়।
- পুঁজি
- ৳৪০ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ২ – ১২ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপটাইলস ও মার্বেল ফিটিং
মেঝে, দেয়াল ও বাথরুমে টাইলস-মার্বেল বসানোর কাজ। টাইলস প্রতিটি ৳৫৫–১৭০, আর টাইলস মিস্ত্রির সরকারি ন্যূনতম হাজিরা শহরে ৳১১০৫ — সাইটের সবচেয়ে বেশি।
- পুঁজি
- ৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ৩০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপরাজমিস্ত্রি ও ঠিকাদারি
গাঁথুনি, ঢালাই ও ফিনিশিংয়ের শ্রম চুক্তি। ঢাকায় প্লিন্থের প্রতি বর্গফুটে নির্মাণ খরচ ৳১৮০০–৩০০০, আর রাজমিস্ত্রির সরকারি ন্যূনতম হাজিরা শহরে ৳৯৪০।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ৩ – ২৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপব্যাটারি রিকন্ডিশনিং — পুরোনো ব্যাটারি সারানো
দুর্বল হয়ে পড়া সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারিতে পানি-অ্যাসিড ঠিক করে, ধীরে চার্জ দিয়ে আবার চালু করা। ব্যাটারি ভেঙে সীসা গলানো সম্পূর্ণ আলাদা কাজ — সেটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া করলে অপরাধ, আর দেশে প্রায় ১,১০০ কারখানার মধ্যে মাত্র ৭টির ছাড়পত্র আছে।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
