মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

টায়ার ও ব্যাটারি দোকান

গাড়ি ও মোটরসাইকেলের টায়ার-ব্যাটারি বিক্রি ও লাগানো। গাড়ির টায়ার ৳১১,০০০–২৯,০০০, বাইকের টায়ার ৳১,৭৫০–১৫,৬৫০, বাইকের ব্যাটারি ৳১,০৫০–১,৯৫০।

  • শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
টায়ার ও ব্যাটারি দোকান

টায়ার ও ব্যাটারি দোকান

শুরুর পুঁজি
৳২,০০,০০০ – ৳১৫,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
২০ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৭ – ১২ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

টায়ার আর ব্যাটারির দোকান চলে একটাই কারণে — এ দুটো জিনিস নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলাতেই হয়। গাড়ি বা বাইক যতই যত্নে রাখা হোক, টায়ার ক্ষয় হবে আর ব্যাটারি একদিন বসে যাবে। তাই চাহিদা অনুমান করা যায়, আর সেটাই এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা। খদ্দেরের সংখ্যাও জানা। বিআরটিএর হিসাবে মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ৪৯ লাখ ৮০ হাজার, প্রাইভেট কার ৪ লাখ ৩২ হাজার, জিপ ১ লাখ ১৪ হাজার, মাইক্রোবাস ১ লাখ ৩৫ হাজার, পিকআপ ১ লাখ ৭২ হাজার আর ট্রাক ১ লাখ ৬০ হাজার। দর কেমন? দারাজে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে টায়ার এক্সপ্রেস বিডি ইয়োকোহামা গাড়ির টায়ার বিক্রি করছিল ১৭৫/৬৫আর১৫ মাপে ৳১১,০০০, ১৯৫/৬৫আর১৫ মাপে ৳১২,০০০ আর ২২৫/৬৫আর১৭ মাপে ৳২১,০০০। মোটরসাইকেলের টিমসান টায়ার ৳১,৭৫০ থেকে ৳১৫,৬৫০, আর মোটরসাইকেলের ব্যাটারি ৳১,০৫০ থেকে ৳১,৯৫০। ব্যবসার মূল কথাটা হলো মাপ। ভুল মাপ তুলে রাখলে টাকা তাকের উপর বসে থাকে, আর চলতি মাপ না থাকলে খদ্দের পাশের দোকানে চলে যায় — এবং টায়ার কিনতে সে বছরে একবারই আসে।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১,৫০,০০০ – ৳৯,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳১,০৫০ – ৳২৯,০০০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৮৬০ – ৳২৬,১০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার১০% – ১৮%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়২০ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৭ – ১২ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ৩০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১% – ৪%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা২ – ২০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • এয়ার কম্প্রেসার, টায়ার লিভার ও প্যাচ কিট, হুইল ব্যালান্সিং মেশিন, জ্যাক, ব্যাটারি চার্জার ও হাইড্রোমিটার বা ব্যাটারি টেস্টার।যন্ত্রপাতি
  • চলতি মাপের টায়ার ও ব্যাটারি। বাইকের ব্যাটারি ৳১,০৫০–১,৯৫০ (ওয়াইটিএক্স৪এল, ওয়াইটিএক্স৫এল, ১২এন৫এ, ১২এন৬.৫এ, ১২এন৭এ); বাইকের টায়ার ৳১,৭৫০–১৫,৬৫০; গাড়ির টায়ার ৳১১,০০০–২৯,০০০ (১৭৫/৬৫আর১৫ থেকে ২৭৫/৬৫আর১৭)।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। ৩–৫ কার্যদিবসে ইস্যু।লাইসেন্স
  • মাপ পড়তে পারা (১৭৫/৬৫আর১৫ বা ৯০/৯০-১৭ কোন গাড়ির), টায়ারের ক্ষয় দেখে বলা যে আর কত চলবে, আর ব্যাটারি পরীক্ষা করে আসল দোষ ধরা — অনেক সময় ব্যাটারি নয়, চার্জিং সিস্টেম নষ্ট।দক্ষতা
  • ব্র্যান্ডের পরিবেশক বা পাইকারি বাজার। নষ্ট মাল ফেরত নেওয়া এবং ওয়ারেন্টির দাবি কে মেটাবে — এই দুটি শর্ত আগে লিখিত করিয়ে নিতে হয়।সরবরাহকারী
  • রাস্তার ধারে দোকান যেখানে গাড়ি দাঁড় করানো যায়, তাক ভরে টায়ার রাখার উচ্চতা আছে আর ব্যাটারি শুকনো জায়গায় রাখা যায়।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1ঠিক করুন কার জন্য দোকান — শুধু মোটরসাইকেল, নাকি গাড়িও। বাইকের মাল কম পুঁজিতে হয়, গাড়ির টায়ারে পুঁজি কয়েক গুণ বেশি লাগে।
  2. 2জায়গা দেখুন। মহাসড়কের ধার, বাসস্ট্যান্ড বা সার্ভিসিং ওয়ার্কশপের পাশ — যেখানে চাকা ফাটলে মানুষ প্রথমে খোঁজে।
  3. 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন — ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০ আর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ফি; ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।
  4. 4এলাকায় কোন মাপ বেশি চলে তা আগে গুনে দেখুন। কয়েক দিন ওয়ার্কশপে বসে দেখলেই বোঝা যায় কোন মাপের টায়ার আর কোন মডেলের ব্যাটারি বারবার লাগছে।
  5. 5ব্র্যান্ডের পরিবেশকের সঙ্গে কথা বলুন। কে কত দামে দেয়, কত দিনে মাল পাঠায়, নষ্ট মাল ফেরত নেয় কি না আর ওয়ারেন্টির দাবি কে মেটায় — এই চারটি জেনে নিন।
  6. 6প্রথম চালান ছোট রাখুন কিন্তু চলতি মাপে ভরা রাখুন। বিরল মাপ অর্ডার দিয়ে আনার ব্যবস্থা রাখুন, দোকানে তুলে রাখবেন না।
  7. 7লাগানোর ব্যবস্থা রাখুন — এয়ার কম্প্রেসার, টায়ার লিভার, হুইল ব্যালান্সিং আর ব্যাটারি চার্জার। শুধু বিক্রি করলে খদ্দের অন্য দোকানে চলে যায়, কারণ তার লাগিয়েও নিতে হবে।
  8. 8ব্যাটারিতে ওয়ারেন্টির শর্ত লিখিত দিন আর বিক্রির তারিখ খাতায় তুলুন। মাসের পর মাস পরে দাবি এলে কাগজ না থাকলে ক্ষতি আপনার।
  9. 9পুরোনো ব্যাটারি ফেরত নিন। সিসার পুরোনো ব্যাটারির আলাদা ক্রেতা আছে, আর ফেরত দিলে নতুনটির দামে ছাড় দেওয়া যায় — এই একটা কৌশলেই খদ্দের ধরে রাখা যায়।
  10. 10আশপাশের সার্ভিসিং ওয়ার্কশপ আর রেন্ট-এ-কারের সঙ্গে সরবরাহের ব্যবস্থা করুন, কিন্তু বাকির সীমা আগে ঠিক করে নিন।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দরনগরী; আমদানি করা টায়ার-ব্যাটারি প্রথমে এখানেই খালাস হয়, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের চাহিদাও বেশি।
  • খুব উপযোগীকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রধান বিশ্রামস্থল; দূরপাল্লার ট্রাক ও বাস পথে টায়ার বদলায়।
  • খুব উপযোগীঢাকা · দেশের গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সবচেয়ে বড় জমায়েত; পাইকারি সরবরাহও এখান থেকেই যায়।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও শিল্প এলাকা; কারখানার পিকআপ ও কর্মীদের বাইক দুই-ই আছে।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র; আশপাশের জেলার খুচরা বিক্রেতারা এখান থেকে মাল তোলে।
  • সম্ভবযশোর · সীমান্ত বাণিজ্যপথ ও পরিবহনের শহর; বাইক ও ট্রাক দুই-ই চলে।
  • সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · শিল্প ও পরিবহন এলাকা, পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা বেশি।
  • সম্ভবরংপুর · মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেশি, তবে গাড়ির টায়ারের বাজার ছোট — বাইকের মালেই দোকান চালাতে হয়।
  • সম্ভবসিরাজগঞ্জ · বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে মহাসড়কের বড় ট্রাকবহর চলাচল করে, টায়ারের চাহিদা নিয়মিত।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, দামি মাপের টায়ার চলে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিচলতি মূলধন: পুঁজির প্রায় পুরোটাই মালের মধ্যে আটকে থাকে, আর মাপ ভুল হলে সেটি নড়ে না। চলতি ছয় মাপের গাড়ির টায়ার চারটি করে রাখলেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বসে যায়। একটা বিরল মাপের টায়ার তুলে রাখলে সেটি বছরও পড়ে থাকতে পারে, আর ততদিনে রাবার শক্ত হয়ে যায়। নতুন দোকানের সবচেয়ে বড় ভুল হলো 'সব মাপ' রাখতে চাওয়া।
  • বেশিবাকিতে বিক্রি: বড় খদ্দের মানেই বাকি। ওয়ার্কশপ, রেন্ট-এ-কার আর ট্রাকের বহর একসঙ্গে চার-ছয়টি টায়ার নেয়, কিন্তু টাকা দেয় মাস শেষে বা তারও পরে। এক লাখ টাকার বাকি পড়ে গেলে পরের চালান তোলা যায় না, আর চালান না এলে চলতি মাপ ফুরিয়ে যায় — তখন খুচরা খদ্দেরও হারাতে হয়।
  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: মাল আমদানিনির্ভর এবং দাম ডলারের সঙ্গে ওঠানামা করে। পরিবেশক দাম বাড়ালে আগের দামে কেনা মাল বেচে লাভ হয়, আবার দাম কমলে তাকের মালেই লোকসান। ব্র্যান্ডের পরিবেশক একতরফাভাবে দর বদলাতে পারে, আর ছোট দোকানের সেখানে দরকষাকষির জোর নেই।
  • মাঝারিঅন্যান্য: ওয়ারেন্টির দাবি। ব্যাটারি ছয় মাস পর বসে গেলে খদ্দের দোকানে আসে, দোকানদারকেই পরিবেশকের কাছে দৌড়াতে হয়। পরিবেশক যদি দাবি না মানে, টাকাটা দোকানদারের ঘর থেকেই যায়। বিক্রির তারিখ ও শর্ত লিখে না রাখলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

কসমেটিকস দোকান

ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ ও সাজসজ্জার পণ্য বিক্রির দোকান। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকায় অন্তত ১৮টি প্রসাধনী — সনদ ছাড়া বা কাগজবিহীন আমদানি করা মাল তুললে দায় দোকানদারের।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

চশমার দোকান

ফ্রেম আর লেন্স এনে দোকানে বসে চশমা বানিয়ে দেওয়া। একজোড়া সাধারণ চশমা ৳৬৪৯ থেকে ৳৫,৪০০ (অনলাইন দর, ২১-০৯-২০২৬)। বিএসটিআইয়ের কোনো সনদ লাগে না, ট্রেড লাইসেন্সই একমাত্র কাগজ।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

পোষা প্রাণীর খাবার ও সামগ্রীর দোকান

বিড়াল-কুকুরের আমদানি করা খাবার, লিটার ও সরঞ্জামের দোকান। শুকনো খাবার কেজিপ্রতি ৳৪৮৭ থেকে ৳১,৯০০ (২১-০৯-২০২৬)। খাবারে আমদানি শুল্ক ২৫%, আর চাহিদা এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১০ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

মাছের আড়ত

চাষির মাছ নিলামে তুলে কমিশনে বিক্রি। কমিশন প্রায় ৩ শতাংশ, আর চাষিকে ধরে রাখতে বিনা সুদে দাদন দিতে হয় — লাভটা আসলে ভলিউমে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
৩ – ১২ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান