চিড়ার মিল
গরম বালুতে ধান ভেজে মেশিনে চিড়া বানানো। গ্রামের মিল কেজিপ্রতি ৳৮ মজুরিতে কৃষকের ধান ভাঙে; বাজারে চিড়ার খুচরা দর ৳৭০–৮০ কেজি।
- শেষ পর্যালোচনা: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

চিড়ার মিল
- শুরুর পুঁজি
- ৳৬০,০০০ – ৳৫,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ২ – ৫ জন
- প্রথম বিক্রি
- ৩০ – ৯০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৩ – ৭ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · মাঝারি কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
চিড়ার মিলে ধান থেকে চিড়া হয়। বড় চুলায় কড়াইয়ে বালু গরম করা হয়, সেই গরম বালুতে ধান ঢেলে দেওয়া হয়, ধান একটু ফুটলেই বালুসহ ঝাঁঝরে ঢেলে বালু ঝেড়ে ফেলা হয়। তারপর ধান যায় গোল একটা মেশিনে, আর বেরিয়ে আসে চিড়া; শেষে ছাঁকনি দিয়ে তুষ ঝেড়ে নিতে হয়। দুই ধরনের মিল আছে, আর দুটোর হিসাব আলাদা। গ্রামের মিল কৃষকের ধান ভাঙিয়ে দেয় আর কেজি হিসেবে মজুরি নেয় — দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ডুগডুগিহাটে আসাদুজ্জামানের মিলে দর ছিল কেজি ৳৮, আর পাঁচ কেজি ধান ভাঙাতে কৃষকের লাগত ৳৪০। এই মিল সপ্তাহে দুই দিন, হাটের দিনে চলে, আর আমন ও ইরি ধানের মৌসুমে ভিড় সবচেয়ে বেশি। আরেক ধরনের মিল নিজে ধান কিনে চিড়া বানিয়ে পাইকারি বাজারে পাঠায়। ঢাকার কারওয়ান বাজারে চিড়ার খুচরা দর ছিল কেজি ৳৭০–৭২, আর গাজীপুরের কালিয়াকৈরের 'ধনীর চিড়া' বিক্রি হয় ৳৪০০–৫০০ কেজিতে। চিড়ার বড় সুবিধা হলো এটা নষ্ট হয় না আর চাহিদা তিন দিক থেকে আসে: রোজার ইফতার, বন্যার ত্রাণ আর সারা বছরের সকালের নাশতা। ২০২৪ সালের বন্যায় কারওয়ান বাজারে ট্রাক থেকে নামানোর আগেই চিড়া-মুড়ি বিক্রি হয়ে যাচ্ছিল আর এক সপ্তাহে দাম কেজিতে ৪–৫ টাকা বেড়ে গিয়েছিল। ঝুঁকি হলো জ্বালানি — চুলা আর মেশিন দুটোই বন্ধ থাকলে উৎপাদনও বন্ধ।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৩০,০০০ – ৳৩,৮০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৭০ – ৳৮০ / কেজি | বাজারদর | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৫২ – ৳৬৩ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ১০% – ৩৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ৩০ – ৯০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৩ – ৭ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ০ – ১ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২% – ৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৩০০ – ১,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- বড় চুলা ও কড়াই, বালু, ঝাঁঝর, চিড়া ভাঙার গোল মেশিন, তুষ ঝাড়ার ছাঁকনি আর দাঁড়িপাল্লা।যন্ত্রপাতি
- ট্রেড লাইসেন্স — ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳১০০–৬০,০০০। ৩–৫ কর্মদিবসে দেওয়া হয়।লাইসেন্স
- নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন — খাদ্য নিরাপত্তা (নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬ অনুযায়ী প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক। নতুন নিবন্ধন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর। শুধু কৃষকের ধান ভাঙিয়ে দিলে এই নিবন্ধন লাগে কি না তা নিশ্চিত করা যায়নি — কর্তৃপক্ষের কাছে জেনে নিতে হবে।লাইসেন্স
- বালুর তাপ ধরা আর ধান কতক্ষণে নামাতে হবে তা বোঝা। বেশি ফুটলে চিড়া ভেঙে গুঁড়ো হয়, কম হলে শক্ত থাকে।দক্ষতা
- ধানের জোগান — গ্রামের মিলে কৃষক নিজেই ধান আনেন, কিন্তু নিজে চিড়া বানিয়ে বেচতে চাইলে ধানের আড়তের সঙ্গে সম্পর্ক লাগে।সরবরাহকারী
- হাটের পাশে রাস্তা-লাগোয়া ছাউনি, ধোঁয়া বেরোনোর জায়গাসহ, আর ধানের বস্তা রাখার শুকনো কোণ।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1হাটের পাশে বা হাটে যাওয়ার রাস্তার ধারে জায়গা নিন। কৃষক বস্তা মাথায় নিয়ে বেশি দূর হাঁটেন না।
- 2কোন দিন হাট বসে তা দেখে মিল চালানোর দিন ঠিক করুন। ঘোড়াঘাটের মিল শুক্র ও মঙ্গলবার চলে, কারণ ওই দুই দিনই হাট।
- 3ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন, আর লাইসেন্সে ব্যবসার ধরন হিসেবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের কথা লিখিয়ে নিন।
- 4প্যাকেট করে নিজের নামে বিক্রি করতে চাইলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিন — নতুন নিবন্ধন ৳১,০০০, নবায়ন ৳৫০০, মেয়াদ তিন বছর।
- 5চুলা ও বড় কড়াই বসান আর বালুর জোগান ঠিক করুন। বালু গরম করাই এই কাজের মূল ধাপ।
- 6চিড়া ভাঙার গোল মেশিন আর তুষ ঝাড়ার ছাঁকনি বসান। ঝাঁঝর দিয়ে বালু ঝাড়ার জায়গাও লাগবে।
- 7দুজন কাজের লোক রাখুন — একজন চুলায় বালু ও ধান সামলাবেন, আরেকজন বালু ঝেড়ে মেশিনে ঢালবেন।
- 8ভাঙানির দর কেজি হিসেবে ঠিক করুন আর সাইনবোর্ডে লিখে রাখুন। ঘোড়াঘাটে দর ছিল ৳৮ কেজি।
- 9আমন ও ইরি ধানের মৌসুমের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিন — কৃষকরা তখনই বেশি করে চিড়া ভাঙিয়ে সারা বছরের জন্য রেখে দেন।
- 10রোজার আগে ভাজা চিড়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখুন — লালমনিরহাটের ইফতার বাজারে ভাজা চিড়া ৳১২০ কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
- 11বন্যার মৌসুমে মজুত রাখুন। ২০২৪ সালের বন্যায় কারওয়ান বাজারে ট্রাক থেকে নামানোর আগেই মাল শেষ হয়ে যাচ্ছিল।
- 12জ্বালানির বিকল্প ঠিক করে রাখুন। গ্যাস সংকটে চিড়া-মুড়ির উৎপাদন থেমে যাওয়ার নজির আছে।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইবেশি
- আগস্টবেশি
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেবেশি
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীঢাকা · কারওয়ান বাজারের চিড়া-মুড়ির আড়তগুলোই দেশের বড় বিক্রির জায়গা; বন্যার সময় এখানেই মাল ফুরিয়ে যায়।
- খুব উপযোগীদিনাজপুর · ঘোড়াঘাটের ডুগডুগিহাটে চালু চিড়ার মিল আছে; ধানের এলাকা বলে কাঁচামাল হাতের কাছে।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · কালিয়াকৈরের 'ধনীর চিড়া' ৳৪০০–৫০০ কেজি দরে বিক্রি হয় — বিশেষ চিড়ার আলাদা বাজার আছে এখানে।
- সম্ভববগুড়া · ধান ও যন্ত্রপাতি দুটোরই কেন্দ্র; মিলের মেশিন এখানেই বানানো হয়।
- সম্ভবজয়পুরহাট · ধানের এলাকা, হাটের সংখ্যা বেশি — গ্রামের ভাঙানি মিলের জন্য উপযুক্ত।
- সম্ভবকুড়িগ্রাম · বন্যাপ্রবণ এলাকা — ত্রাণের শুকনো খাবারের চাহিদা এখানে প্রতি বছর আসে।
- সম্ভবকুষ্টিয়া · ধান ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পুরোনো এলাকা।
- সম্ভবলালমনিরহাট · রোজায় শহরের ইফতার বাজারে ভাজা চিড়ার নিয়মিত চাহিদা দেখা গেছে।
- সম্ভবময়মনসিংহ · বড় ধানের এলাকা আর ঢাকার বাজারে পাঠানো সহজ।
- সম্ভবনওগাঁ · ধানের জেলা, চালকল অনেক — ধান সস্তায় পাওয়া যায়।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিনির্ভরশীলতা: জ্বালানি ছাড়া মিল চলে না। ২০২৪ সালে গ্যাস সংকটে চিড়া-মুড়ির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে আর বাজারে চিড়ার দাম বেড়ে গেছে। চুলার জ্বালানি বা বিদ্যুৎ একদিন বন্ধ মানে সেদিনের পুরো আয় বন্ধ, আর হাটের দিন হলে সপ্তাহটাই গেল।
- বেশিচাহিদা: চাহিদা মৌসুমি আর অনিয়মিত। রোজা, বন্যা আর ধান কাটার মৌসুম ছাড়া বাকি সময় মিল প্রায় খালি বসে থাকে। ঘোড়াঘাটের মিল সারা বছর চললেও সপ্তাহে মাত্র দুই দিন, হাটের দিনে। রোজা প্রতি বছর এগারো দিন এগিয়ে আসে, তাই আগের বছরের মাস ধরে হিসাব করা যায় না।
- মাঝারিচলতি মূলধন: নিজে ধান কিনে চিড়া বানাতে গেলে ধান কেনার পুরো টাকা আগে ঢালতে হয় আর বিক্রি হয় আস্তে আস্তে। ধান ভাঙানির মজুরিতে চললে এই ঝুঁকি নেই, কিন্তু আয়ও তখন কেজিপ্রতি কয়েক টাকায় সীমাবদ্ধ।
- মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: প্যাকেটে নাম দিয়ে বিক্রি করলে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন লাগে, আর ভেজাল বা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করে। উল্লেখযোগ্য যে মুড়ি বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক মান তালিকার ভেতরে (বিডিএস ১৭৯৬), কিন্তু চিড়া ওই ৩১৫টি পণ্যের তালিকায় নেই — তাই চিড়ায় সিএম লাইসেন্স লাগে না, মুড়ি বানাতে গেলে লাগবে।
- কমনষ্ট হওয়া: চিড়া শুকনো জিনিস, সহজে নষ্ট হয় না। তবে বস্তা ভিজলে বা স্যাঁতসেঁতে ঘরে রাখলে গন্ধ ধরে আর পোকা লাগে, তখন আর পাইকার নেয় না।
সূত্র
List of 315 Products Brought Under Mandatory Certification Marks Wing
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
চিড়া কেজি ৪০–৪২ টাকা, পাশের মুড়ি ৪৫–৫০ — মুদিদোকানিরা আর চিড়া চান না
ফতুল্লার পাইকারি বাজারে চিড়া যাচ্ছে কেজি ৪০–৪২ টাকায়, আর মুড়ি ৪৫–৫০ টাকায় (খুচরায় ৫০–৭০)। এক মণ চাল থেকে মুড়ি হয় ২৮–৩০ কেজি; চাহিদা সরে যাওয়ায় চিড়ার মিলগুলো বসে যাচ্ছে।
- কারণ
- চাহিদা কম
একই রকম আরও ব্যবসা
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণঘি ও মাখন তৈরি
দুধ ভাঙিয়ে মাখন ও ঘি, আর পাতলা দুধ থেকে ছানা-দই। এক মণ (৪০ কেজি) দুধে সোয়া কেজি ঘি; খরচ প্রায় ৳২,৯০০, বিক্রি ৳৩,০৪০–৩,২৬০ — লাভ ৫ থেকে ১১ শতাংশ।
- পুঁজি
- ৳৬০ হাজার – ৳৪ লাখ
- জনবল
- ২ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ১৫ – ৬০ দিন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণতুলসীমালা সুগন্ধি চাল
শেরপুরের জিআই স্বীকৃত সুগন্ধি ধান ফলিয়ে ও ছাঁটিয়ে বিক্রি। ধান ৳২,২০০–২,৪০০ মণ, চাল অনলাইনে ৳১৪৫–১৫০ কেজি — জিআই থাকা সত্ত্বেও সাধারণ সুগন্ধি চালের চেয়ে দাম বেশি নয়।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৩ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ১২০ – ১৮০ দিন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসৌর শুঁটকি — মাচা ও সোলার ড্রায়ারে শুকানো
মাটিতে নয়, মাচায় বা সোলার ড্রায়ারে মাছ শুকিয়ে কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি বানানো। ৩ জুন ২০২৬-এ চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জে ভালো ছুরি শুঁটকি ৳২,০০০–২,৫০০ আর লইট্টা ৳৬০০–১,৫০০ কেজি।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳৬ লাখ
- জনবল
- ২ – ২০ জন
- প্রথম আয়
- ২০ – ৬০ দিন
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণপনির ও ছানা তৈরি
দুধ কেটে ছানা, চেপে পনির। ৮–১০ কেজি দুধে ১ কেজি পনির, বিক্রি ৳৯০০–১,২০০ কেজি — পুরো ব্যবসাটাই দুধ আর পনিরের দামের ব্যবধান।
- পুঁজি
- ৳৫০ হাজার – ৳২০ লাখ
- জনবল
- ১ – ১০ জন
- প্রথম আয়
- ৭ – ১৩৫ দিন
