ট্রাভেল এজেন্সি
টিকিট, ভিসা ও হজ-ওমরাহ প্যাকেজের ব্যবসা। মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনে লাগে ৳৬২,৫০০, তিন বছর পর নবায়ন ৳২৫,০০০, আর ২০২৬ সালের অধ্যাদেশে ১০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

ট্রাভেল এজেন্সি
- শুরুর পুঁজি
- ৳১২,০০,০০০ – ৳২৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ৮ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৪৫ – ১২০ দিন সরকারি সূত্র
- খরচ উঠতে
- ১২ – ২৪ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- দোকান · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
বিমানের টিকিট কেটে দেওয়া, ভিসার কাগজ গুছিয়ে দেওয়া, হোটেল বুকিং করা আর ওমরাহ-হজের প্যাকেজ বিক্রি — এটাই ট্রাভেল এজেন্সির কাজ। কিন্তু এই ব্যবসা যে কেউ খুলে বসতে পারে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। আবেদন ফি ৳৫,০০০, নিবন্ধন ফি ৳৫০,০০০ আর ভ্যাট ৳৭,৫০০ — ট্রেজারি চালানে মোট ৳৬২,৫০০ জমা দিতে হয়। সনদ চলে তিন বছর; নবায়নে লাগে ৳২৫,০০০ আর ভ্যাট ৳৩,৭৫০। আবেদনের সঙ্গে ব্যাংকে অন্তত ১০ লাখ টাকা আছে এমন সার্টিফিকেট লাগে, আর নবায়নের সময় দেখাতে হয় বছরে অন্তত ৫০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। মন্ত্রণালয় বলছে কাগজ ঠিক থাকলে ৪৫ দিনে সনদ দেওয়া হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নতুন অধ্যাদেশ এসেছে। এখন অফলাইন এজেন্সিকে ১০ লাখ টাকা আর অনলাইন এজেন্সিকে ১ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি রাখতে হয়, আর নিয়ম ভাঙলে এক বছর পর্যন্ত জেল বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। টাকা আসে কমিশনে — বিমানের টিকিটে ধরা হয় ৩ থেকে ৭ শতাংশ, হোটেল বুকিংয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। ছোট এজেন্সির বেশির ভাগই আইএটিএ সদস্য নয়, তাই তারা বড় এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট নেয় আর কমিশনের একটা ভাগ সেখানেই চলে যায়। বছরের হিসাব চলে রোজা আর হজের তারিখ ধরে। রোজায় ওমরাহর ভিড়, আর হজে টাকার অঙ্ক সবচেয়ে বড় — ২০২৬ সালের হজে সরকারি সবচেয়ে কম প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা। খদ্দের টাকা দেয় আগে, আর যাত্রা হয় অনেক পরে। এই ফাঁকের টাকাটা এজেন্সির হাতে থেকে যায়, আর যে এজেন্সি সেই টাকা অন্য কাজে খাটায় সে-ই একদিন অফিসে তালা দিয়ে উধাও হয়। নতুন অধ্যাদেশ মূলত এই কারণেই এসেছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৪,১৬,৬৬৭ – ৳১০,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৪,৬৭,১৬৭ – ৳৭,৫০,০০০ / একক | সরকারি সূত্র | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৪,৪০,০০০ – ৳৬,৯০,০০০ / একক | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৩% – ১৫% | বাজারদর | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৪৫ – ১২০ দিন | সরকারি সূত্র | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ১২ – ২৪ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ৪৫ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ৫% – ১৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ০.১ – ০.৮ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন সনদ — বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আবেদন ফি ৳৫,০০০, নিবন্ধন ফি ৳৫০,০০০ ও ভ্যাট ৳৭,৫০০ (কোড ১-৫৩০১-০০০১-১৮১৬ ও ১-১১৩৩-০০১০-০৩১১)। মেয়াদ ৩ বছর। সেবার সময়সীমা ৪৫ দিন।লাইসেন্স
- নবায়ন — মেয়াদ শেষের অন্তত ৬০ দিন আগে আবেদন। আবেদন ফি ৳৫,০০০, নবায়ন ফি ৳২৫,০০০ ও ১৫% ভ্যাট ৳৩,৭৫০। সঙ্গে বার্ষিক ন্যূনতম ৳৫০,০০,০০০ লেনদেনের প্রমাণ ও হালনাগাদ আয়কর প্রত্যয়নপত্র।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কার্যদিবসে পাওয়া যায়।লাইসেন্স
- ব্যাংক গ্যারান্টি — ২০২৬ সালের সংশোধন অধ্যাদেশ অনুযায়ী অফলাইন এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা আর অনলাইন এজেন্সির জন্য ১ কোটি টাকা। নিয়ম ভাঙলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা দুটোই।লাইসেন্স
- টিআইএন সনদ (এনবিআর) এবং ৳৩০০-এর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা — দুটোই নিবন্ধনের আবেদনের বাধ্যতামূলক সংযুক্তি।লাইসেন্স
- ভিসার কাগজপত্র ও দূতাবাসের শর্ত জানা, রিজার্ভেশন সিস্টেমে টিকিট কাটা ও বদলানো, আর ভাড়ার হিসাব করা। ভুল তারিখে টিকিট কাটলে বদলানোর খরচ এজেন্সিকেই দিতে হয়।দক্ষতা
- টিকিটের উৎস — আইএটিএ সদস্যপদ, নয়তো কোনো আইএটিএ এজেন্সির সাব-এজেন্ট হিসেবে চুক্তি। জিডিএস সংযোগের বার্ষিক খরচ ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছে।সরবরাহকারী
- ব্যবসায়িক ঠিকানায় অফিস, সঙ্গে ভাড়ার চুক্তিপত্র ও ভাড়ার রশিদ অথবা নিজের হলে হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ। অফিস স্থানান্তর করতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে — সেটা বিনামূল্যে, ৩০ দিনে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1ঠিক করুন আপনি অফলাইন এজেন্সি খুলবেন না অনলাইন। ২০২৬ সালের অধ্যাদেশে অফলাইনে ১০ লাখ আর অনলাইনে ১ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি লাগে — এই একটা সিদ্ধান্তেই পুঁজির অঙ্ক দশ গুণ বদলে যায়।
- 2ব্যবসার ঠিকানা ঠিক করে ভাড়ার চুক্তি ও ভাড়া পরিশোধের রশিদ নিন, অথবা নিজের হলে হোল্ডিং ট্যাক্সের রশিদ। নিবন্ধনের আবেদনে এটা ছাড়া চলবে না।
- 3সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন আর এনবিআর থেকে টিআইএন করান। দুটোরই সত্যায়িত কপি নিবন্ধনের ফাইলে লাগে।
- 4ব্যাংকে অন্তত ১০ লাখ টাকা স্থিতি রেখে ব্যাংক সার্টিফিকেট নিন। এই টাকা খরচ হয় না, কিন্তু আবেদনের দিন ব্যাংকে থাকতে হয়।
- 5১-৫৩০১-০০০১-১৮১৬ কোডে ট্রেজারি চালানে আবেদন ফি ৳৫,০০০ জমা দিয়ে নির্ধারিত ফরমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করুন, সঙ্গে ৳৩০০-এর নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে হলফনামা।
- 6মন্ত্রণালয় কাগজ যাচাই করে দাবীপত্র পাঠাবে। তখন নিবন্ধন ফি ৳৫০,০০০ আর ভ্যাট ৳৭,৫০০ চালানে জমা দিয়ে মূল কপি পাঠান। সনদ আসে তিন বছরের জন্য।
- 7টিকিট পাবেন কোথা থেকে ঠিক করুন — সরাসরি আইএটিএ সদস্য হবেন, নাকি বড় এজেন্সির সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেন। দেশের বেশির ভাগ এজেন্সি দ্বিতীয় পথেই চলে, আর কমিশনের ভাগ সেখানেই কমে যায়।
- 8হজ বা ওমরাহ করতে চাইলে আলাদা হিসাব করুন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আলাদা লাইসেন্স লাগে, আর তার জন্য আগে কয়েক বছর ট্রাভেল এজেন্সি চালানোর অভিজ্ঞতা দেখাতে হয়।
- 9খদ্দেরের টাকা আলাদা হিসাবে রাখুন। যাত্রার আগেই টাকা আসে বলে হাতে বড় অঙ্ক জমে; সেই টাকা অফিস চালাতে খরচ করলে মৌসুম শেষে টিকিট দেওয়ার টাকা থাকে না।
- 10প্রতিটি বিক্রির রসিদ, টিকিট নম্বর আর পাসপোর্টের কপি রাখুন। নতুন অধ্যাদেশে নিয়মিত আর্থিক ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিতে হয়।
- 11মেয়াদ শেষের অন্তত ৬০ দিন আগে নবায়নের আবেদন করুন — নবায়ন ফি ৳২৫,০০০, ভ্যাট ৳৩,৭৫০, সঙ্গে বছরে ৫০ লাখ টাকার লেনদেনের প্রমাণ ও আয়কর প্রত্যয়নপত্র।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেবেশি
- জুনবেশি
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টস্বাভাবিক
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আর মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকের বড় প্রবাহ; বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসার কর্পোরেট টিকিটও এখানে।
- খুব উপযোগীকুমিল্লা · মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে জেলা শহরে অনেক এজেন্সি বসেছে।
- খুব উপযোগীঢাকা · নয়াপল্টন, ফকিরাপুল ও মতিঝিলে টিকিটের পুরো বাজারটাই বসে; আইএটিএ এজেন্সি, কনসোলিডেটর আর দূতাবাস সব এখানে। মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন অফিসও ঢাকায়।
- খুব উপযোগীসিলেট · যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে থাকা পরিবারের সংখ্যা বেশি, তাই বছরজুড়ে যাওয়া-আসার টিকিট আর ছুটির মৌসুমে ভিড়। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট আছে।
- সম্ভবব্রাহ্মণবাড়িয়া · প্রবাসে যাওয়ার হার বেশি, আর আশুগঞ্জ-আখাউড়া হয়ে ভারতগামী যাত্রীর চাপও আছে।
- সম্ভবফেনী · প্রবাসী আয়ের উপর নির্ভর করা জেলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর বসায় যাত্রী ধরা সহজ।
- সম্ভবগাজীপুর · পোশাক কারখানার কর্মী ও বিদেশগামী শ্রমিকের ভিড়, আর কারখানার কর্পোরেট ভ্রমণের বুকিং।
- সম্ভবমৌলভীবাজার · সিলেট অঞ্চলের প্রবাসী পরিবার বেশি; শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ঘিরে দেশি পর্যটনের বুকিংও পাওয়া যায়।
- সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঘন বসতি আর ঢাকার বিমানবন্দরের কাছে; ব্যবসায়ী শ্রেণির ভ্রমণ বেশি।
- সম্ভবনোয়াখালী · মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করা মানুষের বড় অংশ এই এলাকার; ছুটিতে দেশে আসা-যাওয়ার টিকিটই মূল ব্যবসা।
- কম উপযোগীকক্সবাজার · পর্যটনের বুকিং আছে, তবে তা মূলত দেশি হোটেল ও বাস — আন্তর্জাতিক টিকিটের বাজার ছোট।
- কম উপযোগীরাজশাহী · বিমানবন্দর আছে কিন্তু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেই, তাই প্রায় সব যাত্রীকে ঢাকা হয়ে যেতে হয় আর কমিশন কমে যায়।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর সংশোধন অধ্যাদেশে অফলাইন এজেন্সির ১০ লাখ আর অনলাইন এজেন্সির ১ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি বাধ্যতামূলক হয়েছে, সঙ্গে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন। ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আপত্তি জানিয়েছে যে ছোট এজেন্সিগুলোর পক্ষে এই টাকা জোগাড় করা কঠিন। দেশে নিবন্ধিত এজেন্সি প্রায় ৫,৮০০, যার বেশির ভাগই আইএটিএ সদস্য নয়। নিবন্ধন সাময়িকভাবে বাতিলের আগে শুনানির নিশ্চয়তা নেই — এটাও আপত্তির জায়গা।
- বেশিচলতি মূলধন: নবায়ন ধরে রাখতেই বছরে ৫০ লাখ টাকার লেনদেন দেখাতে হয় — মাসে প্রায় ৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। টিকিটের দাম এয়ারলাইন বা বড় এজেন্সিকে আগে দিতে হয়, অথচ কমিশন মাত্র ৩–৭ শতাংশ। অর্থাৎ মাসে লাখ লাখ টাকা ঘোরাতে হয় হাজার টাকার লাভের জন্য। এক জায়গায় টাকা আটকালে পুরো মাসের ব্যবসা বসে যায়।
- বেশিনির্ভরশীলতা: আইএটিএ সদস্য না হলে টিকিট আসে অন্য এজেন্সির মাধ্যমে, আর কমিশনের ভাগও সেখানে যায়। দেশে আইএটিএ স্বীকৃত এজেন্সি হাজারখানেক, বাকি কয়েক হাজার এই সাব-এজেন্ট ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে। যার মাধ্যমে টিকিট নেন সে দর বাড়ালে বা সরবরাহ বন্ধ করলে আপনার কিছু করার থাকে না।
- মাঝারিচাহিদা: আয়ের বড় অংশ বছরের কয়েকটি মাসে আসে। ২০২৬ সালের হজ হয়েছে ২৬ মে, আর হজযাত্রীর কোটা ছিল ১,২৭,১৯৮ জন; রোজার মাসে ওমরাহর ভিড় বাড়ে। এই মৌসুম শেষ হলে অফিসের ভাড়া ও কর্মীর বেতন চলতেই থাকে কিন্তু বিক্রি নেমে যায়। হজের তারিখ প্রতি বছর প্রায় এগারো দিন এগিয়ে আসে, তাই মৌসুমের মাসও বদলায়।
- মাঝারিবাকিতে বিক্রি: কর্পোরেট অফিস ও বড় ক্রেতারা টিকিট নিয়ে পরে বিল দেয়, অথচ এয়ারলাইনের টাকা এজেন্সিকে সময়মতো দিতে হয়। একটা বড় ক্রেতা দুই মাস বিল আটকে রাখলে সেই টাকা এজেন্সির নিজের পকেট থেকে যায়, আর তখন অন্য বুকিং নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না।
সূত্র
ট্রাভেল এজেন্সি সম্পর্কিত আবেদনের নিয়মাবলী — ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TAMS)
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, মাসিক চলতি মূলধন, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · বাংলাদেশ
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ, ছোট এজেন্টের ২২ লাখ টাকার টিকিট আটকে গেল
২০২৫ সালের আগস্টে একটি অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে একটি ছোট এজেন্সির ২২ লাখ টাকার অগ্রিম কেনা টিকিট আটকে যায়; মতিঝিল থানার মামলায় ১৭টি এজেন্টের ৪ কোটি ৭৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।
- কারণ
- সরবরাহকারীর সমস্যা, চলতি মূলধন
একই রকম আরও ব্যবসা
ডিজিটাল ও বি২বি সেবামানি এক্সচেঞ্জ
বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নিয়ে বিদেশি নোট কেনা-বেচা। ২১-০৯-২০২৬ তারিখে ডলার কেনা ৳১২৫.৬০, বেচা ৳১২৬.৬০ — অর্থাৎ প্রতি ডলারে হাতে থাকে মাত্র এক টাকা। লাইসেন্স ছাড়া এই কাজ ফৌজদারি অপরাধ, সাজা সাত বছর পর্যন্ত জেল।
- পুঁজি
- ৳১০ লাখ – ৳৪৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ৩৬৫ দিন
ডিজিটাল ও বি২বি সেবাসমিতি ও ক্ষুদ্রঋণ
সমিতি গড়ে সঞ্চয় ও ছোট ঋণ। এমআরএ-র সনদ বাধ্যতামূলক, আর ৪ নভেম্বর ২০২৪ থেকে নতুন সনদের আবেদনই বন্ধ। সার্ভিস চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ক্রমহ্রাসমান ২৪ শতাংশ।
- পুঁজি
- ৳১৫ লাখ – ৳৫২ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১৫ জন
- প্রথম আয়
- ৩৫ – ৭০ দিন
ডিজিটাল ও বি২বি সেবাট্রাক ও পিকআপ ভাড়া
ট্রাক বা পিকআপ দিয়ে পণ্য পরিবহনের ব্যবসা। ডিজেল সরকারি দরে ৳১১৫ লিটার, কিন্তু ট্রাকভাড়ার কোনো সরকারি তালিকা নেই — দর-কষাকষিই ভরসা।
- পুঁজি
- ৳৫ লাখ – ৳৩০ লাখ
- জনবল
- ২ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৪৫ দিন
ডিজিটাল ও বি২বি সেবাট্যুর অপারেটর
ভ্রমণের দল নিয়ে যাওয়ার ব্যবসা। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের নিবন্ধন ছাড়া এটি আইনসম্মত নয়, আর ২০২৪ সালের বিধিমালা অনুযায়ী আবেদনেই লাগে ৳৩,০০,০০০ অফেরতযোগ্য ফি, ৳১০,০০,০০০ ব্যাংক সলভেন্সি ও ৳৫০,০০০ জামানত।
- পুঁজি
- ৳৩.৫ লাখ – ৳১৫ লাখ
- জনবল
- ২ – ১২ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ৩৬৫ দিন
