মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

জুস ও শরবতের দোকান

গরমের দিনে লেবু, আখ ও বেলের শরবত গ্লাস ৳১০–২৫, লাচ্ছি ৳৫০। ব্যবসা দাঁড়ায় তিনটি জিনিসের উপর: বরফ, বিদ্যুৎ আর একটাই গরম মৌসুম।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
জুস ও শরবতের দোকান

জুস ও শরবতের দোকান

শুরুর পুঁজি
৳১৫,০০০ – ৳৩,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
২ – ১৭ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · সহজ

ব্যবসাটি সম্পর্কে

গরম পড়লেই রাস্তার ধারে শরবতের দোকান বসে। ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে লেবুর শরবত প্রতি গ্লাস ৳১০, আখের রস ৳২০, বেলের শরবত ৳২০ আর তোকমা-ফল মেশানো শরবত ৳২৫ দরে বিক্রি হচ্ছিল। দাম কম, লাভও গ্লাসপ্রতি কয়েক টাকা, তাই টাকা আসে সংখ্যায়। কিন্তু এই ব্যবসার আসল তিনটি খরচ মেনুতে লেখা থাকে না। প্রথমটা বরফ। একই প্রতিবেদনে নিউমার্কেটের শরবত বিক্রেতা মতিন সোজা বলেছেন, 'এই বরফ সাধারণত মাছের জন্য নিয়ে আসা হয়, সেখান থেকে আমরা নিই। এক বস্তা নিলে সারাদিনের ব্যবসা হয়ে যায়।' মাছের বরফ খাবারের উপযোগী নয়, আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নজরে এলে জরিমানা ও দোকান বন্ধের ঝুঁকি আছে; খাদ্যমানের বরফ কিনলে খরচ বাড়ে। দ্বিতীয়টা বিদ্যুৎ — ব্লেন্ডার, ফ্রিজ আর ডিপ ফ্রিজ সারা দিন চলে, আর লোডশেডিং হলে বরফ গলে, ফল নষ্ট হয়। তৃতীয়টা মৌসুম। চৈত্র থেকে আষাঢ় পর্যন্ত যা বিক্রি হয় তা দিয়েই বছরের বাকিটা টানতে হয়; শীতে ঠান্ডা শরবত কেউ কেনে না। আর ২০২৬ সালের প্রবিধানমালায় জুসের দোকানকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হয়েছে — কর্তৃপক্ষের খসড়ার তফসিল-১ এ 'ফলের জুস, পানীয়' নাম ধরেই লেখা — তাই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে রেজিস্ট্রেশন এখন বাধ্যতামূলক। খোলা গ্লাসে বিক্রি করলে বিএসটিআই লাগে না; বোতলে ভরলেই ফ্রুট জুস বাধ্যতামূলক মান সনদের আওতায় পড়ে আর নমুনা পরীক্ষার ফি এক লাফে ৳১১,৩০০।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳২০,০০০ – ৳৯০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳১০ – ৳৫০ / এককবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৫ – ৳৩০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪০% – ৬৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়৫ – ৪৫ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়২ – ১৭ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ১ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার১০% – ২৫%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১০০ – ২৫০অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত

শুরু করতে যা লাগবে

  • বিদ্যুতের বাণিজ্যিক সংযোগ। ডিপিডিসির জুন ২০২৬ বিল মাস থেকে কার্যকর হারে এলটি-ই বাণিজ্যিক ও অফিস: ফ্ল্যাট ৳১৫.৩৬ প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা, অফ-পিক ৳১৩.৮২, পিক ৳১৮.৪৩, সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ ৳৯০ প্রতি কিলোওয়াট প্রতি মাসে। তুলনায় আবাসিক ৭৬–২০০ ইউনিট ধাপে ৳৮.৫০ — অর্থাৎ বাণিজ্যিক হারে একই বিদ্যুৎ প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়, আর ডিপ ফ্রিজ ও ব্লেন্ডার দিনের বেশিরভাগ সময় চলে।যন্ত্রপাতি
  • হাতে চাপা লেবু নিংড়ানো ৳৪৫১–৯০০, বৈদ্যুতিক জুসার ৳৩,৫৯৯–৮,৩৯০, ২২০০ ওয়াটের ২ লিটার বাণিজ্যিক ডবল জার ব্লেন্ডার ৳৯,৯০০–১০,২০০, চেস্ট ডিপ ফ্রিজ ১৫০ লিটার ৳২৭,৯০০ / ২০০ লিটার ৳৪৩,৯০০–৫১,৪০০ / ২৫০ লিটার ৳৩৭,৮৯০, পোর্টেবল আইস মেকার ৳১৭,০০০ (দারাজ বাংলাদেশ, ২১-০৯-২০২৬)। সঙ্গে ছাঁকনি, কাচের গ্লাস বা ওয়ান-টাইম কাপ ও ঠান্ডা রাখার জার।যন্ত্রপাতি
  • চিনি (ঢাকায় খুচরা ৳১০৮–১১২ কেজি, পাইকারী ৳১০২.৪০–১০৩.০০ কেজি, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ১৭-০৯-২০২৬), লেবু, আখ, বেল, তোকমা, ফল, লবণ ও বিট লবণ। লেবু, আখ ও বেলের দর ঢাকার দৈনিক বাজারদর শিটে নেই, তাই এখানে যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
  • পৌরসভা এলাকায় খাদ্য প্রাঙ্গনের নিবন্ধন — পৌরসভা আদর্শ কর তফসিলের দফা ১৮, পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স ১৯৫৯ এর ২১ ধারার আওতায়, ট্রেড লাইসেন্সের উপরে বাৎসরিক আলাদা ফি: ফাস্ট ফুড/স্ন্যাকসবার/কফি হাউস/আইসক্রীম/জুস/কোল্ড ড্রিংকসের দোকান ৳৩০০; ফ্রুট জুস বা মিনারেল ওয়াটার প্রস্তুতের কারখানা ৳৫০০। সিটি কর্পোরেশনের ২০১৬ সালের তফসিলে এর সমতুল্য কোনো ফি নেই।লাইসেন্স
  • অগ্নি নিরাপত্তা সনদ — অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এর ৪(১) ধারা; আয়তনের কোনো ছাড় নেই। চিনি ও কাগজ রাখলে গ্রুপ-১: ১৫০ বর্গফুট পর্যন্ত ৳৯০০, ১৫১–৩০০ ৳১,০০০, ৩০১–৫০০ ৳২,০০০। এলপিজি সিলিন্ডার বা রান্নার তেল থাকলে গ্রুপ-৩/৪: ১৫০ পর্যন্ত ৳২,০০০, ১৫১–৫০০ ৳২,৪০০, ৫০১–১,০০০ ৳৪,০০০। আবেদন ফরম ৳১০০, ট্রেজারি চালানে। মেয়াদ অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত; পরের ছয় মাসে মাসে ৫% বিলম্ব ফি, তারপর বাতিল। লাইসেন্স ছাড়া চালালে আইনের ১৭ ধারায় সর্বনিম্ন ৩ বছর কারাদণ্ডসহ জরিমানা।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স। পৌরসভা আদর্শ কর তফসিলে জুস বারের নিজের ঘর আছে — ক্রমিক ১১(৫) 'কফি হাউস/স্ন্যাকস বার/ফাস্ট ফুড/জুস বার': শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৳২,০০০ ('ক' শ্রেণির পৌরসভা) বা ৳১,৭০০ ('খ'-'গ'), সাধারণ ৳৫০০ বা ৳৪০০; আবেদন ফি ৳৫০; সাইনবোর্ড কর প্রতি বর্গফুট ৳১০০। সিটি কর্পোরেশনের ২০১৬ সালের আদর্শ কর তফসিলে জুস বা ফলের রসের আলাদা ঘর নেই — উৎপাদন করলে ক্রমিক ১৯ 'বেভারেজ' ৳৪,০০০ (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম) বা ৳২,০০০, নয়তো ক্রমিক ২৯৫ অবশিষ্ট ৳১,০০০/৳৫০০। অর্থবছরভিত্তিক; ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নবায়ন না করলে সিটি কর্পোরেশনে মাসে ৳১০০ বা ফি-র ১০% (যেটি বেশি) সারচার্জ।লাইসেন্স
  • নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে খাদ্য ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন — কর্তৃপক্ষের খসড়ার তফসিল-১ এর ১ নম্বরে 'ফলের জুস, পানীয়' নাম ধরে লেখা, আর চূড়ান্ত গেজেট নিয়ে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেও জুসের দোকানকে নিবন্ধনের আওতায় বলা হয়েছে। মেয়াদ ৩ বছর, মেয়াদ শেষের অন্তত ৯০ দিন আগে নবায়নের আবেদন। ফি নিয়ে দুই সূত্রে দুই কথা — কর্তৃপক্ষের খসড়া তফসিল-১০ বলছে নতুন রেজিস্ট্রেশন বিনা মূল্যে ও নবায়ন ৳১০০, আর সংবাদ প্রতিবেদন বলছে ৳১,০০০ ও ৳৫০০।লাইসেন্স
  • বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স — খোলা গ্লাসে বিক্রি করলে লাগে না, বোতল বা প্যাকেটে ভরলেই লাগে। বাধ্যতামূলক তালিকায় ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবলস জুস (ক্রমিক ১৬, BDS 513:2013), ফ্রুট স্কোয়াশ (১৩, BDS 506:2002), কনসেনট্রেটেড ফ্রুট জুস (২০, BDS 527:2015), ফ্রুট ড্রিংকস (৫৮, BDS 1581:2015) ও প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার (৪৭, BDS 1240:2021)। নমুনা পরীক্ষার ফি: জুস ৳১১,৩০০, স্কোয়াশ ৳৬,৮০০, ফ্রুট ড্রিংকস ৳১৭,০০০, প্যাকেজড পানি ৳৩৫,৮৫০ — সবগুলোর সঙ্গে ১৫% ভ্যাট। নতুন সিএম আবেদন ফি ৳১,০০০, বাৎসরিক সিএম ফি ফলজাত পণ্যে উৎপাদনমূল্যের ০.০৭%, সর্বনিম্ন ৳৩,০০০। সময় ১৯–৯৪ কর্মদিবস।লাইসেন্স
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র — গ্লাসে বিক্রি করা ছোট দোকানের লাগে না, বোতলে ভরা শুরু করলে লাগে। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ এর তফসিল-১ এর টিকা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত ও সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের কুটির শিল্প (সেবামূলক কর্মকাণ্ড সহ) ছাড়পত্রের বাইরে। কিন্তু 'জুস ও কোমল পানীয় প্রস্তুত' তফসিল-১ এর কমলা শ্রেণির ক্রমিক ৯৬ — তাতে আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র ও প্রাথমিক পরিবেশগত সমীক্ষা (IEE) লাগে, অনুমোদনে ২১ কর্মদিবস পর্যন্ত, প্রসেসিং ফি ৳৫,০০০, ছাড়পত্র ফি বিনিয়োগভেদে ৳৩,০০০ (১–৫ লক্ষ) থেকে ৳২০,০০০ (৫০ লক্ষ–১ কোটি), মেয়াদ মাত্র ১ বছর, নবায়ন অর্ধেক ফিতে। বোতলজাত খাবার পানি অবশ্য সবুজ শ্রেণির ক্রমিক ৬ — ৭ কর্মদিবস, মেয়াদ ৫ বছর।লাইসেন্স
  • চিনি-লেবু-লবণের অনুপাত এক রাখা যাতে ক্রেতা একই স্বাদ পায়, ভিড়ের সময় দ্রুত হাত চালানো, আর গ্লাস ও যন্ত্র পরিষ্কার রাখার অভ্যাস। রেসিপি সহজ; পরিচ্ছন্নতাই এই দোকানকে টিকিয়ে রাখে।দক্ষতা
  • খাদ্যমানের বরফের একটি নির্ভরযোগ্য বরফকল, রোজকার সরবরাহসহ। মাছের জন্য আনা বরফ এই ব্যবসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয় (নিউমার্কেটের বিক্রেতার নিজের ভাষ্য, ১০-০৪-২০২৫), কিন্তু তা খাবারের উপযোগী নয়। বরফের দাম নিজেই অস্থির: বরগুনার পাথরঘাটায় ২২-০৮-২০২৬ তারিখে যে ক্যান বা বার আগে ৳১২০-এ বিক্রি হতো তা ৳২০০–২৫০-এ উঠেছে, আর বরফকল মালিক সমিতি কারণ হিসেবে বলেছে ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুতের ইউনিট দর বৃদ্ধি। বরফকলের ট্রেড লাইসেন্স ফি নিজেও আলাদা — সিটি কর্পোরেশনে ক্রমিক ২০ 'বরফ কল/আইসক্রীম ফ্যাক্টরি' ৳২,০০০।সরবরাহকারী
  • রাস্তার ধারে বা বাজারের মুখে ছোট দোকান, বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ, গ্লাস ধোয়ার জন্য চলন্ত পানি ও নিষ্কাশন, আর ফ্রিজ রাখার জায়গা। দোকানভাড়া এলাকাভেদে আলাদা এবং এখানে যাচাই করা যায়নি।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1জায়গা বাছুন রোদের হিসাবে। বাজারের মুখ, বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল বা কলেজের গেট — দুপুর-বিকেলে যেখানে মানুষ হেঁটে যায়। ছায়াহীন রোদে দাঁড়ানো ভিড়ই এই দোকানের ক্রেতা।
  2. 2ট্রেড লাইসেন্স নিন — ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে দেয়।
  3. 3নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষে খাদ্য ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করুন। কর্তৃপক্ষের খসড়া প্রবিধানমালার তফসিল-১ এর ১ নম্বরে 'ফলের জুস, পানীয়' নাম ধরে লেখা, আর চূড়ান্ত গেজেট নিয়ে প্রতিবেদনেও জুসের দোকানের কথা আছে; মেয়াদ ৩ বছর।
  4. 4বরফের উৎস ঠিক করুন আগে, মেশিন পরে। খাদ্যমানের বরফ দেয় এমন বরফকল খুঁজুন এবং রোজকার সরবরাহ বেঁধে নিন। মাছের বরফ সস্তা, কিন্তু ধরা পড়লে জরিমানা ও দোকান বন্ধের ঝুঁকি আছে।
  5. 5বিদ্যুতের সংযোগ বাণিজ্যিক হারে নিন এবং লোড হিসাব করুন — ব্লেন্ডার, জুসার, ডিপ ফ্রিজ ও বাতি একসঙ্গে চললে কত ইউনিট যায় তা আগে জানা থাকলে মাসের বিল হঠাৎ চমকে দেয় না। বিদ্যুতের বাণিজ্যিক ইউনিট দর এখানে যাচাই করা যায়নি; বিতরণ কোম্পানির অফিসে জেনে নিতে হবে।
  6. 6বিদ্যুৎ গেলে কী হবে তা আগে ঠিক করুন। ডিপ ফ্রিজ বন্ধ থাকলে বরফ গলে আর কাটা ফল নষ্ট হয়। আইপিএস, ব্যাটারি বা জেনারেটর — যেটাই হোক, খরচটা মাসিক হিসাবে ধরে রাখুন।
  7. 7যন্ত্র কিনুন কাজের ক্রমে — হাতে চাপা লেবু নিংড়ানো ৳৪৫১–৯০০, বৈদ্যুতিক জুসার ৳৩,৫৯৯–৮,৩৯০, ২২০০ ওয়াটের ২ লিটার বাণিজ্যিক ব্লেন্ডার ৳৯,৯০০–১০,২০০, চেস্ট ডিপ ফ্রিজ ১৫০ লিটার ৳২৭,৯০০ থেকে (দারাজ, ২১-০৯-২০২৬)। আখ মাড়াই মেশিন আলাদা জিনিস আর তার দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।
  8. 8গ্লাস ধোয়ার ব্যবস্থা করুন — দুই গামলা পানি নয়, চলন্ত পানি ও সাবান। একই না-ধোয়া গ্লাসে এক ক্রেতা থেকে আরেক ক্রেতায় রোগ ছড়ায়, আর এটাই এই ব্যবসার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ওঠা অভিযোগ।
  9. 9মেনু ছোট রাখুন আর রোজ কতটা ফল কাটবেন তা বিক্রি দেখে ঠিক করুন। কাটা ফল কয়েক ঘণ্টায় বদলে যায়, তাই মেঘলা দিনে কম কাটাই লাভ।
  10. 10রোজার মাসের জন্য আলাদা করে প্রস্তুতি নিন — ইফতারের আগের দুই ঘণ্টায় শরবতের চাহিদা বছরের সবচেয়ে বেশি হয়, আর ওই সময়ে বরফ ও লেবুর দামও চড়ে।
  11. 11বোতলে ভরে বিক্রি করার কথা ভাবলে আগে হিসাব কষুন। খোলা গ্লাসে বিএসটিআই লাগে না, কিন্তু বোতলজাত ফলের রস বাধ্যতামূলক মান সনদের তালিকাভুক্ত (BDS 513:2013) — নমুনা পরীক্ষাই ৳১১,৩০০, ফ্রুট ড্রিংকস হলে ৳১৭,০০০, সঙ্গে ১৫% ভ্যাট, আর লাইসেন্স পেতে ১৯–৯৪ কর্মদিবস।
  12. 12শীতের চার মাসের জন্য আগেই পরিকল্পনা করুন — চা-কফি, লাচ্ছি, কিংবা অন্য কিছু। ঠান্ডা শরবতের দোকান শীতে খালি পড়ে থাকে, অথচ ভাড়া চলতেই থাকে।

মৌসুম

  1. জানুকম
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চবেশি
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেবেশি
  6. জুনবেশি
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোকম
  11. নভেকম
  12. ডিসেকম
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · রাজধানীর শরবতের ব্যবসার কেন্দ্র; নিউমার্কেট এলাকার দোকানগুলোর দাম ও বরফের উৎস নিয়ে সরাসরি প্রতিবেদন আছে (১০-০৪-২০২৫)। ঘন জনবসতি, দীর্ঘ গরম আর রাস্তায় হাঁটা মানুষের সংখ্যা — তিনটাই এখানে সবচেয়ে বেশি।
  • সম্ভবচাঁপাইনবাবগঞ্জ · আমের জেলা — মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কাঁচামাল সবচেয়ে সস্তা, আর ওই সময়টাই গরমের চূড়া। তবে ফলের মৌসুম শেষ হলে এই সুবিধাও শেষ।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · বন্দরনগরীর একই ধরনের রাস্তার ভিড় ও দীর্ঘ গরম; তবে এই জেলার শরবতের দোকানের দাম বা বিক্রির হিসাব এখানে আলাদা করে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ধারে বাসস্ট্যান্ড ও হোটেলকেন্দ্রিক ভিড়; দূরপাল্লার যাত্রীরা গরমে নেমে ঠান্ডা কিছু খোঁজেন। হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবখুলনা · মহানগরের বাজার ও ঘাটকেন্দ্রিক ভিড় এবং দীর্ঘ গরম মৌসুম; শরবতের দোকানের আলাদা হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবনীলফামারী · উত্তরের জেলাতেও গরমে শরবতের চাহিদা বাড়ে বলে স্থানীয় সংবাদে আসে; আলাদা দাম বা বিক্রির হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবরাজশাহী · গরমের সময় তাপমাত্রা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওঠে এমন অঞ্চল, আর আমের মৌসুমে সস্তায় ফল পাওয়া যায়। বিক্রির হিসাব এখানে যাচাই করা যায়নি।
  • সম্ভবসিলেট · শহরের ভিড় ও প্রবাসী-পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা আছে, তবে এখানে বৃষ্টি বেশি বলে গরমের দিনগুলো তুলনায় কম। হিসাব যাচাই করা যায়নি।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: বরফটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। নিউমার্কেটের শরবত বিক্রেতা মতিন ১০-০৪-২০২৫ তারিখে নিজেই বলেছেন, 'এই বরফ সাধারণত মাছের জন্য নিয়ে আসা হয়, সেখান থেকে আমরা নিই।' মাছের বরফ খাদ্যমানের নয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলছেন, এই পানি ও বরফে টাইফয়েড, জন্ডিস ও হেপাটাইটিস ছড়ায়, আর না-ধোয়া গ্লাসে এক ক্রেতা থেকে আরেক ক্রেতায় সংক্রমণ যায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে ধরা পড়লে জরিমানা ও দোকান বন্ধ, আর একবার কেউ অসুস্থ হলে এলাকায় নাম নষ্ট — গরমের মৌসুমে সেটা পুরো বছরের আয় নিয়ে যায়।
  • বেশিচাহিদা: বছরে একটাই গরম মৌসুম। চৈত্র থেকে আষাঢ় পর্যন্ত যা বিক্রি হয় তা দিয়েই বাকি মাসগুলো টানতে হয়, কারণ শীতে ঠান্ডা শরবত কেউ কেনে না। এর মধ্যে টানা মেঘলা বা বৃষ্টির সপ্তাহ পড়লে ওই সপ্তাহের ফল কেনা হয়ে গেছে অথচ ক্রেতা নেই। দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল বারো মাসেরই চলে।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: বিদ্যুৎ গেলে ব্যবসা থেমে যায়, আর তার দাম দুবার দিতে হয়। প্রথমে নিজের বিলে: ডিপিডিসির জুন ২০২৬ থেকে কার্যকর হারে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ ফ্ল্যাট ৳১৫.৩৬ প্রতি ইউনিট, পিক সময়ে ৳১৮.৪৩, সঙ্গে মাসে কিলোওয়াটপ্রতি ৳৯০ ডিমান্ড চার্জ — আবাসিক হারের প্রায় দ্বিগুণ। দ্বিতীয়বার বরফের দামে: বরগুনার পাথরঘাটায় ২২-০৮-২০২৬ তারিখে এক ক্যান বরফের দাম ৳১২০ থেকে ৳২০০–২৫০-এ উঠেছে, আর বরফকল মালিকরা সরাসরি লোডশেডিং ও বিদ্যুতের দামকে দায়ী করেছেন। অর্থাৎ লোডশেডিং শুধু আপনার ব্লেন্ডার থামায় না, আপনার প্রধান কাঁচামালের দামও দ্বিগুণ করে দেয় — ঠিক যে গরমে ক্রেতা সবচেয়ে বেশি, সেই গরমেই। গ্লাসে ৳৪–৯ লাভ থেকে আইপিএস বা জেনারেটরের খরচও বেরোতে হবে।
  • বেশিচলতি মূলধন: লেবুর দাম মৌসুমে হাতের বাইরে চলে যায়। জাতীয় গড়ে কাগজী লেবু খুচরা হালি ৳১৯ (আগস্ট ২০২৬), ঢাকায় টিসিবির হিসাবে হালি ৳২০–৩০ (২০-০৯-২০২৬) — কিন্তু রোজার শুরুতে সিলেটের সুবহানীঘাট পাইকারি বাজারে ছোট কাগজী লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে ৭০–৮০ টাকায়, মাঝারি ১২০–১৫০ আর বড় ১৭৫–২০০ টাকায় উঠেছিল। অথচ ইফতারের আগের দুই ঘণ্টাই বছরের সবচেয়ে বড় বিক্রি। গ্লাসের দাম ৳১০ বা ৳১৫-এ আটকে থাকে, তাই লেবুর দাম চারগুণ হলে ওই দিনগুলোতে লাভ থাকে না।
  • মাঝারিনষ্ট হওয়া: কাটা ফল কয়েক ঘণ্টায় রঙ বদলায় আর বানানো শরবত পরদিন চলে না। ভিড় হবে ধরে বেশি ফল কাটলে সন্ধ্যায় তা ফেলে দিতে হয়, আর কম কাটলে ভিড়ের সময় ফুরিয়ে যায়। রোজই এই সিদ্ধান্তটা নিতে হয়, আর ভুল হলে ওই দিনের লাভটাই চলে যায়।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: লাভ ধরা থাকে গোল সংখ্যায়। গ্লাস ৳১০ বা ৳২০ — খুচরা পয়সার ঝামেলায় ৳১২ বা ৳২২ করা যায় না। তাই চিনি বা লেবুর দাম বাড়লে দাম বাড়ানোর বদলে গ্লাস ছোট করা বা শরবত পাতলা করা ছাড়া উপায় থাকে না, আর দুটোতেই ক্রেতা টের পান। ঢাকায় চিনি ১৭-০৯-২০২৬ তারিখে খুচরা ৳১০৮–১১২ কেজি, গত বছরের একই দিনে ছিল ৳১০২–১০৫।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধন ছাড়া চালানো নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৩৮ ধারার লঙ্ঘন — প্রথমবার ৬ মাস থেকে ১ বছর কারাদণ্ড বা ৳১,০০,০০০–২,০০,০০০ জরিমানা বা দুটোই। আর বোতলে ভরে বিক্রি শুরু করলে সিএম লাইসেন্স ছাড়া বিএসটিআই আইন, ২০১৮ এর ২১ ধারার আওতায় পড়ে; ২৯ ধারায় সর্বোচ্চ ৪ বছর কারাদণ্ড বা ৳৫০,০০০ থেকে ৳২,০০,০০০ জরিমানা।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

এই ব্যবসার গল্প

মিশ্র অভিজ্ঞতাপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে রংপুরের একজন আখের রস বিক্রেতা

গ্লাস ২ টাকা থেকে ১০ টাকা, তবু দিনে থাকে ৬০০–৭০০

দশ বছরে এক গ্লাস আখের রসের দাম ২ টাকা থেকে হয়েছে ১০ টাকা, কিন্তু আখের দামও সঙ্গে বেড়েছে। দিনে বিক্রি ৩,০০০–৪,০০০ টাকা, খরচ বাদে থাকে ৬০০–৭০০ টাকা।

কারণ
অন্যান্য, চলতি মূলধন
যা কাজ করেছেপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে রাঙামাটির একজন আখের রস বিক্রেতা

ধান ছেড়ে আখ, রাস্তার পাশে রস বেচে বছরে ৪ লাখ টাকা

একই আড়াই একর জমিতে ধান করে বছরে আসত প্রায় ৩০,০০০ টাকা, তাতে উৎপাদন খরচই ১৮,০০০। সেই জমির আখ নিজে মাড়িয়ে রস বিক্রি করে এখন দিনে ওঠে প্রায় ২,০০০ টাকা, ৯ মাসের মৌসুমে মুনাফা প্রায় ৪,০০,০০০ টাকা।

কারণ
ভালো জায়গা, ভালো যোগাযোগ

একই রকম আরও ব্যবসা

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

খই ও বাতাসা তৈরি

ধান ভেজে খই আর চিনি-গুড় জ্বাল দিয়ে বাতাসা-কদমা বানানো। চিনির পাইকারি ৳১০২–১০৩ কেজি, বাতাসা বিক্রি ৳১৯০–৩০০ কেজি। পুঁজি খুব কম, বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স লাগে না।

পুঁজি
৳১৫ হাজার – ৳১.৫ লাখ
জনবল
২ – ৬ জন
প্রথম আয়
১০ – ৪০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

মুড়ির কারখানা

চাল ভেজে মুড়ি বানিয়ে বিক্রি। এক কেজি চালে মুড়ি হয় ৯০০ গ্রাম, মোটা চাল ৳৫০–৫৫ কেজি — তাই মেশিনের মুড়িতে কেজিতে থাকে ৪–৬ টাকা, আর হাতে ভাজা খাঁটি মুড়ি পাইকারি ৳৯০ কেজি।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳২ লাখ
জনবল
২ – ৮ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

আচার তৈরি

আম-জলপাই-রসুনের আচার বানিয়ে বয়ামে বিক্রি। দোকানে ব্র্যান্ডের আচার কেজি ৳৩৭৫–৫২৫, আর মোড়কে বিক্রি করলে ঘরের রান্নাঘরেও ৳১,০০০-এর নিরাপদ খাদ্য নিবন্ধন লাগে।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳৯০ হাজার
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৪ – ২৮ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ

চায়ের দোকান ও ক্যাফে

এক কেজি চা পাতায় প্রায় ২৫০ কাপ; কাপ বিক্রি হয় ৳৫–৩০। ২০ হাজার টাকায় চুলা-সিলিন্ডার-কাপ আর সপ্তাহখানেকের মাল হয়, দোকানের জামানত বা ফ্রিজ হয় না।

পুঁজি
৳২০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৭ – ৩০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান