বাচ্চাদের পোশাকের দোকান
০–১২ বছরের বাচ্চাদের জামাকাপড়ের খুচরা দোকান। পাঞ্জাবি সেট ৳২৬০–৯৮৫, ফ্রক ৳১৫০–৬৫০। বাচ্চা বড় হয়ে যায় বলে মাল পড়ে থাকে না — বড়দের বুটিকের চেয়ে এটাই বড় সুবিধা।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

বাচ্চাদের পোশাকের দোকান
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,৫০,০০০ – ৳৭,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম বিক্রি
- ২০ – ৪৫ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৬ – ১২ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · সহজ
ব্যবসাটি সম্পর্কে
শূন্য থেকে বারো বছরের বাচ্চাদের জামাকাপড়ের দোকান — ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট, নিমা, স্কুলের পোশাক আর শীতের সোয়েটার। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দারাজে নামধারী বিক্রেতাদের তালিকায় বাচ্চাদের পাঞ্জাবি সেট ছিল ৳২৬০ থেকে ৳৯৮৫, মেয়েদের ফ্রক ৳১৫০–৬৫০, চার পিসের ফ্রক কম্বো ৳৩১০–৩৪৯ আর সাধারণ বেবি ড্রেস ৳৯৯–৩৯৯। বড়দের বুটিকের তুলনায় এই দোকানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো মাল আটকে থাকে না। বাচ্চা বড় হয়ে যায়, তাই এক বছরের জামা পরের বছর আর গায়ে হয় না — এক পরিবারই বছরে দুই-তিনবার কিনতে আসে। আর যে জামাটা এবার বিক্রি হলো না, সেটা পরের ঈদে অন্য একটা বাচ্চার গায়ে ঠিকই ওঠে, কারণ বাচ্চাদের পোশাকে ফ্যাশন পুরোনো হওয়ার ব্যাপারটা নেই। বড়দের বুটিকে সেটা হয় না, সেখানে গত বছরের নকশা তাকেই পড়ে থাকে। দামও কম, তাই একটা জামা না বিক্রি হলে যত টাকা আটকে যায়, বড়দের একটা শাড়ি বা থ্রিপিসের চেয়ে তা অনেক কম। মাপ নিয়েও ঝামেলা কম — বয়স ধরে ০-২, ২-৫, ৫-৮ এভাবে বিক্রি হয়, জুতার মতো প্রতিটি সাইজে আলাদা স্টক লাগে না। বিক্রির ধরনটা মনে রাখতে হবে। দুই ঈদের আগের তিন সপ্তাহে যা বিক্রি হয়, বাকি বছরে তত হয় না। শীতে সোয়েটার আর জানুয়ারিতে স্কুল খুললে ইউনিফর্ম — এই দুটোই বাড়তি মৌসুম। বর্ষায় দোকান প্রায় ফাঁকা থাকে, তখন মাল তোলা কমাতে হয়।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৮০,০০০ – ৳৪,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৯৯ – ৳১,২১৩ / একক | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৬০ – ৳৮০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৩৪% – ৩৯% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ২০ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৬ – ১২ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ১ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৮% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৮ – ৪০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- কাচের শোকেস, হ্যাঙ্গার ও র্যাক, বড় আয়না, ট্রায়াল কর্নারের পর্দা, ক্যালকুলেটর আর বিকাশ-নগদের মার্চেন্ট নম্বর।যন্ত্রপাতি
- বয়সের চার ঘরে (০-২, ২-৫, ৫-৮, ৮-১২) ছেলে ও মেয়ের আলাদা মাল; ঈদের আগে পাঞ্জাবি-ফ্রকের ভারী সেট, শীতে সোয়েটার, জানুয়ারিতে স্কুল ইউনিফর্ম।শুরুর মাল
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, আর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, সঙ্গে ভ্যাট ও সাইনবোর্ড ফি। কাগজ ঠিক থাকলে ৩–৫ কার্যদিবসে হয়।লাইসেন্স
- বয়স দেখে মাপ আন্দাজ করা আর অভিভাবকের বাজেট বুঝে দুটো-তিনটে জামা বের করে দেওয়া। বাচ্চা নিজে পছন্দ করে, তাই বাচ্চার সঙ্গে কথা বলতে পারাটাও কাজে লাগে।দক্ষতা
- ঢাকার ইসলামপুর ও চকবাজার, নারায়ণগঞ্জের টানবাজার, কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লি, আর গার্মেন্টসের রপ্তানি-উদ্বৃত্ত (স্টক লট) সরবরাহকারী।সরবরাহকারী
- স্কুল, বাজার বা মূল সড়কের পাশে ১০০–৩০০ বর্গফুটের দোকান। কাচের শোকেস, দেয়ালজুড়ে র্যাক আর ঝোলানোর হ্যাঙ্গার দরকার।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1স্কুল, মাদ্রাসা বা বাজারের কাছে দোকান দেখুন। বাচ্চাদের পোশাক মা-বাবা যেতে যেতে কেনেন, তাই সামনে দাঁড়ানোর জায়গা থাকা দরকার।
- 2সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন এবং সাইনবোর্ড ফি দিন। কাপড়ের দোকানে আলাদা কোনো লাইসেন্স লাগে না।
- 3ঢাকার ইসলামপুর-চকবাজার, নারায়ণগঞ্জের টানবাজার বা কাছের জেলা শহরের পাইকারি মার্কেট ঘুরে অন্তত তিনজন সরবরাহকারীর দর নিন। এক জায়গা থেকে সব তুলবেন না।
- 4বয়সের ঘর ধরে মাল তুলুন: ০-২, ২-৫, ৫-৮, ৮-১২। প্রতিটি নকশায় চারটি ঘরের সব কটি তুলবেন না — আগে দেখুন আপনার এলাকায় কোন বয়স বেশি চলে।
- 5ছেলে আর মেয়ের মাল আলাদা করে সাজান, আর দামের ঘর ধরে র্যাক ভাগ করুন। অভিভাবক আগে দাম দেখেন, পরে নকশা।
- 6ঈদের অন্তত ছয় সপ্তাহ আগে বড় চালানটি তুলুন। ঈদের কাছাকাছি পাইকারি বাজারে দাম বাড়ে আর ভালো নকশা শেষ হয়ে যায়।
- 7শীতের আগে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সোয়েটার, জ্যাকেট ও মোজা তুলুন, আর ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন।
- 8জানুয়ারিতে স্কুল খোলার আগে আশপাশের স্কুলের ইউনিফর্মের রং ও নকশা জেনে সেই অনুযায়ী মাল তুলুন। এটা নিশ্চিত বিক্রি, কিন্তু মৌসুম মাত্র তিন-চার সপ্তাহ।
- 9ফেসবুক পেজ খুলে জামার ছবি দিন আর বাড়িতে পৌঁছে দিন। ছোট বাচ্চা নিয়ে বের হতে না চাওয়া মায়েরা এভাবেই কেনেন।
- 10বর্ষার দুই মাস নতুন মাল তোলা কমিয়ে দিন আর পুরোনো মাল ছাড় দিয়ে ছেড়ে দিন, যাতে ঈদের চালান তোলার সময় হাতে টাকা থাকে।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চবেশি
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেবেশি
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বড় শহর, স্কুলের সংখ্যা বেশি আর রিয়াজউদ্দিন বাজারে পাইকারি সরবরাহ আছে।
- খুব উপযোগীঢাকা · ইসলামপুর ও চকবাজারের পাইকারি বাজার হাতের কাছে, আর ঘন বসতিতে স্কুলের সংখ্যাও বেশি।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · পোশাক কারখানার শ্রমিক পরিবার ঘন, আর রপ্তানির উদ্বৃত্ত মাল স্থানীয়ভাবেই পাওয়া যায়।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · টানবাজার ও আশপাশের নিটওয়্যার কারখানা থেকে সরাসরি কম দামে মাল তোলা যায়।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যকেন্দ্র, আশপাশের উপজেলা থেকে হাটবারে ক্রেতা আসে।
- সম্ভবকুমিল্লা · প্রবাসী আয়ের পরিবার বেশি, ঈদে বাচ্চাদের পোশাকে খরচ বেশি হয়।
- সম্ভবযশোর · জেলা শহরে স্কুল-কলেজ বেশি আর সীমান্তবাণিজ্যের কারণে নগদ টাকার চলাচল ভালো।
- সম্ভবময়মনসিংহ · বিভাগীয় শহর ও বড় শিক্ষাকেন্দ্র, স্কুল ইউনিফর্মের চাহিদা নিয়মিত।
- সম্ভবরংপুর · বিভাগীয় শহর, তবে ক্রয়ক্ষমতা কম বলে সস্তা ঘরের মালই বেশি চলে।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বেশি, দামি সেটও চলে।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচাহিদা: বছরের বিক্রি কয়েকটি সপ্তাহে জমা। দুই ঈদের আগের তিন সপ্তাহ, শীতের দেড় মাস আর জানুয়ারিতে স্কুল খোলার সময় — এর বাইরে দোকান প্রায় খালি। ঈদের চালান ভুল নকশায় বা ভুল বয়সের ঘরে তুললে পুরো বছরের লাভ ওখানেই শেষ, কারণ ওই এক চালানেই বছরের বেশির ভাগ পুঁজি ঢালা থাকে।
- বেশিচলতি মূলধন: পাইকারি বাজারে নতুন দোকানদারকে বাকি দেয় না, অগ্রিম টাকা লাগে। ঈদের আগের মাসে মাল তোলার অঙ্ক স্বাভাবিক মাসের তিন-চার গুণ হয়ে যায়। সেই টাকা জোগাড় করতে না পারলে দোকানে ভালো মাল থাকে না, আর খদ্দের পাশের দোকানে ঢুকে যায়।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: মাল আসে ঢাকার ইসলামপুর-চকবাজার বা কেরানীগঞ্জ থেকে। ওই বাজারে হরতাল, আগুন বা যানজট হলে ঈদের ঠিক আগের চালানটি আটকে যায়, আর সেই সপ্তাহটাই বছরের সবচেয়ে বড় সপ্তাহ।
- মাঝারিঅন্যান্য: ফেসবুক পেজ ও অনলাইন বিক্রেতারা একই নকশা কম দামে দিয়ে দেয়, কারণ তাদের দোকানভাড়া নেই। ১৬-০৯-২০২৬ তারিখে দারাজেই বাচ্চাদের ফ্রক ৳১৫০ আর সাধারণ বেবি ড্রেস ৳৯৯ থেকে শুরু ছিল। দোকানে এসে গায়ে মিলিয়ে দেখার সুবিধাটাই এখানে আপনার একমাত্র জবাব।
- কমনষ্ট হওয়া: জামা পচে না, তবে ঝুলিয়ে রাখা মালে রোদে রং নষ্ট হয় আর বর্ষায় ছত্রাক পড়ে। টিনের চালের দোকানে বৃষ্টির পানি পড়ে এক রাতেই অনেক মাল নষ্ট হতে পারে।
সূত্র
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
একই রকম আরও ব্যবসা
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাপাথর ও বালু ব্যবসা
নদী থেকে ওঠা পাথর-বালু কিনে নির্মাণের বাজারে বিক্রি। পঞ্চগড়ে ১০০ ঘনফুটের এক ট্রাক্টর পাথর ৳৮,০০০, আর ঢাকায় দেশি থ্রি-ফোর পাথর ঘনফুট ৳১২৩–১২৫ — মাঝখানের পুরোটাই ট্রাকভাড়া আর ইজারার মাশুল।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৩৬৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাস্টেশনারি ও বইয়ের দোকান
খাতা-কলম-কাগজ ও বই বিক্রির সঙ্গে ফটোকপির দোকান। ২০৪ পৃষ্ঠার খাতা ৳৬৮, ৩০০ পৃষ্ঠার খাতা ৳১৬৯, সাদা কাগজ দিস্তা ৳৩৪–৪০। পাঠ্যবই সরকার দেয়, তাই মৌসুমের আয় আসে খাতা ও ফটোকপি থেকে।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳৮ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাখেলনা ও উপহারের দোকান
খেলনা ও উপহারসামগ্রীর খুচরা দোকান। সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ অনলাইনে খেলনার দাম ৳৫৮ থেকে ৳৩,৮১৫। আমদানি করা খেলনায় সরকারি আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, আর বিক্রির বড় অংশ ঈদ ও বৈশাখের কয়েকটা সপ্তাহে।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳১৪ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ৩ – ৪৫ দিন
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসাবীজ ও ফিড ডিলারশিপ
কৃষকের বীজ, সার, কীটনাশক ও মাছ-মুরগির খাবারের দোকান। সারে কমিশন সরকার বেঁধে দিয়েছে — এখন কেজিতে ৳২, ১ জুলাই ২০২৭ থেকে ৳৩।
- পুঁজি
- ৳১.৫ লাখ – ৳২৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৫ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ১৮০ দিন
